ads

সোমবার , ২৭ জুন ২০২২ | ২৮ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

‘রান্নাঘর নদীতে, ঘরডা নদীতে গেলে পোলাপান লয়ে কই যামু?’

রেজাউল করিম বকুল - ফটো কার্ড
জুন ২৭, ২০২২ ৩:৩৮ অপরাহ্ণ

‘কত কষ্ট কইরা এইহানে এডা বাড়ি করছিলাম। জায়গা ছিল। উঠান ছিল। রান্নাঘর ছিল। পোলাপান এইহানে খেলত। সবজির ক্ষেত ছিল। এগুলা নদীতে ভাইঙ্গা গেছে। থাহনের ঘরডাও কহন জানি নদীতে ভাইঙ্গা যায়। ডর লাগে। এর লাইগা আতে ছুড ছুড পোলাপান লয়ে মানষের মেলের বারিন্দায় থাহি। ঘরডা নদীতে গেলে আমরা পোলাপান লয়ে কই যামু? কথাগুলো বলছেন, শেরপুরের নালিতাবাড়ী পৌর শহরের আড়াইআনি মহল্লার ভোগাই নদীর ভাঙনকবলিত এলাকার গৃহবধূ কোহিনুর বেগম।

Shamol Bangla Ads

তিনি জানান, তার স্বামী মিজানুর রহমান অল্প পুঁজি দিয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে সংসার চালান। মেয়েকে স্কুলে পড়তে দিয়েছেন। স্বপ্ন বুনছেন অনেক। তিন বছর আগে ৫০ শতক জমি কিনে বাড়ি করেন। অবশিষ্ট জমিতে সবজির চাষ করতেন। সুখেই দিন কাটছিল এই পরিবারের। এবার পাহাড়ি ঢলে কানায় কানায় ভরে যায় ভোগাই নদীর দুই পার। প্রবল স্রোতে দেখা দেয় ভাঙন।

সম্প্রতি বাড়িসংলগ্ন সবজির ক্ষেতসহ পাশের দুটি রাইস মিলের মাঠ, কয়েকটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। দুই সপ্তাহ যাবৎ বেড়েছে নদীভাঙনের মাত্রা। এতে চরম ঝুঁকিতে পড়েছে অর্ধশত বসতবাড়ি, দুটি রাইস মিল, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ এলাকা। আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে নদীপারের মানুষ।

Shamol Bangla Ads

জেলেখা বেওয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আইডের সময় স্বামী এইহানে এডা ঘর তুলে। এই ঘরেই দুই ছেলে দুই মাইয়ার মা অইলাম। সব নদীতে ভাইঙ্গা গেছে। অহন আমগোরে কোনো জায়গা-জমি নাই। থাহি মানষের বাড়ি। সরহার যেন আমগোরে এডা থাহনের জায়গা দেয়। ‘

তারাগঞ্জ ফাজিল মাদরাসার প্রভাষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এই এলাকাটি নালিতাবাড়ী পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ স্থান। নদীভাঙনের কারণে এলাকাটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দ্রুত নদীপারের বাঁধ নির্মাণের দাবি জানান তিনি। ওই মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল জব্বার বলেন, নদীর অপর পারে ভাঙনরোধে বাঁধ দেওয়া হয়। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হচ্ছে। ক্রমেই এপারে নদীর পার ভেঙে পড়ছে। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরে এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অনেক স্থাপনা নদীগর্ভে ভেঙে পড়বে। এ জন্য প্রয়োজন নদীর পারে বাঁধ নির্মাণ।

এ ব্যাপারে শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাজাহান মিয়া বলেন, আমরা দেখে এসেছি। সাময়িকভাবে নদীভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে কারিগরি কমিটি গঠন হয়েছে। বরাদ্দ হলেই বাস্তবায়ন করা হবে।

Need Ads