শেরপুরের শ্রীবরদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে শেখবর আলী (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও দুইজন।

২৩ মার্চ বুধবার বিকেলে উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী হালুয়াহাটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শেখবর স্থানীয় মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। আহতরা হলো একই গ্রামের মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মাহফুজ (৩০) ও মৃত জমশেদ আলীর ছেলে শরাফত আলী (৭০)।
এদিকে ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এক নারীসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়রা জানায়, দীর্ঘদিন যাবত প্রতিবেশী মৃত শরাফত আলীর ছেলে জাকির হোসেন জিকোর সাথে মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে শেখবর আলীর জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে গতকাল মঙ্গলবার প্রতিপক্ষ জিকোসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন শেখবর আলী। সাধারণ ডায়েরির প্রেক্ষিতে বুধবার থানার একজন অফিসার সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। এদিকে প্রতিপক্ষ জিকোসহ ৪/৫ জন অতর্কিতভাবে ধারালো অস্ত্রসহ লাঠিসোটা নিয়ে শেখবর আলীর ওপর হামলা চালায়।
এসময় প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে শেখবর আলীর গলা ও মাথায় আঘাত করে। এতে শেখবর আলীসহ তার ছোট ভাই মাহফুজ ও প্রতিবেশী শরাফত আলী গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা আহতদের লাশ উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শেখবরকে মৃত ঘোষণা করেন। একইসাথে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরাফত আলীকে প্রথমে জেলা সদর হাসপাতাল ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে জজ মিয়াসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ।
নিহত শেখবর আলীর মা মাহফুজার বেগম বলেন, আমরা ঢাহা থাহি। এল্লাডা জমি। ওই হানে গাছ লাগাইছি। এই গাছ ওরা কাইটা নিয়া গেছে। আমার পোলা বাঁধা দেয়। ওরা দাউ দিয়া কুপাইয়া আমার পোলাডারে মারছে। নিহতের ছোট ভাই মাহফুজ বলেন, আমগোর ওপর অতর্কিতভাবে হামলা করেছে। আমার ভাইরে মাইরা ফালাইছে। আমারেও মারছে। আমরা এর বিচার চাই।
এ ব্যাপারে শ্রীবরদীর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার বিশ্বাস জানান, এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় জড়িত বাকীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।




