ads

মঙ্গলবার , ১৫ মার্চ ২০২২ | ২৮ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে এবার জাতীয় পতাকা ও মানচিত্রের আদলে ধানক্ষেত

স্টাফ রিপোর্টার - ফটো কার্ড
মার্চ ১৫, ২০২২ ৯:২৭ অপরাহ্ণ

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে সৌখিন কৃষকের উদ্ভাবনে তোলপাড়

Shamol Bangla Ads

কৃষি ও খাদ্যসমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য আধার শেরপুরে এবার বাংলাদেশের মানচিত্র ও জাতীয় পতাকার আদলে গড়ে তোলা হয়েছে ধানক্ষেত। সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল পল্লীতে স্থানীয় সৌখিন কৃষক নুরে আলম সিদ্দিকীর চাষ করা পার্পল লিফ রাইস বা বেগুনি রঙের পাতার ধানক্ষেতে স্বদেশ প্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপনে এমন ব্যতিক্রমী প্রয়াসে নজর কেড়েছে আশেপাশের এলাকার অধিবাসীসহ অনেকেরই। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকার কৃষক ও উৎসুক লোকজন দেখতে আসছেন ওই দৃশ্য। নজর দিয়ে পথচারীরাও থমকে দাঁড়িয়ে উঠছেন। অনেকেই নিজেদের মোবাইলে তুলছেন সেই ছবি। কেউবা নিচ্ছেন সেলফি। ফলে সবুজ-বেগুনি ধানক্ষেতে মানচিত্র ও পতাকা ফুটিয়ে তোলার ঘটনায় এলাকাসহ খোদ উপজেলাজুড়েই রীতিমতো আলোড়নও সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে নুরে আলম সিদ্দিকীর স্বদেশ প্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপনের ওই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্বীকৃতি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

জানা যায়, নূরে আলম সিদ্দিকী ঝিনাইগাতী উপজেলার ধানশাইল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি একজন সৌখিন কৃষক হিসেবে এলাকায় খ্যাতি রয়েছে তার। সরেজমিনে গেলে কথা হয় নূরে আলম সিদ্দিকীর সাথে। তিনি বলেন, আমি গত বছর ইউটিউবের মাধ্যমে ওই পার্পল লিফ রাইস নামের বেগুনি ধান চাষের একটি ভিডিও দেখি। এরপর আমার আগ্রহ জাগে ওই ধান চাষ করার। পরে আগ্রহ থেকেই গত বছর আমি নিজের অল্প জমিতে বেগুনি ধানের বীজ সংগ্রহ করে তা রোপণ করি। আলহামদুলিল্লাহ ধানও খুব ভালো হয়। তাই এবারও মোট ১০ কাঠা জায়গায় ধান রোপণ করি। এর মাঝে বেগুনি ধানের বীজও রোপন করি। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবার আমি জাতীয় পতাকার আকৃতিতে ২ জাতের ধান রোপণ করেছি। পাশাপাশি আরেকটি ক্ষেতে বেগুনি ধান দিয়ে বাংলাদেশের মানচিত্র’র মতো তৈরি করেছি। যা দেখার জন্য প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে উৎসুক লোকজন আসছেন। তারা ধান ক্ষেত দেখছেন, তুলছেন ছবি, কেউবা আবার বীজ নেওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করছেন। ইচ্ছা আছে, আগামীতে বেগুনি ধানের আবাদ আরও বাড়ানোর।

Shamol Bangla Ads

মঙ্গলবার সৌখিন কৃষক নুরে আলমের আলোড়ন সৃষ্টি করা সেই ধানক্ষেত সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সবুজ মাঠের মাঝখানে বেগুনি রঙ। আর সবুজ ধানের বেষ্টনীর কাছে গেলে আপাত দৃষ্টিতে মনে হয় বেগুনি রঙের জায়গাটুকু কোনো আগাছা বা বালাই আক্রান্ত ধান। কিন্তু না, এটি এমন একটি ধানের জাত, যার পাতা ও কাণ্ডের রং বেগুনি। যেভাবে রোপণ করেছেন, তা দেখতে অনেকটাই জাতীয় পতাকার আকৃতির মতো। আবার পাশের আরেকটি ক্ষেতে দেখা যায় সবুজ ধান ও বেগুনি ধানের মিশ্রণে বাংলাদেশের মানচিত্রের রূপ। ওইসময় দুটি ধানক্ষেতের পাশেই পাওয়া যায় উৎসুক মানুষের আনাগোনা।

