বোরো মৌসুমে আবাদ শঙ্কায় ১০ হাজার একর জমি
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার খরস্রোতা ভোগাই নদীর ওপর স্থাপিত রাবারড্যামের কাছ থেকে বালু তোলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাবার ড্যাম ও এর ওপর নির্মিত সেতু। এতে আসন্ন বোরো মৌসুমে ১০ হাজার একর জমির আবাদ হুমকির মুখে পড়েছে। ওই অবস্থায় কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত রাবার ড্যাম সংস্কারের জন্য দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

উপজেলা সমবায় কার্যালয় ও স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কৃষির উন্নয়নে সাবেক কৃষিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী ১৯৯৬ সালে নালিতাবাড়ী উপজেলার যোগানিয়া ও মরিচপুরান ইউনিয়নের মাঝে জামিরাকান্দা এলাকায় ভোগাই নদীর ওপর ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০ মিটার দৈর্ঘের রাবার ড্যাম ও রাবারড্যাম কাম সেতু নির্মাণ করেন। নির্মাণের পর থেকেই নির্বাচিত কমিটির মাধ্যমে এর কার্যক্রম পরিচালিত হলেও ২০১৪ সালের পর থেকে কোন কমিটি নেই। বর্তমানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক ও সমবায় কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে ৩ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
শুষ্ক মৌসুমে এ রাবার বাঁধের মাধ্যমে ৮ কিলোমিটার নদীর উজানে পানি মজুত করা হয়। এই পানি ১১টি খালের মাধ্যমে পৌরসভাসহ উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার একর আবাদি জমি সেচ সুবিধা পায়।
তবে কয়েক বছর যাবত রাবার ড্যামের ভাটিতে ইটের গাঁথুনির কাছ থেকে বালু উত্তোলন করায় গাঁথুনি ভেঙে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। এতে রাবার ড্যাম ও সেতুটি ঝুঁকিতে রয়েছে। সামনে বোরো মৌসুমের আগেই নদীর উজান থেকে নেমে আসা পানি ধরে রাখার জন্য রাবারটি হাওয়া দিয়ে ফুলানো হবে। এতে পানির চাপে ভাটিতে ইট দিয়ে গাঁথুনিগুলো আরো ভেঙে বাঁধ ও সেতু ধ্বসে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। এমতাবস্থায় ফসল আবাদে রাবারড্যাম ও সেতু রক্ষায় বালু উত্তোলন বন্ধ করে দ্রুত রাবার ড্যাম মেরামতের দাবি জানান স্থানীয়রা।
কোন্নগর গ্রামের কৃষক নুরুজ্জামান বলেন, রাবার ড্যাম ও সেতুটি নির্মাণ করার ফলে আমরা অনাবাদি জমিতে ফসল আবাদ করতে পারছি আর সেতু দিয়ে সহজেই নালিতাবাড়ী শহরে যাতায়াত করতে পারছি। এতে দুই দিক দিয়েই আমরা লাভবান হয়েছি। তবে কয়েক বছর ধরে রাবার ড্যামের উজানে ও ভাটিতে বালু তোলার পর থেকে রাবার ড্যামের ভাটিতে এমন ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমরা দ্রুত এর সংস্কারের দাবি জানাই।

রাবার ড্যামটি দেখাশুনার দায়িত্বে থাকা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আগে তো ৬ জন কর্মচারী ছিলো। এখন আমি একাই কাজ করি। তবে দীর্ঘদিন যাবত বেতন ভাতা না পাওয়ায় কষ্টে দিন কাটাই। রাবার ড্যামের কাছ থেকে বালু তোলায় সেতু ও রাবার ড্যাম ধ্বংসের পথে। বার বার বলার পরেও বালু তোলা বন্ধ করে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর কবীর বলেন, শুষ্ক মৌসুমে রাবার ড্যামের ফলেই নদী থেকে পানি নিয়ে কৃষকরা আবাদ করে থাকে। প্রাথমিকভাবে বুধবার রাবারড্যাম ফুলানো হচ্ছে। তবে রাবার ড্যামের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছি।
উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আমীর হোসেন বলেন, ওই রাবার ড্যামটি একটি নির্বাচিত পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে রক্ষনবেক্ষণসহ যাবতীয় কার্যাবলী চলার নিয়ম। তবে ২০১৪ সালের পর থেকে কোন নির্বাচিত কমিটি নেই। বর্তমানে কৃষি অফিসারকে আহ্বায়ক ও আমাকে সদস্য সচিব করে একটি কমিটির মাধ্যমে কাজ করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই একটি নির্বাচিত পরিচালনা কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলো দ্রুত সংস্কার করা হবে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওয়াজ কুরুনী বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরীর নির্দেশে আমরা রাবার ড্যাম পরিদর্শন করেছি। বালু ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলো মেরামতে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বলা হয়েছে।




