ads

রবিবার , ৯ আগস্ট ২০২৬ | ২৫শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

নালিতাবাড়ীতে দুঃখ-কষ্টে দিন কাটছে কোচ সম্প্রদায়ের ৭০ পরিবারের

অভিজিৎ সাহা, নালিতাবাড়ী
আগস্ট ৯, ২০২৬ ৯:১৬ অপরাহ্ণ

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

‘বাংলাদেশের সীমানাতেই শুধু থাকি। পড়াশোনা, চিকিৎসা থেকে শুরু করে কোনো সুযোগ-সুবিধাই পাই না। পোলাপানগুলার পড়াশোনা বাধ্য হয়েই বন্ধ কইরা দিছি। বুনো হাতির আক্রমণ আর নানা দুঃখ-কষ্টের সঙ্গে যুদ্ধ কইরা প্রতিটা দিন পার করি।’ আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের সীমান্তঘেঁষা খলচান্দা গ্রামের কোচ সম্প্রদায়ের সদস্য সতীশ কোচ (৬৮)। নিজের ২৫ শতাংশ জমি থাকলেও বুনো হাতির তাণ্ডবে বছরের পর বছর ফসল ঘরে তুলতে পারেননি তিনি। তাই এবার আর জমিতে আবাদই করেননি।
নিজেদের সম্প্রদায়ের ভাষায় আক্ষেপ করে সতীশ কোচ বলেন, ‘নিনে কায়ুআন তাল্লাচা।’ অর্থাৎ, ‘কেউ আমাদের খোঁজখবর নেয় না।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘বাপ-দাদার ভিটা ছাইড়া কই যামু? তবে ভাল সুযোগ পাইলে এইহানে কষ্ট কইরা থাকতাম না।’

Shamol Bangla Ads

সতীশ কোচের এই আক্ষেপ শুধু তাঁর একার নয়। স্বাধীনতার পর থেকে একই ধরনের দুঃখ-কষ্টে দিন কাটছে নালিতাবাড়ীর পোড়াগাঁও ইউনিয়নের ভারতের সীমান্তঘেঁষা খলচান্দা গ্রামের কোচ সম্প্রদায়ের প্রায় ৭০টি পরিবারের। শিক্ষা, চিকিৎসা, যোগাযোগসহ মৌলিক নানা সুযোগ-সুবিধা থেকে এখনো বঞ্চিত তাঁরা। খলচান্দা কোচপাড়ায় যেতে পোড়াগাঁও ইউনিয়নের বারোমারি বাজার থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হয়। যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না থাকায় বর্ষা ও দুর্যোগের সময় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
দেশ এগিয়েছে, মানুষের জীবনযাত্রার মানও বদলেছে। তবে খলচান্দার কোচ সম্প্রদায়ের এসব পরিবারের জীবনে উন্নয়নের সেই ছোঁয়া খুব একটা লাগেনি। দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে শিক্ষা ও চিকিৎসার মতো মৌলিক সেবাও তাঁদের কাছে সহজলভ্য নয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার জন্য কোচপাড়ায় কারিতাসের উদ্যোগে একটি শিশু শ্রেণির পাঠদান চালু আছে। তবে সেখানে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়তে শিশুদের প্রায় চার কিলোমিটার দুর্গম পাহাড়ি পথ পাড়ি দিতে হয়। এতে অনেক শিশুই প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
রাজীব কোচ বলেন, ‘বাড়ির পাশে কারিতাসের শিশু শ্রেণিতে ছেলে-মেয়েগুলা পড়ছে। ছেলেটারে বাজারের স্কুলে ভর্তি করছিলাম। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ছে। সাইকেল ছাড়া স্কুলে যাইতে চায় না। কিন্তু সাইকেল কিন্না দেওয়ার সামর্থ্য নাই। অহন তাই পড়ালেহা বন্ধই হইয়া গেছে। আর মেয়েটারে তো এত দূর স্কুলে পাঠাইবার সাহসই পাই নাই।’ স্থানীয় বাসিন্দা পরিমল চন্দ্র কোচ (৪৪) জানান, আগে কারিতাসের উদ্যোগে পরিচালিত বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হতো। এখন সেখানে শুধু শিশু শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। তাই তিনি নিজ উদ্যোগে তৃতীয় শ্রেণির প্রায় ১৫ জন শিশুকে পড়াচ্ছেন।

Shamol Bangla Ads

খলচান্দা কোচপাড়ায় নেই কোনো কমিউনিটি ক্লিনিক। কেউ অসুস্থ হলে প্রথমে চার কিলোমিটার দূরের বারোমারি বাজারে যেতে হয়। সেখান থেকে ভ্যান বা অটোরিকশায় প্রায় ১৭ কিলোমিটার দূরের নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। কোচপাড়ার বাসিন্দা জীবন কোচ (২৭) বলেন, ‘এখানে কেউ অসুস্থ হলে চার কিলোমিটার দূরের বারোমারি বাজার থেকে ভ্যান বা অটো আনতে হয়। তারপর ওই গাড়িতে করে ১৭ কিলোমিটার দূরের উপজেলা হাসপাতালে নিতে হয়।’

খলচান্দা এলাকার মানুষের জীবনে আরেকটি বড় আতঙ্ক বুনো হাতি। ফসলের মৌসুমে হাতির পাল নেমে এসে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে। অনেক সময় বসতবাড়িতেও হামলার আশঙ্কা থাকে। ফলে নিজেদের জমি থাকলেও অনেকেই নিয়মিত আবাদ করতে পারেন না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হাতির ভয়ে অনেক পরিবার জমিতে আবাদ কমিয়ে দিয়েছেন বা একেবারেই ছেড়ে দিয়েছেন। ফসলের মৌসুমে হাতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকাই যেন তাঁদের নিত্যদিনের বাস্তবতা।
ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (টিডব্লিউএ) সভাপতি কোপেন্দ্র নকরেক বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি অস্তিত্বের সংকটেও রয়েছেন। তিনি সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানান।

আদিবাসী সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেরপুর জেলার সীমান্তঘেঁষা নালিতাবাড়ী, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী—এই তিন উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার একর বনভূমিজুড়ে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের বসবাস। জেলায় সমতল ও বনাঞ্চল মিলিয়ে সাতটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মোট জনসংখ্যা ২৫ হাজার ৬১৫ জন।
গারো পাহাড় বন্যপ্রাণী ও নদী রক্ষা পরিষদের উপদেষ্টা বিপ্লব দে কেটু বলেন, দুর্গম যোগাযোগ, শিক্ষা-চিকিৎসার সংকট ও বুনো হাতির আতঙ্কে খলচান্দার কোচদের জীবন প্রতিনিয়ত সংগ্রামের। তাঁরা বাপ-দাদার ভিটায় থেকেই শিক্ষা, চিকিৎসা, নিরাপদ যোগাযোগ ও জীবিকার নিশ্চয়তা চান।

এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফাহিম চৌধুরী বলেন, খলচান্দার যোগাযোগব্যবস্থার অবস্থা বেহাল। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। বর্ষাটা একটু কমে গেলেই এ বিষয়ে ইউএনও মহোদয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ ব্যাপারে আমার সার্বিক সহযোগিতা থাকবে।

Need Ads
error: কপি হবে না!