উপজেলার পার্শ্ববর্তী বাকাকুড়া এলাকা থেকে ওই ধানক্ষেত দেখতে এসে আব্দুর রহমান বলেন, খুবই সুন্দর হয়েছে ক্ষেতটি, দেখতে খুব ভালো লাগছে। ক্ষেতের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি উঠালাম। কলেজছাত্রী জান্নাতুল ইমা বলেন, কত সুন্দর ধান ক্ষেত, চারপাশে সবুজ, মাঝখানে বেগুনি কালার, দেখতে খুব ভালো লেগেছে। আমরা ছবি তুললাম, ক্ষেতের চারপাশ ঘুরে বেড়ালাম, ভালো লাগলো অনেক। পাশের কুচনিপাড়া এলাকার আব্দুল মোবারক স্ত্রীকে নিয়ে বেগুনি ধানের ক্ষেত দেখতে এসেছেন। তিনি বলেন, আমাদের জাতীয় পতাকার মতো দেখতে ধান ক্ষেতটি। যদিও পুরোপুরি জাতীয় পতাকার মতো কালার হয়নি, তারপরেও অনেকটাই জাতীয় পতাকার মতোই দেখতে। একটি ক্ষেত পতাকা আকৃতির, আরেকটিতে বাংলাদেশের মানচিত্র, যা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। একজন ব্যক্তির মাঝে কতোটা স্বদেশপ্রেম থাকলে যে এটা করা সম্ভব তা দেখে সহজেই সেটা অনুমান করা যায়।
পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলনের ঝিনাইগাতী শাখার সভাপতি জাহিদুল হক মনির বলেন, সৌখিন কৃষক নুরে আলম সিদ্দিকী একদিকে বেগুনি রঙের নতুন ধানের আবাদ করে এলাকার কৃষকদের আগ্রহ বাড়িয়েছেন। অন্যদিকে তিনি ধানক্ষেতে জাতীয় পতাকা ও মানচিত্রের ছবি ফুটিয়ে তুলে সত্যিই স্বদেশ প্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে আরও উৎসাহিত করতে প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্বীকৃতি।

এদিকে কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, দেশে প্রথম বেগুনি রঙের ধানের আবাদ শুরু হয় গাইবান্ধায়। সৌন্দর্য ও পুষ্টিগুণে ভরপুর থাকায় দিন দিন দ্রুত সময়ের মধ্যে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় এ ধানের আবাদ ছড়িয়ে পড়ে।
ঝিনাইগাতী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, ধান ক্ষেতের মাঝখানে এমন বেগুনি ধান লাগানোর জন্য ক্ষেতের সৌন্দর্য বৃদ্ধি হয়েছে। যা দেখতে উৎসুক মানুষজন আসছেন ক্ষেতটিতে। তিনি বলেন, দিন দিন বেগুনি ধান চাষাবাদ বৃদ্ধি হচ্ছে। এর আগেও ঝিনাইগাতী উপজেলায় বেগুনি ধান চাষ হয়েছে। তবে এবার গতবারের তুলনায় একটু বেশি। এজন্য কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতাও দেওয়া হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শেবানি রাণী বলেন, এ ধানের নাম মূলত পার্পল লিফ রাইস। এই ধান গাছের পাতা ও কাণ্ডের রঙ বেগুনি হয়। এর চালের রঙও হয় বেগুনি। তাই কৃষকদের কাছে এখন পর্যন্ত এ ধানের পরিচিতি বেগুনি রঙের ধান হিসেবে। এটি বিদেশি জাত নয়, দেশীয় শুক্রাণু প্রাণরস (জার্মপ্লাজম)।
এ ব্যাপারে শেরপুরের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মুহিত কুমার দে বলেন, নতুন জাতের বেগুনি ধান ক্ষেতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও মানচিত্র ফুটিয়ে তোলার উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। এটি সৌন্দর্যের পাশাপাশি মুগ্ধতাও ছড়িয়েছে বেশ। তার মতে, ওই ধানের পুষ্টিগুণ বেশি। তাই দিন দিন এর আবাদ বাড়ছে। এক্ষেত্রে সৌখিন কৃষক নুরে আলম সিদ্দিকীসহ অন্যান্য কৃষকদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগের তরফ থেকে তদারকির পাশাপাশি সহযোগিতাও করা হচ্ছে। প্রাকৃতিক কোনও দুর্যোগ না হলে এবার এ ধানের বাম্পার ফলন হবে বলেও আশা করেন তিনি।

Need Ads