এক বছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ থকার পর শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফের চালু হলো বিনামূল্যে সিজার অপারেশন কার্যক্রম। সরকারি হাসপাতালে পুনরায় বিনামূল্যে সিজার অপারেশন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় সন্তানসম্ভবা দরিদ্র পরিবারের নারী ও তাদের পরিবারদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

১৬ আগস্ট মঙ্গলবার দুপুরে সিজারিয়ানের মাধ্যমে কন্যা সন্তান জন্ম দেয়া উপজেলার নকশী গ্রামের প্রসূতির স্বামী মো. রহুল আমিন জানান, তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করার পর নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসব না হওয়ায় ইউএইচএফপিও ডা. রাজিব সাহার নেতৃত্বে একদল চিকিৎসক তার স্ত্রীর সিজার অপারেশন করেন।
তিনি আরও জানান, প্রথম দিকে কিছুটা নার্ভাস ছিলাম। কিন্তু এখানকার অভিজ্ঞ ডাক্তার ও নার্সদের প্রচেষ্টায় আমার সন্তান সুস্থ ও সুন্দরভাবে জন্ম নিয়েছে। আমার স্ত্রী-সন্তান উভয়ই ভালো আছে। আমি এতেই খুশি। মহান সৃষ্টিকর্তা ও অপারেশনের সঙ্গে জড়িত সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে সিজার করালে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয় হত। যা তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না। সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে এই সুযোগ পেয়ে তিনি খুব খুশি। সবার কাছে সন্তানের জন্য দোয়া চেয়েছেন তিনি।

সিজার অপারেশন কার্যক্রম পরিচালনা করেন ইউএইচএফপিও ডা. রাজিব সাহা, গাইনি কনসালটেন্ট ডা. মায়া হোড়, অ্যানেস্থিসিয়া কনসালটেন্ট ডা. নিলাদ্রী হোড় পার্থ, ডা. সাদ্দাম হোসেন, ডা. ফাতেমাতুজহুরা নিপা।
ইউএইচপিও ডা. রাজিব সাহা বলেন, এখানে এক বছরের অধিক সময় ধরে নানা সমস্যার কারণে এখানকার অপারেশন থিয়েটারে এতদিন তেমন একটা কার্যক্রম ছিল না। অপারেশনের জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতিগুলো মেরামত করে আজকে প্রথমবারের মত সিজার অপারেশ শুরু করলাম। সন্তানসম্ভবা কোন নারী হাসপাতালে ভর্তি হলে প্রথমেই নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান ভূমিষ্ঠ করাতে চেষ্টা করা হবে। এক্ষেত্রে নরমাল ডেলিভারিতে ব্যর্থ হলেই কেবল সিজার করা হবে। বিনামূল্যে সিজার অপারেশন কার্যক্রম এ এলাকার জন্য অনেক ভালো একটা সুযোগ। ঝিনাইগাতী উপজেলার সন্তানসম্ভবা নারীদের বেসরকারী হাসপাতাল বা ক্লিনিকে ভর্তি না করে, এ হাসপাতালে ভর্তি করানোর জন্য পরামর্শ দেন।
শেরপুরের সিভিল সার্জন ডা. অনুপম ভট্টাচার্য্য বলেন, অনেকদিন ধরেই শেরপুর সদর হাসপাতালে এ সেবাটি চালু রয়েছে। অনেক দিন বন্ধ থাকার পর আজ ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ সেবাটি চালু করা হল। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও এ সেবাটি চালু করা হবে।




