আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি : বরগুনার আমতলীতে তরমুজ চাষীদের জিম্মি করে পরিবহন খাতে চলছে ব্যাপক চাঁদাবাজি। কলাপাড়া -উপজেলার ধানখালী ইউনিয়ন থেকে বরগুনার আমতলী সড়ক পথে ১৫ কিলোমিটার রাস্তায় পরিবহনকালীন ৮ পয়েন্টে ৯ খাতে ফ্রি-স্টাইলে কৃষকও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এসব প্রকাশ্যে চললেও যেন দেখার কেউ নেই। তরমুজ বিক্রি শেষে পরিবহের ভাড়া শোধ করতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে ওইসব কৃষকদের। এর ফলে অনেক কৃষকই তরমুজ চাষে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কলাপাড়া -উপজেলার ধানখালী ও আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের গত বছর ৩’শতাধিক চাষি তরমুজ চাষ করলেও এসব কারনে চলতি বছর চাষীর সংখ্যা কমে গেছে।
এরকম বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে তরমুজ পাইকাররা না আসায় এখন চাষীরা তরমুজ বিক্রি নিয়ে পড়েছেন মহাবিপাকে। চাষীদের দেয়া তথ্যানুসারে, ধানখালী গ্রামের ক্ষেত থেকে লোড পয়েন্টে ট্রাকে তরমুজ তুলতে ২০০টাকা। উপজেলার নোমরহাটে ইউনিয়ন পরিষদের নামে দিতে হয় ২০০ টাকা। আমতলী উপজেলার চিলায় ৫০০ টাকা। একই সড়কের মুন্সী বাড়ির স্ট্যান্ডে ৩০০ টাকা। রাস্তা মেরামতের নামে বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ১০০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে।
এছাড়া খুড়িয়ার খেঁয়াঘাটে মসজিদ উন্নয়ন বাবদ ২০০ টাকা। একই স্থানে ট্রাক আটকানোর জন্য গার্ড ২০ টাকা। পুলিশের নামে দিতে হয় আরো ১০০ টাকা। এর পর আমতলী পৌর টোল ১০০ টাকা, ট্রাক ইউনিয়নের জন্য ৫০০ টাকাসহ ৮ পয়েন্টে অন্ততঃ ২১০০ টাকা তাদের চাঁদা গুনতে হচ্ছে।
অপর দিকে সাহেববাড়ী স্ট্যান্ড দিয়ে ট্রাক ঢুকতে হলে এক হাজার থেকে এক হাজার দু’শ টাকা দিতে হয় স্থানীয় মাস্তানদের ,গাজীপুর লোড পয়েন্টে ৩০০ টাকা, শাখারিয়া বাজারে ২০০ টাকা, হলদিয়া অফিস বাজারে ৫০০ টাকা, দফদারের ব্রিজ ৫ ’শ এবং দফাদারের ব্রিজ হয়ে তালুকদার বাজার রোডে জনৈক ব্যাক্তিকে ৫ শ থেকে ১ হাজার টাকা চাদা দিতে হয়। এ মৌসুমে প্রতিদিন অর্ধশতাধিক ট্রাক তরমুজ লোড করে। প্রতিটি ট্রাকে ৩৫-৪০ হাজার টাকা ভাড়া চুক্তিতে এবং ঘাটে ঘাটে চাঁদা দিয়েই দেশের একাধিক আড়তে তরমুজ পাঠাতে হয় বলে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান।
হলদিয়া ইউনিয়নের তরমুজ চাষী মিজান মিয়া জানান, ২ একর জমিতে তিনি এ বছর তরমুজের চাষ করেছেন। এ পর্যন্ত তিনি আটটি ট্রাকে তরমুজ বগুড়া নিয়ে বিক্রি করেছেন। এজন্য তার অতিরিক্ত ট্রাক ভাড়া ছাড়াও প্রায় ২৪ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। একই এলাকার কৃষক আনেছ, কুদ্দুস , আয়নাল জানালেন, চাঁদার জন্য রাস্তায় চাঁদা দিতে হয় । তাদের অভিযোগ, ট্রান্সপোর্টের নামে স্থানীয় প্রভাবশালীরা রাস্তায় রাস্তায় বেরিকেড দিয়ে এমন চাঁদা আদায় করছে। খুলনা থেকে তরমুজ থেকে তরমুজ নিতে আসা ট্রাক ড্রাইভার হেলাল জানান এ এলাকায় তরমুজ নিতে এসে যে ভাবে চাঁদা দিতে হয় ব্যবসয়ীরা আর আমাদের পাঠাবে না
এ ব্যাপারে আমতলী থানার ওসি শামসুল হক পিপিএম জানান, এমন অভিযোগ পেয়ে চাষীদের টাকা না দেয়ার জন্য বলে এসেছি। তবে তিনি এ ব্যাপারে অভিযান চালাবেন বলে জানিয়েছেন। বরগুনার পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ বলেন, অভিযোগ পেলে কঠোর হস্তে দমন করা হবে।




