শ্যামলবাংলা ডেস্ক : বর্ষবরণ উৎসবে যৌন নিপীড়নে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তি দাবিতে ছাত্র ইউনিয়নের ডিএমপি কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি লাঠিপেটা ও জলকামান ছুড়ে পণ্ড করে দিয়েছে পুলিশ। পুলিশি হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বাংলাদেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট ডেকেছে বামপন্থি ছাত্র সংগঠনটি। হামলার নিন্দা জানিয়েছে সিপিবিসহ বিভিন্ন বাম রাজনৈতিক দল ও ছাত্র সংগঠন।
বর্ষবরণের যৌন হয়রানি ঠেকাতে পুলিশের ভূমিকার সমালোচনামুখর ছাত্র ইউনিয়ন নেতাদের দাবি, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিনা উসকানিতে হামলা হয়। এতে তাদের ৩৪ নেতা-কর্মী আহত হন। পাঁচজনকে পুলিশ আটক করেছে।
অন্যদিকে পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, বিক্ষোভকারীরা সড়ক আটকে রেখেছিল এবং তাদের সরতে বলা হলেও তারা সরেনি। তখন পুলিশ তাদের হটাতে ব্যবস্থা নেয়।
কাজে বাধা এবং পুলিশকে মারধরের অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেন রমনা থানার এসআই মিজানুর রহমান।
গত ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ) বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের মধ্যে নারীদের যৌন হয়রানির ঘটনায় পুলিশ এখনও কাউকে চিহ্নিত করতে না পারার মধ্যে রোববার ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের কার্যালয় ঘেরাওয়ে যায় ছাত্র ইউনিয়ন।
‘পাল্টা আঘাত’ কর্মসূচি হিসেবে সংগঠনটির সভাপতি হাসান তারেক ও সাধারণ সম্পাদক লাকী আক্তারের নেতৃত্বে শতাধিক নেতা-কর্মীর ওই মিছিল কয়েক দফা বাধার পর দুপুর পৌনে ১টার দিকে মিন্টো রোডে ডিএমপি কার্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছায়।
সেখানে পুলিশ বাধা দিলে উভয়পক্ষের ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠি নিয়ে চড়াও হয় পুলিশ, সেই সঙ্গে চলে জলকামান থেকে পানি ছোড়া ইসমত জাহান জো নামে বামপন্থি সংগঠনটির এক নারীকর্মীকে চুল ধরে ফেলে দিয়ে পেটাতেও দেখা যায় একজন পুলিশ সদস্যকে।
পুলিশের বেদম পিটুনিতে ছাত্র ইউনিয়নের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হন। পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যায়। অন্যদের ধাওয়া করে এবং পিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ।
প্রায় ১৫ মিনিট ধরে এই অবস্থা চলার সময় মনসুর আলী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি শান্ত হলে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়।
ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি হাসান তারেক বলেন, “ক্যাম্পাস থেকে আমরা মিছিল নিয়ে যাচ্ছিলাম। পুলিশ দোয়েল চত্বর ও হাই কোর্টের উল্টো পাশে দুই দফা বাধা দেয়। এরপর সার্কিট হাউস অফিসার্স ক্লাবের উল্টো পাশে বিনা উসকানিতে আমাদের লাঠিপেটা শুরু করে।”
হামলায় হাসান তারেক নিজেও আহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, হামলায় অন্তত ৩৪ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছেন সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম জিলানী শুভ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি লিটন নন্দী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি তন্ময় ধর, ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক সুমন সেন গুপ্ত।
এদের মধ্যে ১৫ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে ঢাকা মেডিকেলের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
বর্ষবরণের দিন যৌন নিপীড়কদের ঠেকাতে গিয়ে আহত হয়েছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা লিটন। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তারা দায়িত্বহীন আচরণ করেছিলেন বলে তার দাবি।
বিক্ষোভ থেকে সংগঠনের পাঁচজনকে পুলিশ আটক করে বলে জানিয়েছেন ছাত্র ইউনিয়ন নেতারা। তারা হলেন- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক দীপাঞ্জন সিদ্ধান্ত কাজল ও কর্মী আরিফুল ইসলাম অনিক, ঢাকা মহানগর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক অনিক রায়, অন্তু চন্দ্র নাথ ও সাদ্দাম হোসেন জয়।
রমনা থানার উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান বলেন, পুলিশের কাজে বাধা ও পুলিশকে মারধরের অভিযোগে ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
তবে রাত ৮টা পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। এসআই মিজান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিএমপির রমনা জোনের উপকমিশনার আব্দুল বাতেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শিক্ষার্থীরা অবরোধ করে যানজট সৃষ্টি করেছিল। পুলিশ তাদের সরে যেতে বলে এবং দাবি-দাওয়া থাকলে তাদের কয়েকজন প্রতিনিধি পাঠাতে অনুরোধ করে। কিন্তু তা না সরায় পুলিশ টিয়ার শেল ও ওয়াটার ক্যানন ব্যবহার করে তাদের সরিয়ে দেয়।”
পুলিশের জলকামান ব্যবহার পুলিশের জলকামান ব্যবহার পুলিশকে পাল্টা ইট ছুড়ছে মিছিলকারীরা পুলিশকে পাল্টা ইট ছুড়ছে মিছিলকারীরা
পুলিশ কোনো হামলা চালায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
উল্টো মিছিলকারীদের ঢিলে ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন রমনা থানার ওসি মসিউর রহমান। তারা হলেন- এসআই কামরুল, নায়েক জাহিদ, শাহীন, কাজী আরিফ, আলী হোসেন, আরাফাত।




