মেহের আমজাদ, মেহেরপুর : মেহেরপুর সদর উপজেলার কুতুবপুর বাজার ও গাংনী উপজেলা শহরের বাসস্ট্যান্ডে পৃথক দু’টি দুর্ঘটনায় কামাল উদ্দীন (৬৮) ও আঞ্জিরা খাতুন (৪৮) নামের দুই পথচারী নিহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে তাদের মৃত্যু হয়। ট্রাক দু’টি আটক করেছে পুলিশ। নিহত আঞ্জিরা খাতুন গাংনী উপজেলার ধানখোলা গ্রামের মজু মিয়ার স্ত্রী এবং নিহত কামালউদ্দীনের বাড়ি মেহেরপুর সদর উপজেলার শোলমারী গ্রামে।
প্রত্যক্ষদর্শী গাংনী বাসস্ট্যান্ড এলাকার চা বিক্রেতা কামরুল ইসলাম জানান, কুষ্টিয়া থেকে মেহেরপুরগামী একটি ট্রাক (নং ঢাকা মেট্রো ড ১১-৪৪৭৮) দ্রুত বেগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাইসাইকেল ও একটি স্যালো ইঞ্জিন চালিত নছিমনকে ধাক্কা দেয়। নছিমনের কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন আঞ্জিরা খাতুন। ঘাতক ট্রাকটি নছিমনটিকে ধাক্কা দিয়ে আঞ্জিরা খাতুন মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এসময় ট্রাকের চাকায় তার মাথা পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার হাটবোয়ালিয়ায় মেয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য গাড়ির অপেক্ষায় তিনি বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। পুলিশ ঘাতক ট্রাকটি আটক করলেও চালক পালিয়ে গেছে। মরদেহ থানায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম হোসেন।
এদিকে একই সময়ে মেহেরপুর-কাথুলী সড়কের সদর উপজেলার কুলবাড়ীয়া বাজারে শৈলমারী গ্রামের পথচারী কামাল উদ্দীনকে একটি দ্রুত গতির ট্রাক (নং ঢাকা মেট্রো ট ১১-৬৫০০) চাপা দিলে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এসময় ট্রাকটি ফেলে চালক ও হেলপার পালিয়ে যায়। স্থানীয় লোকজন ট্রাকটিকে আটক করে। সদর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান হাবীব জানান, ট্রাক ও মরদেহ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

গাংনীতে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাকে পেটালেন শ্রমিক লীগ নেতা
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা খাদ্য গুদাম ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফুল জামাত আলীকে পেটালেন গাংনী উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি হবিবুর রহমান হবি। খাদ্য গুদামে সিরিয়াল অনুযায়ী গম ক্রয় না করার জের ধরে সোমবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে গুদাম অফিসে এ ঘটনা ঘটে। ফুল জামাত আলী মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী গাংনী খাদ্য গুদামের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী হায়দার আলী জানান, গুদামে গম কেনাবেচা নিয়ে বিকেলে হবিবুর রহমান হবি ও ফুল জামাত আলীর মধ্যে ঝগড়া বাধে। এক পর্যায়ে ফুল জামাত আলীকে মারধর করে হবি ও তার সঙ্গীয় একজন। পরে তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে নেওয়া হয় মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে।
মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অলোক কুমার দাস জানান, তার শরীরের আঘাতের তেমন চিহ্ন নেই। চড় থাপ্পর মারা হয়েছে বলে ধারণা করছেন তিনি।
অভিযুক্ত হবিবুর রহমান হবির সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সম্প্রতি সরকারী খাদ্য সংগ্রহ কর্মসুচীর আওতায় গাংনী খাদ্য গুদামে গম ক্রয় শুরু হলে গম বিক্রি ইচ্ছুক চাষীদের নাম সিরিয়ালভুক্ত করা হয়। গত ২২ দিন আগে তিনি সিরিয়াল দিলেও গম বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে না। কিন্তু অর্থের বিনিময়ে প্রতিদিনই সিরিয়াল ভঙ্গ করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে গম ক্রয় করছেন ফুল জামাত আলী। আজ তিনি সিরিয়ালের বিষয় জানতে গেলে গুদাম কর্মকর্তা ফুল জামাত আলী তার কাছে অর্থ দাবি করেন। অর্থ না দিলে গম ক্রয় করা হবে না বলে জানান খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা। এ নিয়ে তাদের মধ্যে সামান্য ধাক্কাধাক্কি হয়। মারধরের ঘটনা সঠিক নয়।
এদিকে খবর পেয়ে মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মাহমুদ হোসেন, পুলিশ সুপার হামিদুল আলম ও গাংনী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকরাম হোসেন গুদাম এলাকা পরিদর্শন করে প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে ঘটনার বর্ণনা শুনেছেন।
গুদাম কর্তৃপক্ষ মামলা দিলে হবির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার। সিরিয়াল অনুযায়ী গম ক্রয় করতে খাদ্য গুদামে কর্মরতদের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার।




