ads

বুধবার , ২৯ জুলাই ২০২৬ | ১৪ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন গ্রেফতার

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জুলাই ২৯, ২০২৬ ৩:২৭ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২৮ জুলাই মঙ্গলবার দিনগত রাতে যশোরের ধুমধুমপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চেক পোস্ট বসিয়ে ধুমধুমপুর এলাকা থেকে ডেভিডকে গ্রেফতার করা হয়। যশোর ও চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ যৌথভাবে এ অপারেশনে অংশ নিয়ে ছিল। তাকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

Shamol Bangla Ads

চট্টগ্রামের নতুন আতঙ্ক কে এই ডেভিড ইমন
গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রামে একটি ইন্টারনেট সেবাপ্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে দুই দিনের সময় বেঁধে দিয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে চাঁদা না পাওয়ায় তার নির্দেশে চন্দনপুরার ওই ইন্টারনেট অফিসে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। এরপর নতুন করে আবার আলোচনায় আসে এই ডেভিড ইমনের নাম। ওই হামলায় তার নির্দেশে ২০ থেকে ২৫ বছরের অন্তত ৩০ জন সন্ত্রাসী অংশ নেয়। ডেভিড ইমন দুই বছরেই ৭ খুনের আসামি হয়েছেন।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী ভেডিড ইমন নামে কাউকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষ চিনত না। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদ গ্রুপের সদস্য হিসেবে অপরাধ জগতে পরিচিতি পায় ইমন। তার বাড়ি ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরে। তার পিতার নাম মো. মুসা। সাধারণ কৃষকের ঘরে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। লেখাপড়াও তেমন করেনি। অল্প বয়সে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। সাজ্জাদের গ্রুপে এসে একাধিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে সহজেই তার নজরে আসে ইমন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামে সাজ্জাদ আলী খানের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে কাজ করছে। সাজ্জাদ আলীর গ্রুপে অর্ধশতাধিক তরুণ রয়েছে।

Shamol Bangla Ads

তথ্যমতে, নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, রাউজান ও হাটহাজারী উপজেলায় এই চক্রের প্রভাব বেশি। এসব এলাকায় তারা নানা অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের হয়ে চট্টগ্রামে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনায় নেতৃত্ব দেওয়া দুই প্রধান ব্যক্তির একজন মোবারক হোসেন ইমন।
এর আগে ‘ছোট সাজ্জাদ’ ওরফে সাজ্জাদ হোসেন এ গ্রুপের নেতৃত্ব দিত। ছোট সাজ্জাদ বর্তমানে কারাগারে থাকায় মোবারক হোসেন ইমন ও মোহাম্মদ রায়হান আলম নগরী ও জেলাকে ভাগ করে পৃথকভাবে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন ও একই বছরের ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর খুনে সরাসরি জড়িত ছিল ইমন। এছাড়া ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট আনিস ও মোহাম্মদ হাসান নামে দুইজনকে ব্রাশফায়ারে হত্যার ঘটনা ঘটে। এসব হত্যাকাণ্ডে ইমনের নাম জড়িয়েছে।

সর্বশেষ সোমবার চন্দনপুরায় ডিডিএন নামে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলায় অন্তত ৩০ জন সন্ত্রাসী অংশ নেয়। এদের সবার বয়স- ২০ থেকে ২৫-৩০ বছরের মধ্যে। তাদের সবাই সাজ্জাদ আলী খান গ্রুপের সদস্য। তাদের বেশিরভাগই মুখোশ পড়ে থাকায় পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। পুলিশও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে ইমনসহ তার গ্রুপের সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান শুরু করে।
১৩ জুলাই দুপুরে চন্দনপুরা এলাকায় ডিজিটাল ডট নেটে (ডিডিএন) হামলা ও ৩৫ লাখ টাকার লুটের ঘটনার পর একই দিন সন্ধ্যায় জিইসির মোড়ে অবস্থিত আরেকটি ইন্টারনেট সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে চাঁদা দাবি করে ডেভিড ইমন।

ইন্টারনেট সেবাপ্রদানকারী প্রতিষ্ঠান থেকে গত এক মাসে দেড় কোটি চাঁদা আদায় করেছে ডেভিড ইমন বাহিনী। বিশেষ করে অক্সিজেন, মুরাদপুর, জিইসির মোড়, বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা ও পাঁচলাইশ এলাকা থেকে প্রতিটি কোম্পানির মালিককে ফোন করে হুমকি দিয়ে এই চাঁদা আদায় করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকরা জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে কোন ধরনের প্রতিবাদ ছাড়াই সন্ত্রাসীদের হাতে চাঁদা দিয়ে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী (আইএসপি) প্রতিষ্ঠানের ওপর হামলায় সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বিভাগের নেতারা। ১৪ জুলাই বিকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইএসপিএবি চট্টগ্রাম বিভাগের আহ্বায়ক রাজিব শাহরিয়ার। তিনি বলেন, ডিডিএন কার্যালয়ে চাঁদার দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ ধরনের ঘটনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের সমস্যা নয়; বরং সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আইএসপি মালিক ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি, টেলিফোনে হুমকি, চাপ সৃষ্টি এবং দাবি পূরণ না হলে হামলা বা হয়রানির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এ পরিস্থিতি পরো আইএসপি শিল্পের জন্য গভীর নিরাপত্তা সংকটের ইঙ্গিত বহন করছে। তারা ডেভিড ইমনসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।

Need Ads
error: কপি হবে না!