শাহ্ আলম শাহী,দিনাজপুর : দিনাজপুরে একটি কওমি মাদ্রাসার ৯ বছরের এক ছাত্রকে চুরির অপবাদে তিন শিক্ষক অমানুষিক নির্যাতন করেছে। জোহরের নামাজের পর থেকে আসর পর্যন্ত নির্যাতনের শিকার ছাত্র আবু সাইদ অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে সোমবার রাতে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ হৃদয় বিদারক চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে, দিনাজপুর সদর উপজেলার কমলপুর ইউনিয়নের কমলপুর বাজারে অবস্থিত “নূরানী তালিমুল কোরআন হাফিজিয়া মাদ্রাসায়।
আবু সাইদের পিতা-মাতা জানান, গত শুক্রবার (১৫মে) দুপুরে মাদ্রাসার তিন শিক্ষক হাফেজ মোঃ রেজাউল ইসলাম, মওলানা রিয়াজুল ইসলাম ও মওলনা সরিফুল ইসলাম আবু সাইদকে বেত দিয়ে বেদম প্রহার করে এবং প্রহারের কথা কাউকে না বলার জন্য শাসানো হয়। সোমবার দুপুরে তার সহপাঠিদের কাছে প্রহারের কথা জানতে পেরে মাদ্রাসায় গিয়ে দেখেন ছেলের উপর নির্যাতনের লোমহর্ষক চিহ্ন।
চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জোহরের নামাজের পর থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আবু সাইদের উপর চলে পাশবিক নির্যাতন। নির্যাতনের যন্ত্রনায় সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
শিশুটির উপর অভিযুক্ত শিক্ষকদের অমানবিক এই নির্যাতনের বিচার দাবী করেছে এলাকার বিুদ্ধ মানুষ। ঘটনার পর অভিযুক্ত তিন শিক্ষক মাদ্রাসা থেকে পালিয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান মাজেদুর রহমান জুয়েল জানিয়েছেন,এধরনের নির্যাতনের সাথে জড়িতদের রেহায় দেয়া হবেনা। একজন ইউপি সদস্যকে আহবায়ক করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ২৪ ঘন্টার মধ্যে তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট দিবে। রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল।




