শ্যামলবাংলা ডেস্ক : হাজিদের দুর্ভোগ কাটেনি এখনও। শুক্রবার পর্যন্ত স্বাভাবিক হয়নি বিমানের হজ ফ্লাইট সিডিউল। বিস্তর ঝক্কি পেরিয়ে দেশে পৌঁছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের পড়তে হচ্ছে নতুন বিড়ম্বনায়। অব্যবস্থাপনা ও ভোগান্তিতে নাজেহাল হাজিরা দীর্ঘ ভ্রমণক্লান্তি নিয়ে লাগেজ ছাড়াই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। অথবা লাগেজ ও মালপত্র হাতে পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ভুক্তভোগীরা বলছেন, সৌদি আরব যেতে যা ভোগান্তি হয়েছে, ফিরতি পথে তার চেয়েও অনেক বেশি ধকল পোহাতে হয়েছে।
শুক্রবার ভোর সোয়া ৫টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শাহজালালে অবতরণ করেন জামালপুরের করিম উল্লাহ। তিনি এবং তার সঙ্গে একই ফ্লাইটে দেশে ফেরা আরও কয়েকজন হাজি বলেন, সৌদিতে মিনা ট্র্যাজেডির দুঃসহ স্মৃতি ও আতঙ্ক নিয়ে বহু কষ্টে দেশে ফিরেছেন। কিন্তু দেশের মাটিতে পা রেখেও স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছেন না। লাগেজ ও মালপত্র নিয়ে চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে তাদের।
কয়েকজন হাজি অভিযোগ করে বলেন, হজ থেকে ফেরার সময় পরিবার ও স্বজনদের জন্য পবিত্র ভূমির খেজুর ও জমজমের পানি নিয়ে এসেছেন সবাই। কিন্তু সেই লাগেজ কবে নাগাদ আসবে বা হাতে পাওয়া যাবে সে বিষয়ে বিমান কর্তৃপক্ষ কোনো সন্তোষজনক জবাবই দিচ্ছে না। অবশ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি- দ্রুততম সময়ে হাজিদের সমস্যা সমাধানে জোর চেষ্টা চলছে।
এদিকে ফ্লাইট বিলম্বের কারণে জেদ্দা বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন নারী ও বয়স্ক হাজিরা। খাবার ও টয়লেট নিয়ে বিস্তর ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে তাদের। সেখানে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও তারা পাচ্ছেন না কোনো সহযোগিতা।
শুক্রবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সহকারী ব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) তাছমিন আকতার বলেন, জেদ্দা হজ টার্মিনালে হাজিদের অস্বাভাবিক চাপ এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের বিশেষ নিরাপত্তাজনিত ব্যবস্থায় হাজিদের বিলম্বে বিমানবন্দরে রিপোর্টিং করার কারণে ফ্লাইট ছাড়তে দেরি হচ্ছে। আগামী দু’একদিন এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে। এর পর হজ ফ্লাইট স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। এসব কারণে হাজিদের লাগেজ আনা সম্ভব হচ্ছে না।
বিমানবন্দর হজ কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বিমানের ১৭টি এবং সৌদি এয়ারলাইন্সের ২৬টি হজ ফ্লাইট শাহজালাল বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। এসব ফ্লাইটে দেশে ফিরেছেন অন্তত ২০ হাজার হাজি।




