এম.আবদুল্লাহ আনসারী, পেকুয়া (কক্সবাজার) : পেকুয়া এখন এক চরম আতংকের জনপদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও অবৈধ অস্ত্রের মহড়া, গুলাগুলি ও হাঙ্গামার ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। উপজেলার সন্ত্রস্ত জনপদের তালিকায় রাজাখালী,টইটং ও পেকুয়া সদর ইউনিয়ন আলোচনায় থাকলেও অন্য এলাকাতেও দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিমুহুর্তে চলছে। রাজাখালীতে কথায় কথায় অস্ত্রবাজি চলতে থাকলেও এপর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন রাজাখালী থেকে কোন অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। এমনকি একজন অস্ত্রবাজকে ধরতে পারেনি। সন্ধ্যা হলেই ওই এলাকার শান্তি প্রিয় আতংকিত লোকজন বাড়ী ফেরে যায় আর নেহায়ত প্রয়োজন হলেও ঘর থেকে বের হতে অনেক হিসেব নিকেশ করে বের হচ্ছে এমন দাবী রাজাখালী বাসির। বিশেষ করে এরশাদ আলী ওয়াকফ স্টেট কেন্দ্রিক লবণ ব্যবসার আধিপত্য নিতে স্থানীয় চেয়ারম্যানের মদদ পুষ্ঠ ও অপর একটি স্বশস্ত্র সেন্ডিকেটের প্রকাশ্য অস্ত্রবাজিতে রাজাখালীতে এ চরম আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। দুটি পক্ষই সরকার সমর্থিত হওয়ায় প্রশাসন কারো বিরুদ্ধে এ্যাকশনে যেতে পারছেনা বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ তুলেছে। এদিকে সম্প্রতি পেকুয়া বাজারের ইউপি কার্যালয়ের পাশে ম্যানটেক প্রপার্টিজের ব্যানারে ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলমের তত্বাবধানে নির্মাণাধীন বহুতল ভবণের জায়গাটি দখলে নিতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম একই জমির বিভিন্ন ওয়ারিশদের কাছ থেকে আম েেমাখতারনামা নিয়ে হানা দিলে কয়েকশ রাউন্ড গুলাগিুলির ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পেকুয়ার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র পেকুয়া বাজারের হাজারো ব্যবসায়ী ও প্রতিদিন সওদা করতে আসা পেকুয়া উপজেলা ও ্পার্শ্ববর্তী উপজেলা হাজার হাজার ক্রেতা দুপক্ষীয় সংঘর্ষের আশংকায় চরম নিরাপত্তাহীনাতায় ভোগছে। ওই ম্যানটেকের দখলে নিতে যে কোন মুহুর্তে স্বশস্ত্র হাঙ্গামার আশংকায় ও বাজারে লুটপাটের আশংকায় প্রতি মুহুর্তের আতংকে পরিণত হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানান। উপজেলার পাহাড়ি জনপদ টইটং এলাকায় চলছে ওপেন অস্ত্রের মহড়া। এক সময় দা বাহিনীর লোকজনের কাছে দা প্রদর্শনী থাকলেও এখন আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার হ্েচ্ছ। গেল উপজেলা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে অস্ত্রের মহড়া আশংকা জনক বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ লোকজন ও ব্যবসায়ীদের মাঝে আতংক পূর্বের যে কোন সময় থেকে বেড়ে গেছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন। টইটং বাজারে ১০এপ্রিল বলি খেলার আয়োজনের অন্তরালে একটি জায়গার দখলে নিতে দুপক্ষের মধ্যে সংঘটিত বন্দুক যুদ্ধে কমপক্ষে ৩০ রাউন্ড আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি বর্ষণ হলে ওই এলাকায় এখনো আতংক বিরাজ করছে। সাধারণ লোকজনের ধারণা এত আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে যারা গুলাগুলি করছে তাদের কারো বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নেই তাহলে এত অস্ত্র এত গুলাগুলির ঘটনায় পুলিশের ভুমিকা কি তা রহস্যাবৃত থেকেই যাচ্ছে। এত গুলাগুলির ঘটনায় থানায় অভিযোগও নেই বলে জানাগেছে। পেকুয়ায় সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর বিষয়ে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনিও এসব ঘটনা নিয়ে বিব্রত বলে উল্লেখ করে কিছ একটা করার উদ্যেগ নিচ্ছেন বলে জানান।




