ads

রবিবার , ১৭ মে ২০২৬ | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

মনগড়া টিআরপি-প্রচারসংখ্যা দিয়ে বিজ্ঞাপন বণ্টন হবে না: তথ্যমন্ত্রী

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
মে ১৭, ২০২৬ ২:৩৮ অপরাহ্ণ

মনগড়া তথ্যের ভিত্তিতে করা টেলিভিশন চ্যানেলের টিআরপি এবং পত্রিকার প্রচারসংখ্যা অনুযায়ী বিজ্ঞাপন বণ্টনব্যবস্থা থেকে সরকার বেরিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ১৭ মে রবিবার সচিবালয়ে টেলিভিশন এডিটর্স কাউন্সিলের (টিইসি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী ওই তথ্য জানান।

Shamol Bangla Ads

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘টিআরপি এবং পত্রিকা ছাপার সংখ্যা—যেহেতু এই দুইটা হচ্ছে আউটলেট। আপনার ভিজ্যুয়াল মিডিয়ায় কত লোক দেখে, কত লোক দেখে না—এটার একটা পরিসংখ্যান ব্যবস্থা আজকালকার ডিজিটাল যুগে কোনো কঠিন কাজ না।’
কোন পত্রিকা কত কপি ছাপা হচ্ছে তা পাওয়ার এখন পর্যন্ত ডিজিটাল পদ্ধতি সরকারের কাছে নেই বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই না থাকার সুযোগে মাত্র ৫০০টা টিআরপি দিয়ে…অথবা সেই মিথ্যাকে গ্রহণ করব, অথবা পত্রিকার ছাপাকে আমি আমার মনগড়া একটা সংখ্যার ভিত্তিতে বিজ্ঞাপনের সুযোগ-সুবিধা বণ্টন করব—এই নীতিমালা থেকে তথ্য মন্ত্রণালয় বেরিয়ে আসবে।’

সঠিক পদ্ধতিতে টিআরপি এবং পত্রিকার প্রচারসংখ্যা নির্ধারণের পর সুযোগ-সুবিধার কোনো পরিবর্তন হবে না বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কিন্তু যে তথ্য-পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নেব, সেখানে কোনো মিথ্যার আশ্রয়ের মধ্যে তথ্য মন্ত্রণালয় আর থাকবে না।’ তিনি বলেন, ‘একবার যখনই একটা রাইট ডিজিটাল টিআরপি সিস্টেম দাঁড় করতে পারব এবং একটা রাইট ডিজিটাল প্রিন্ট কাউন্টিং দাঁড় করতে পারব, তখন তার ভিত্তিতে আমি সব ধরনের সুযোগ এবং অধিকারের বণ্টনটাও করতে পারব।’

Shamol Bangla Ads

তথ্যমন্ত্রী বলেন, যারা শুধু রাষ্ট্রের ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়া বা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ গণমাধ্যমকে ব্যবহার করেছেন। তাদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো বাধা হয়ে দাঁড়াবে। এ কারণে গণমাধ্যম খাতে মালিকানা নির্ধারণ, শ্রম আইন অনুসরণ, কর-ভ্যাট পরিশোধ, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান এসব নিয়ম না মানলে তাদের লাইসেন্স না দেওয়া বা নবায়নের সময় জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।

অতীতে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কমিশনকে ফ্যাসিস্ট সরকার নিজেদের ‘ইন্সট্রুমেন্ট’ হিসেবে ব্যবহার করেছে বলেও এসময় অভিযোগ করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মানবাধিকার কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানও প্রকৃত মানবাধিকার রক্ষার বদলে অনেক সময় সরকারের অপকর্ম আড়াল করার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছিল। মানবাধিকার কমিশনের দায়িত্ব দাঁড়িয়েছিল ফ্যাসিস্ট সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক বিবেকের কাছ থেকে আড়াল করা। কোন মানবাধিকার লঙ্ঘনকে গুরুত্ব দেওয়া হবে আর কোনটি পাশ কাটিয়ে যাওয়া হবে, সেটাও নির্ধারণ করত সরকার।

তিনি বলেন, দেশে এখনো সম্প্রচারমাধ্যমের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। ওয়েজ বোর্ডসহ বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর পেছনে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা কাজ করেছে। গণমাধ্যম খাতের সমস্যাগুলো আরও মনোযোগের সঙ্গে চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেওয়া প্রয়োজন। টেলিভিশন মালিক, কেবল অপারেটর, ব্রডকাস্টিং ও সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার, গ্রাফিক্সসহ গণমাধ্যম–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবীর সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, দক্ষ জনবল তৈরির জন্য রাষ্ট্রের উদ্যোগে প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি থাকা দরকার। কারণ, গণমাধ্যমকর্মীরা যত আধুনিক জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে সমৃদ্ধ হবেন, ততই সামগ্রিক গণমাধ্যমব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শ্রম আইন, করনীতি, রাজস্ব স্বচ্ছতা ও আর্থিক জবাবদিহি না মেনে কেউ গণমাধ্যমের মালিক হতে পারে না। লাইসেন্স দেওয়া ও নবায়নের ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তবে অগণতান্ত্রিক সরকার এ ধরনের ক্ষমতাকে অনেক সময় রাজনৈতিক দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Need Ads