পা দিয়ে লিখে এবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন দিয়েছেন শেরপুরে সেই অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী সুরাইয়া জাহান। ইচ্ছা থাকলে কোন বাঁধাই যে কাউকে আটকিয়ে রাখতে পারে না, তার জলজ্যান্ত উদাহরণ প্রতিবন্ধী সুরাইয়া। ২ অক্টোবর শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে মাকে সাথে নিয়ে শেরপুর থেকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)র কেন্দ্রে যান সুরাইয়া। বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের কীটতত্ত্ব বিভাগের ল্যাবরেটরির কক্ষের মেঝেতে বসে ঢাবির ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। এই কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩৫ জন। সুরাইয়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য পা দিয়ে লিখে পরীক্ষা অংশগ্রহণের ছবি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে ভাইরাল হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী সুরাইয়া জাহানের গ্রামের বাড়ি শেরপুর সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়া সুতিরপাড় এলাকায়। তার বাবা মাওলানা মো. ছফির উদ্দিন একই এলাকার আন্ধারিয়া সুতিরপাড় দাখিল মাদ্রাসার সুপার এবং মা মোছা. মুর্শিদা ছফির গৃহিণী। সুরাইয়া ২০১৮ সালে শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমি কেন্দ্রে পায়ে লিখে এসএসসি পরীক্ষা দেয়। তখনও তাকে নিয়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকাতে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ এর মধ্যে জিপিএ ৪.১১ পেয়ে উত্তীর্ণ হন সুরাইয়া। পরবর্তীতে ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হন তিনি।
সুরাইয়ার মা মুর্শিদা ছফির বলেন, তাদের তিন মেয়ের মধ্যে সুরাইয়াই প্রথম। মেয়েটা জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। তার হাত অকেজো। কিন্তু আমি কখনই সেটার জন্য মন খারাপ করিনি। মেয়েকে নিয়ে আজকের এই অবস্থানে আসার পেছনের গল্পটাও সংগ্রামের। আমি চাই যে, আমি যতদিন বেঁচে আছি ততদিন তার এগিয়ে যাওয়ার পথে সঙ্গী হয়ে থাকব। আমার আশা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেয়ে উত্তীর্ণ হবে এবং একদিন বড় কর্মকর্তা হবে। এ জন্য তিনি সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করেন।

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ বিভাগের ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, জামালপুর, শেরপুর ছাড়াও ঢাকা বিভাগের টাঙ্গাইল ও কিশোরগঞ্জ জেলার শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কেন্দ্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন।




