শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে সেচের লাইনের কাজ দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে মোশারফ হোসেন (৪৫) নামের এক ইলেকট্রিশিয়ানকে মারধর ও জিম্মি করে টাকা, মুঠোফোন ও আংটি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে মোটরসাইকেলে করে নেওয়ার পথে ছুরি দিয়ে তাঁর বাম উরুতে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় মামলা হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে দাবি করেছেন মোশারফ।

১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার দুপুরে নালিতাবাড়ী শহরে পৌর বিদ্যুৎ শ্রমিক কল্যাণ সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি। মোশারফ নকলা উপজেলার উরফা ইউনিয়নের বেনীর গোপ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি পল্লী বিদ্যুতের অনুমোদিত ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেন।
লিখিত বক্তব্যে মোশারফ বলেন, ৯ সেপ্টেম্বর অপরিচিত একটি নম্বর থেকে ফোন করে তাঁকে সেচের লাইনের কাজ দেওয়ার কথা বলা হয়। ১২ সেপ্টেম্বর সকালে সহযোগী রবিউল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে তিনি নালিতাবাড়ীর মরিচপুরান বোর্ড ঘরের উত্তর পাশে ছালুয়াতলা রোড এলাকায় যান। সেখান থেকে রিফাত নামের এক ব্যক্তি তাঁকে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। পরে কয়েকজন মিলে তাঁকে জিম্মি করে মারধর করেন।

মোশারফের অভিযোগ, তাঁর কাছ থেকে নগদ ১৯ হাজার ১৫০ টাকা, মুঠোফোন ও তিনটি আংটি নিয়ে নেওয়া হয়। পরে বিকাশের পিন নিয়ে অ্যাকাউন্টে থাকা ৬ হাজার ২০০ টাকা তুলে নেওয়া হয়। এ ছাড়া আরও ২০ হাজার টাকা এনে দিতে তাঁকে বাধ্য করা হয়। ওই টাকা আমিনুল নামের এক ব্যক্তির কাছে পাঠানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পরে তাঁকে মোটরসাইকেলে করে কাউয়াকুড়ির একটি বাড়িতে নেওয়ার পথে ছুরি দিয়ে বাম উরুতে আঘাত করা হয়। সেখানে তাঁকে একা ফেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
মোশারফের দাবি, থানায় মামলা করার পর কয়েকজন জামিনে বের হয়ে এসেছেন। মামলায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি উল্লেখ না করে চুরির ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন মোশারফ।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুজ্জামান বলেন, ভুক্তভোগী যে ঘটনা উল্লেখ করে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন, আমরা সেই বিষয়টিতেই মামলায় নিয়েছি। আমরা তো নিজেরা অভিযোগ লিখি না। এ ঘটনায় আসামিও গ্রেফতার হয়েছিল বলে জানান তিনি।




