শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে নতুন করে প্লাবিত চারটি ইউনিয়নের বন্যা পানি আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে। বাড়ির চার পাশে বন্যার পানি সরে না যাওয়ায় চারটি ইউনিয়নের ৩১ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছে। বাড়ি ঘর থেকে বের হতে মানুষ কলাগাছের ভেলা ও নৌকা ব্যবহার করতে হচ্ছে । তবে বুধবার সকাল থেকে সারা দিন থেমে থেমে বৃষ্টি ছিল।

ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে আসা উপজেলার পাহাড়ি ভোগাই ও চেল্লাখালী নদীর পানিতে কমতে শুরু করেছে পানি। শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ৩টায় ভোগাই নদীর পানি বিপৎসীমার ১৯৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে ও চেল্লাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ১০১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
গত শনিবার রাত থেকে উপজেলায় উজানের ঢল ও অতিবৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল কলসপাড়, যোগানিয়া, মরিচপুরান ও রাজনগর ইউনিয়নের ৭১টি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে প্রায় ৩১ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। তিনটি ইউনিয়নের ডুবে থাকা অধিকাংশ রাস্তা থেকে পানি নেমে গেছে। তবে তিনটি ইউনিয়নের ৬ হাজার ৭৪৫ হেক্টর আমনে আবাদসহ উপজেলায় ১৩ হাজার ৩০০ হেক্টর সম্পূন্ন ও ৩৫০ হেক্টর আংশিক পানিতে ডুবে রয়েছে। তিনটি ইউনিয়ন সহ উপজেলায় বন্যায় এক হাজার ১৮৭ টি বাড়ি-ঘর সম্পন্ন ও ৪ হাজার ৬৮০টি বাড়ি-ঘর আংশিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

ফকিরপাড়া গ্রামের গৃহিনী আনজুয়ারা বেগম (৪৮) বলেন, হাল্কা বৃষ্টি থাকলেও বন্যার পানি আস্তে আস্তে কমতে শুরু করেছে। কিন্ত বাড়ির চার পাশে পানি এখনও সড়ে নাই। গ্রামের লোকজনদের বাড়ির বাহিরে যাতাযাতে কলার ভেলা অথবা কাপড় ভিজিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। নৌকায় করে অনেকেই ত্রাণ দিয়ে গেছে। এতে আমগর মত পানিবন্দী মানুষের খুবই উপকার হয়েছে ।
কান্দাপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ সাদেক আলী (৮০) বলেন, আমগর এমনেই নিচা এলাকা। বৃষ্টি অইলে পানি জমে। তার পর যে বন্যা অইছে। আগে কেও এত পানি দেকছে না। ঘর থাইকা পানি নামেলেও উঠানেও অহন পানি আছে। পানির লাইগা ঘরও আর কত বইয়া সময় পার করুন যায়। ভিইজা বাড়ি থাইকা বাইর অইছি। এই বারে পানি গ্রামবাসীর বিরাট ক্ষয়ক্ষতি অইছে।
এদিকে গত শনিবার সকাল থেকে প্রতিদিন গভির রাত পর্যন্ত সরকারী-বেসরকারী,সেনাবাহিনী,বিভিন্ন রাজনৈতিক দল,বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও উপজেলার বাহির হতে অনেক সংগঠন ও ব্যক্তিগত ভাবে গাড়িতে করে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরন করছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে। তেমন বৃষ্টিপাত না থাকায় পানি কমতে শুরু করেছে। এ পযন্ত উপজেলায় ২৯ হাজার ৭৬০ বন্যার্ত পরিবারের মাঝে মুড়ি, চিড়া, বিস্কুট, খেজুর, স্যালাইন, মোমবাতি ও রান্না করা খিচুড়ি দেওয়া হয়েছে। বন্যার্তদের সহযোগিতায় সরকারি-বেসরকারি ভাবে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত আছে।




