শ্যামলবাংলা ডেস্ক : প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার দেশের বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান করেছে। বিএনপি- জামায়াত সরকার বিদ্যুৎ দিতে পারেনি, দিয়েছে গুলি।’ তিনি ১৬ মে শনিবার চাপাইনবাবগঞ্জ জেলা সরকারি মাঠে অনুষ্ঠিত জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপি সরকারের আমলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের বিষয়টি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত আপনাদের বিদ্যুৎ দিতে পারেনি, দিয়েছে গুলি। বিদ্যুতের জন্য আপনারা আন্দোলন করায় তারা আপনাদের উপর গুলি চালিয়েছিল। সেদিন ১৮ জন মানুষকে গুলি করে হত্যা করে তারা।’
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি বিদ্যুৎ দিতে পারে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ বিদ্যুৎ দিলে ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুড়িয়ে ধ্বংস করে। বিএনপি মানেই ধ্বংসের রাজনীতি করা। জামায়াত মানেই ধ্বংসের রাজনীতি করা। তারা মানুষের ধ্বংস করতে পারে। এদের মতো জঘন্য রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ আর দেখে নাই।’
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে প্রায় তিন মাস বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের সময় নাশকতায় আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারা, গাড়ি জ্বালানো ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষ হত্যা করাই তার (খালেদা) চরিত্র। বিএনপি মানে ধ্বংস, জামায়াত মানে ধ্বংস। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটাতে খালেদা জিয়া আন্দোলনের ডাক দিলেন, মানুষ পুড়িয়ে মারলেন। ৯৩ দিন হরতাল- অবরোধ করেছে বিএনপি- জামায়াত। এই ৯৩ দিনে খালেদা জিয়ার তো কোনো ক্ষতি হয় নাই। তিনি তো ৬৩ জন লোক নিয়ে কার্যালয়ে বসে বসে খেয়েছেন। ক্ষতি হয়েছে আমার কৃষকের, আমার দিনমজুরের।’
সম্প্রতি ভারতের পার্লামেন্টে স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুমোদনের বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুজিব-ইন্দিরা চুক্তি, ১৯৭৪ সালের স্থলসীমান্ত চুক্তি কোনোটাই বিএনপি-জামায়াত বাস্তবায়ন করাতে পারেনি। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমস্যা সমাধান করতে পারেনি।’ বিএনপি পারেনি কেন- প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ বিএনপি না পারলেও আওয়ামী লীগ ভারত-মিয়ানমারের সঙ্গে সমস্যা সমাধান করতে পেরেছে।’
ভারতের পার্লামেন্টে স্থলসীমান্ত চুক্তি অনুমোদনকে ‘বাংলাদেশের বিরাট অর্জন’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে ভারতের কাছ থেকে ন্যায্য অধিকার আদায় করে। আমরা যখনই ক্ষমতায় এসেছি তখনই ভারতের কাছ থেকে ন্যায্য অধিকার আদায় করেছি। কিন্তু বিএনপি বিরোধী দলে থাকলে মুখে ভারত বিরোধীতা করে আর গোপনে ভারতের চাটুকারিতা করে।’
এর আগে বেলা সোয়া ১২টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যান প্রধানমন্ত্রী। চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৌঁছে বেলা ১টায় সদর উপজেলার সাহেবের ঘাট এলাকায় মহানন্দা নদীর উপর নির্মিত শেখ হাসিনা সেতু উদ্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী। এরপর ৫শ’৪৬ মিটার দীর্ঘ সেতুটি ঘুরে দেখেন তিনি। সেতু উদ্বোধনের পরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (যুব ভবন), বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উপকেন্দ্র, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতির চক্ষু হাসপাতাল, শহীদ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজের একাডেমিক ভবন এবং গোমস্তাপুরে নবনির্মিত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উদ্বোধন করেন তিনি।
এরপর বেশ কয়েকটি প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন শেখ হাসিনা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ১০০ শয্যা হতে ২৫০ শয্যায় উন্নীত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আধুনিক সদর হাসপাতাল, কানসাট-রহনপুর-ভোলাহাট সড়ক উন্নয়ন, পদ্মা নদীর ভাঙন হতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার আলাতুলী এলাকা রক্ষা এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শেখ হাসিনার সমাবেশে মানুষের উপচে পড়া ভিড় ছিল। সমাবেশ স্থলের আশেপাশের এলাকাতেও মাইক লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনার ব্যবস্থা করা হয়। সেতু উদ্বোধন ও জনসভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেণ শিকদার, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক, রাজশাহীর সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী বিভাগ) ও সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনসহ উত্তরবঙ্গের অন্যান্য সংসদ সদস্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মইনুদ্দিন মণ্ডল, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব এ কে এম শামীম চৌধুরী ও উপ-প্রেসসচিব মামুন-অর-রশীদ প্রমুখ।




