গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : ‘প্রতিবন্ধীরা সমাজে অবহেলিত জঞ্জাল নয়, এরা সম্পদ’ এই প্রত্যয়কে সামনে রেখেই টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের পৌরশহরে তরুণ সমাজসেবক খন্দাকার জাহিদ হাসানের একান্ত প্রচেষ্টায় ১৩ সদস্যের এক কমিটির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা ও যাত্রা শুরু করলো ‘পুষ্পকলি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়, ভূঞাপুর।’ ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. হেলালুজ্জামান সরকারকে সভাপতি করে ভূঞাপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি দাঁড় করানো হয়।

অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সাজ্জাদ জহির মজনু সরকার, মোজাম্মেল হক তালুকদার মুক্তা মাস্টার, সাংবাদিক আতোয়ার রহমান মিন্টু, সাংবাদিক সোহেল পারভেজ, অধ্যাপক আলী রেজা, এ্যাডভোকেট জাহিদ সাম্সসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিগণ।
কমিটির এবং নবনিযুক্ত শিক্ষক শিক্ষিকাগণের প্রচেষ্টায় ইতো মধ্যেই ৩০ জন ছাত্র-ছাত্রী পুস্পকলি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে বাক-শ্রবণ, অটিজম ও শারিরীক প্রতিবন্ধী এই তিন ধরণের ছাত্র-ছাত্রী প্রথম পর্যায়ে ভর্তির আওতায় আনা হয়েছে।
ঘাটাইলে ইউএনও হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহ বন্ধ
ঘটকের জেল ও মায়ের জরিমানা

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের মধ্যকর্ণা গ্রামের নবরতœবাড়ী মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীর সাথে বিয়ে দেওয়ার অপরাধে রোববার বিকেলে ধলাপাড়া ইউনিয়নের বিলজলঙ্গী গ্রামের ঘটক মো. কালাম জেল ও মেয়ের মাকে জরিমানা করেছে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার জামুরিয়া ইউনিয়নের মধ্যকর্ণা গ্রামের বিশা মিয়া (৩০) এর মেয়ে নবরতœবাড়ী মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণির মেধাবী ছাত্রীর সাথে ধনবাড়ী উপজেলা ভাইঘাট গ্রামের এক ছেলের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বিবাহ ঠিক করেন ঘটক মো. কালাম (৩০), তার ভাই কামরুজ্জামান এবং মেয়ের মা জোৎস্না বেগম (২৮)। পরে বিষয়টি এলাকার চেয়ারম্যান মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট বাল্য বিবাহের কুফল সম্পর্কে অবহিত করে মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য নিষেধ করে। তাতে তারা কর্ণপাত না করে রোববার বিকেলে মধ্যকর্ণা গ্রামে বিয়ের আয়োজন করলে ঘাটাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঘাটাইল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ে মাকে ১ হাজার টাকা জরিমানা ঘটকের ভাইকে ১ হাজার টাকা জরিমানা এবং ঘটকে ভ্রাম্যমান আদালত কর্তৃক ১৫ দিনের জেল দেওয়া হয়।
নবরতœবাড়ী মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট এ.কে রফিকুল ইসলাম জানান, ‘মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে বাল্য বিবাহটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’
চেয়ারম্যান পলাতক
ঘাটাইলে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলা দেউলবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন (৪৫) এর বিরুদ্ধে রোববার রাতে যুবলীগ নেতা বাহারুল ইসলাম খোকনকে প্রহৃত করার অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, ঘাটাইল উপজেলার দেউলাবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সহ-সভাপতি বাহারুল ইসলাম খোকনের সাথে চেয়াম্যানের ভাগিনা সেলিম (২০) এর তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি জানার পর দেউলাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন, যুবলীগ নেতা একটি দোকানে বসে থাকাবস্থায় ডেকে নিয়ে চেয়ারম্যানসহ সাঙ্গপাঙ্গরা উর্পুযুপরি কীল, ঘুষি ও থাপ্পর, মারতে থাকে এবং তার সাথে থাকা ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এরই প্রতিবাদে সর্বস্তরের জনতা রোববার রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পাকুটিয়া নামক স্থানে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে। খবর পেয়ে ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ফজলুল কবির ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। সোমবার সকালে চেয়ারম্যানের বিচারের দাবিতে অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয় বিক্ষুদ্ধ জনতারা ।
ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ফজলুল কবির জানান, অতীতেও তার (চেয়ারম্যানের) বিরুদ্ধে পাহাড়ের মাটি কাটা নিয়ে মামলা আছে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে এনেছি। যুবলীগ নেতা বাহারুল ইসলাম খোকন বাদী হয়ে চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন (৪৫), ওমর আলী (৪৫), ইমান আলী (৪২), সেলিম (২০) ও অজ্ঞাত ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত দোষীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।




