শ্যামলবাংলা ডেস্ক : জেল ভেঙে গণহারে কয়েদি পালানোর একটি ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। ১৬ মে শনিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
মিসরের প্রেসিডেন্ট থাকাকালে বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার ও নির্যাতনের আদেশ দেওয়ার দায়ে এর আগে মুরসিকে ২০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালে মিসরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারকের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলাকালে একটি জেল ভেঙে গণহারে কয়েদি পালানোর ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে মুরসিকে এই দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মিসরের আইন অনুযায়ী, এই দণ্ড কার্যকর করার আগে বিচারককে অবশ্যই ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের মতামত নিতে হবে।
মিসরে অবাধ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন মোহাম্মদ মুরসি। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের এক বছর পরই মুরসির বিরুদ্ধে ব্যাপক গণবিক্ষোভ দেখা দিলে ২০১৩ সালে সেনাবাহিনী তাকে উৎখাত করে। এর পর মুরসির সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডকেও মিসরে নিষিদ্ধ করা হয় এবং এই সংগঠনের হাজার হাজার সদস্য ও সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়।
পরে গত বছরের মে মাসে মিসরে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেন দেশটির সাবেক সেনা প্রধান আবদুল ফাতাহ আল সিসি।
জেল ভেঙ্গে গণহারে কয়েদি পালানোর এ ঘটনায় মুরসির সঙ্গে আরও শতাধিক ব্যক্তিকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মুরসিকে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রসঙ্গে তার সমর্থকরা বলছেন, মুরসির বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একটি সেনা অভ্যুত্থানকে বৈধতা দিতেই এ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।




