কপোতাক্ষ পাড়ের জলাবদ্ধ মানুষের মাঝে কাজ ও খাদ্যাভাব
নজরুল ইসলাম,সাতক্ষীরা : নাব্যতা হরানো কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে তালা উপজেলার ১২ টি ইউনিয়নের অর্ধাশতাধিক বিলে প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি আবাদে অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে। এলাকার কৃষকরা ও ঘের মালিকরা জোট বেঁধে শত শত সেচ পাম্প লাগিয়ে বিলের পানি নিষ্কাষনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে শেষ মোওসুমে অতিরিক্ত বর্ষা হওয়ার কারণে অন্যবারের তুলনায় এবার বিলে পানির পরিমান ও অনেক বেশী হওয়ায় পানি নিষ্কাষনে বিলম্ব হচ্ছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে সময়মত বোরো আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জানা যায়, কপোতক্ষ ভরাট হয়ে তলদেশের উচ্চতা সমতল ভূমির চেয়ে বেশী হওয়ায় তীরবর্তী অঞ্চলের বিল গুলোতে বিগত কয়েক বছর যাবৎ স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হওয়ায় বিলাঞ্চলের জমিতে বছরে একটি ফসলও নিতে পরছেনা কৃষকরা। প্রতি বছর এ জলাবদ্ধতার বিস্তৃত ঘটায় আবাদী জমির পরিমানও কম হয়ে আসছে।

কৃষকরা জানায়, চলতি বছর শেষ মওসুমে অতিরিক্ত বৃষ্টি হওয়ায় বিলে অথৈ পানি জমে আছে। এছাড়া পানি নিষ্কাষনের পথ বন্ধ করে অপরিকল্পিত মৎস্যঘের করায় জলাবদ্ধতার পরিমান বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে উপজেলার অধিকাংশ বিলে সময়মত বোরো চাষ সংশয় দেখা দিয়েছে। বিগত প্রায় ১ যুগে মোট আবাদি জমির পরিমান অর্ধেকে নেমে এসেছে। কপোতাক্ষ তীরবর্তী অঞ্চলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ছে। বছরে ৫/৬ মাস অথৈ পানির সাগরে পরিণত হয়ে পড়ে গ্রামের পর গ্রাম।
জলাবদ্ধতার কারণে গাছপালা মরে হরিয়ে যাচ্ছে এলাকার প্রাকৃতিক সবুজ বেষ্টনী । বছর যতই গড়াচ্ছে জলাবদ্ধতার পরিধি ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আগামী দিনগুলির ভাবনায় খেটে খাওয়া কৃষকের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে। তালা উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, উপজেলায় এবার ১৬ হাজার ৫শ হেক্টর জমিতে এ বছর বোরো আবাদের লক্ষমত্রা ধরা হয়েছে। তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সামছুল আলম জানান, জলাবদ্ধ বিলে যেহেতু আমন আবাদ করা সম্ভব হয়নি,সেহেতু বোরা আবাদ শতভাগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিলে সেচ পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাষন চলছে। এলাকার কৃষকরা আরও জানায়,ইতিপূর্বে যে জমিতে বছরে ২/৩টি ফসল উৎপাদিত হতো বর্তমানে সেখানে একটি ফসলও নিতে পারছেনা কৃষকেরা। জলাবদ্ধ তালা উপজেলার সর্বত্র চলছে নীরব দুভিক্ষ । ফলে প্রতিবছর জলাবদ্ধতার কারণে এলাকায় কাজ ও খাদ্যভাব দেখা দেওয়ায় পানিবন্দি মানুষ কাজের সন্ধানে অন্যত্র পাড়ি জমাচ্ছে । কপোতাক্ষ তীরবর্তী জলাবদ্ধ মানুষের দাবী অবিলম্বে কপোতাক্ষ নদ সুষ্ঠ খনন করতে হবে, নইলে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি জমাতে হবে। কপোতাক্ষ অববাহিকা বন্যা নিরসন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম জানান, অবিলম্বে সেনাবাহিনীর তত্ত¡াবধায়নে সুষ্ঠভাবে কপোতাক্ষ নদখনন করতে হবে। কপোতাক্ষ সুষ্ঠ খনন না হলে এলাকা মানুষকে না খেয়ে মরতে হবে। তিনি সরকারের উদ্ধত্বন কর্তৃপক্ষের নিকট দ্রুত কপোতাক্ষ নদ খননের দাবী জানান।




