ads

শনিবার , ১৬ জুলাই ২০২২ | ১১ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ঝিনাইগাতীতে অস্তিত্ব সংকটে বেদে সম্প্রদায়

খোরশেদ আলম, ঝিনাইগাতী - ফটো কার্ড
জুলাই ১৬, ২০২২ ১:৪৮ অপরাহ্ণ

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে উপজেলার ডেফলাই গ্রামের বেদে সম্প্রদায়ের লোকেরা। জীবন-জীবিকার সংকটে পড়ে পুরনো পেশায় টিকতে পারছেন না তারা। আবার অর্থাভাবে অন্য পেশাও বেছে নিতে পারছেন না।

Shamol Bangla Ads

জানা যায়, ২০১০ সালে ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ ডেফলাই গ্রামে প্রথমে শতাধিক পরিবার জমি কিনে বস্তি স্থাপন করেন। পর্যায়ক্রমে আরো অনেকেই আসেন এ গ্রামে। বর্তমানে প্রায় ৪০০ পরিবার রয়েছে এ গ্রামে। ওই ৪০০পরিবারের ছোট-বড়, নারী-পুরুষ ও শিশুসহ প্রায় ৬০০ লোকের বসবাস। সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে এ সম্প্রদায়ের লোকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, অভাব-অনটন, দুঃখ আর দুর্দশাই এ পল্লীর বাসিন্দাদের নিত্য সঙ্গী। এসব বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন ঢাকা সাভারসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে এখানে বস্তি স্থাপন করেছেন।

বেদে পল্লীর জামাল মিয়া জানান, বাড়ি করার জন্য ৫/১০ শতাংশ করে জমি কিনেছেন কেউ কেউ। অর্ধশতাধিক পরিবার ঘর- বাড়ি ও নির্মাণ করেছেন। আবার অনেকে আর্থিক সংকটের কারনে ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে পারেনি। তারা ঝুপড়ি বেঁধে রাত্রীযাপন করেন। আবার অনেই রয়েছেন ভুমিহীন। তারা অন্যের জমিতে ঝুপড়ি বেঁধে রাত যাপন করেন। বেদে মাইনুল হক বলেন, তাদের আদি পেশা ঝাড়ফুঁক, শিংগা লাগানো, সাপ খেলা দেখানো ও সাপ ধরা।এ পেশায় তারা আর টিকে থাকতে পারছেন না। তাদের আদি পেশা না পারছেন ধরে রাখতে। না পারছেন ছেড়ে দিতে। তিনি বলেন, সরকার আমাদের জন্য আর্থিক সহায়তা দিলে আমরা উপকৃত হবো অন্যপেশা বেছে নিতে সক্ষম হব।

Shamol Bangla Ads

আদিকালে নৌকা যোগে একঘাট থেকে আরেক ঘাটে বিচিত্র জীবন যাপন করতেন তারা। নৌকার বহর নিয়ে ঘুরে ঘুরে সারাদেশে নদী পথে থেকে তাদের ওইসব পেশায় জীবন-জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঝাড়ফুঁকে বিশ্বাসী নয় মানুষ। এতে ঝাড়ফুঁক আর সাপের খেলায় জীবন জীবিকা নির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছে না তাদের। দেশের নদনদীগুলো ও পড়েছে অস্তিত্ব সংকটে। ফলে তারা আদি পেশায় টিকে থাকতে না পেরে দাঙ্গায় উঠতে শুরু করেছেন। এ গ্রামের বেদে মাসুদ রানা বলেন, বর্তমানে একটি নৌকা তৈরি করতে যে টাকার প্রয়োজন হয়, তা জোগার করা সম্ভব হয় না তাদের। বেদে রুবেল মিয়া জানান, ডেফলাই বেদে পল্লীর কেউ কেউ অন্যপেশা বেছে নিতে শুরু করেছেন। আবার কেউ কেউ আর্থিক সংকটের কারনে নতুন কোন পেশা বেছে নিতে পারছেন না। বর্তমান পরিস্থিতিতে বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন চরমভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন। তিনি বলেন, বেদে সম্প্রদায়ের লোকেরা না পারছেন আদি পেশা ধরে রাখতে। না পারছেন ছেড়ে দিতে।

বেদে পল্লীর বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন বলেন, এ পল্লীতে রয়েছে নানা সমস্যা। এ পল্লীতে প্রবেশ করার মতো কোন রাস্তা নেই। একটি রাস্তার অভাবে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামবাসীদের। মসজিদটির অবস্থা জরাজীর্ণ। বেদে সম্প্রদায়ের লোকদের দাবি পল্লী থেকে দক্ষিণে পাঁকা রাস্তায় আসা-যাওয়া করার জন্য একটি রাস্তা জরুরী প্রয়োজন। বেদে পল্লীর আইয়ুব আলী বলেন, অর্থিক সংকটের কারনে বেদে পল্লীর শিশুকিশোররা ইচ্ছা থাকা সত্বেও শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বেদে পল্লীর অনেকেই পায়নি বয়স্ক,বিধবা ও প্রতিবন্ধি ভাতা।

নলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুকুনুজ্জামান বলেন, আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর সরকারি সাহায্য সহযোগিতা যতটুকু পেয়েছি তা থেকে বেদে পল্লীতে দিয়েছি। পরবর্তীতে বেদে পল্লীর সমস্যাগুলো পর্যায়ক্রমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক আল মাসুদ বলেন, ১০ শতাংশ জমি আছে ক তফসিলের আওতায়। উপজেলা প্রশাসন বরাবর আবেদন করা হলে এসব গৃহহীনদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

Need Ads