‘রঙিন হোক ঈদ আনন্দ’ এ সেøাগানে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে শিশুদের মাঝে ঈদের উপহার হিসেবে নতুন পোশাক বিতরণ করেছে ‘ভয়েস অব ঝিনাইগাতী’ নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ২৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের হলরুমে ওইসব নতুন পোশাক তুলে দেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক আল মাসুদ। ওইসময় তিনি বলেন, অবহেলিত মানুষের পাশে রাষ্ট্রের পাশাপাশি দেশ ও সমাজের সব স্তরের ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে তাদের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব। কিছু কাজ আছে যা নিজের বিবেকের তাড়নায় করতে হয়। সে কাজগুলো জীবনে যে প্রশান্তি এনে দেয়, তা আরও নতুন করে ভালো কিছু কাজের উৎসাহ জোগায়। ‘ভয়েস অব ঝিনাইগাতী’র এ ধরনের কাজ দৃষ্টান্তমূলক।

ঝিনাইগাতী সদর ইউপি সদস্য ও আয়োজক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা মো. জাহিদুল হক মনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন শেরপুর চন্দ্রকোনা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও শেরপুর প্রেসক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন সোহেল এবং ঝিনাইগাতী থানার এসআই ফেরদৌস আলম ফাহাদ।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক গোলাম রব্বানী টিটু, আয়োজক সংগঠনের জেনারেল কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসাইন, কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি আবুল কাশেম, সহ-সভাপতি মাহমুদ হাসান রনি, রাসেল রানা, সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল রানা, যুগ্ন সাধারণ মো. সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. এরশাদ আলী প্রমুখ।

প্রবাসী বাংলাদেশী ড. জাফর ইকবালের আর্থিক সহায়তায় ১২৯ জন শিশুর মাঝে এসব নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়। নতুন পোশাকের মধ্যে ছিল- ছেলে শিশুদের জন্য পাঞ্জাবি-পাজামা, শার্ট, প্যান্ট এবং মেয়ে শিশুদের জন্য জামা। এবার ঈদে নতুন পোশাক পেয়ে তারা খুবই আনন্দিত।
নতুন জামা নিতে আসা শিশু কারিমা জানায়, আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ঈদ, কিন্তু মা তার জন্য নতুন কোনো জামা কিনতে পারেনি, তাই এই জামা পেয়ে তার খুবই খুশি লাগছে। এখন ঈদ তার ভালই কাটবে।
আয়োজক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও ইউপি সদস্য মো. জাহিদুল হক মনির বলেন, ‘২০২১ সালে ফেসবুকে পোষ্ট দিয়ে অর্থ সংগ্রহ করে খুব সামান্য আয়োজনে মাত্র ৩৩ জন শিশুর সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে শুরু হয়েছিল এই কার্যক্রম। এবার প্রবাসী বাংলাদেশি ড. জাফর ইকবালের আর্থিক সহায়তায় ১২৯ জন শিশুর হাতে দেয়া হল ঈদের নতুন পোশাক। তিনি আরও বলেন, এই সংগঠন সামাজিক ও শিক্ষার উন্নয়নের জন্য নানা রকম কাজ করে থাকে। ঈদেও আনন্দ ভাগাভাগি করতে যারা খুব অর্থকষ্টে থাকেন, তাদের মুখে সামান্য হলেও যেন হাসি ফুটে, এ প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এ আয়োজন। আমাদের এ সংগঠন ভবিষ্যতে মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রিতে পড়াশোনা ও খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চায়। আর এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা দরকার। সেই লক্ষ্যে কাজও করে যাচ্ছি আমরা।




