ads

বুধবার , ৩১ মার্চ ২০২১ | ২৮ অক্টোবর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

মুজিববর্ষের উপহার ॥ শেরপুরে স্থায়ী আবাসন পাচ্ছে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী

জুবাইদুল ইসলাম - ফটো কার্ড
মার্চ ৩১, ২০২১ ২:১৮ অপরাহ্ণ

শেরপুরে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর (হিজড়া সম্প্রদায়) জন্য স্থায়ী আবাসন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল এ আবাসন প্রকল্পটির উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। এতে স্থায়ী মাথা গুজার ঠাঁই পাচ্ছে সমাজের অবহেলিত তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী।
জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সহায়তায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের গুচ্ছগ্রাম প্রকল্প-২ এর আওতায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের কবিরপুর মৌজাধীন আন্ধারিয়া সুতিরপাড় এলাকায় দুই একর সরকারি খাসজমিতে হিজড়াদের জন্য গড়ে ওঠেছে আবাসন প্রকল্প। সেই আবাসনে জেলার ৪০ জন হিজড়ার নামে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে জমিসহ ঘর। সঙ্গে রয়েছে রান্নাঘর ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা। সেইসাথে সকলের ব্যবহারের জন্য ৩টি নলকূপ ও ২টি গোসলখানা থাকছে। এছাড়া হিজড়াদের আয়বর্ধনমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য থাকছে প্রায় ৪০ শতক জমির ওপর একটি পুকুর, শাক-সবজি, ফসল আবাদের জন্য রাখা হয়েছে খোলা জায়গা, আর প্রশিক্ষণের জন্য নির্মিত হচ্ছে একটি মাল্টিপারপাস কক্ষ। গুচ্ছগ্রামের সঙ্গেই রয়েছে ৮ একরের বড় একটি সরকারি খাস বিল। সেটিও সেখানে বসবাসকারী হিজড়াদের লিজ দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। আবাসনের চারপাশে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে আবাসনটিকে পরিবেশবান্ধব ও মনোরম করা হচ্ছে। ৪০টি ঘর নির্মাণের জন্য ৬০ লক্ষ টাকা, মাল্টিপারপাস হল রুমের জন্য ৭ লক্ষ ৯৩ হাজার টাকা, নলকূপের জন্য ৬০ হাজার ও গোসলখানা নির্মাণের জন্য ৫১ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

Shamol Bangla Ads

শেরপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফিরোজ আল মামুন জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও মুজিববর্ষের উপহারস্বরূপ তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের জন্য একটি অত্যাধুনিক আবাসন প্রকল্পে তাদের বাসস্থান নিশ্চিত করা হচ্ছে। সদর উপজেলার কামারিয়া ইউনিয়নের আন্ধারিয়া সুতিরপাড় মরাসুতি বিল সংলগ্ন এলাকায় এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া তাদের জীবনধারণ ও কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে- যাতে তারা আত্মস্বাবলম্বী হয়ে উঠে।
কামারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারী চাঁন বলেন, আমাদের ইউনিয়নে তৃতীয় লিঙ্গের আবাসস্থল হওয়াতে আমরা খুব খুশি এবং আমরা তাদের সাধুবাদ জানাই। কারণ আমরা মনে করি সকল নাগরিকই সহাবস্থানে থাকার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে।
এদিকে স্থায়ী মাথা গুজার ঠাঁই পেয়ে শেরপুর জেলা হিজড়া কল্যাণ সংস্থার সভাপতি নিশি সরকার বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এজন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ শেরপুরের জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। তিনি আরও বলেন, আমরা হাত পেতে খেতে চাই না, কাজ করে খেতে চাই। আবাসন ও প্রশিক্ষণ আমাদের নতুন করে জীবন শুরু করার অনুপ্রেরণা যোগাবে।
তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে কাজ করা নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগ, শেরপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও জনউদ্যোগের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শেরপুরে তৃতীয় লিঙ্গের লোকজনদের জন্য এক আশা জাগানিয়া কর্মউদ্যোগ শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো সমাজের অবহেলিত ও অপাংক্তেয় তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন এবং আর্থ-সামাজিক দিক থেকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। যাতে তারাও সমাজের মূলস্রোতে একীভূত হতে পারে। তাদের আবাসন ও কর্মসংস্থানের এ উদ্যোগ সারাদেশের জন্য একটা রোল মডেল হয়ে উঠবে বলে আমরা মনে করছি।
এ ব্যাপারে শেরপুরের জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব বলেন, সমাজের অবহেলিত তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীদের জন্য মুজিববর্ষের শুভেচ্ছাস্বরূপ আবাসন প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল। খুব শিগগিরই এটি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া তাদের কর্মসংস্থানের জন্য ইতোমধ্যেই বুটিক, সেলাইসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আবাসনের পুকুরে মাছ চাষ এবং গবাদী পশু পালন করেও অর্থনৈতিকভাবে সফলতা অর্জন করতে পারবে তারা। সেইসাথে মাল্টিপারপাস হলরুমে নিয়মিত তাদের সরকারি বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ করে তোলা হবে।

Need Ads

সর্বশেষ - খেলাধুলা

Shamol Bangla Ads