শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা) : খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের তিন গ্রামে একই রাতে মোট ৫ বাড়িতে গণডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। ঘটনার পর ডাকাতরা কয়েক লাখ টাকার মালামাল নিয়ে ফেরার সময় এলাকাবাসী সম্মিলিতভাবে ৪ ডাকাতকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে দিয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাত সাড়ে ৮টার পর ১০-১২ জনের একটি ডাকাত দল আটলিয়া ইউনিয়নের বয়ারসিং গ্রামের কার্তিক মন্ডলের বাড়িতে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে প্রায় দুইভরি স্বর্ণালংকার, নগদ সাত হাজার টাকা ও একটা মোবাইল সেট নিয়ে নেয়। এরপর ডাকাতরা পাশের মনোহরপুর গ্রামে তাপস মন্ডলের বাড়ি ঢুকে নগদ সাড়ে দশ হাজার টাকা ও একটা মোবাইল সেট নেয়। এরপর ওকই গ্রামের হাসান খা’র বাড়ি থেকে নগদ আড়াই হাজার টাকা ও দু’টি মোবাইল সেট এবং মাহমুদা বেগমের বাড়ি থেকে সাড়ে আট হাজার টাকা নেয়। এরপর রাত দুইটার দিকে পার্শবর্তি পুটিমারি গ্রামের সুকুমার সানার বাড়ি থেকে ডাকতরা ১০০সিসি একটা মোটর সাইকেল, এক ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ চব্বিশ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। এ সময়ের মধ্যে তিন গ্রামে ডাকাতির ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গ্রামবাসী সন্মিলিত ভাবে ওই ডাকাতদের ধাওয়া করে। এক পর্যায় রাত তিনটার দিকে জনতা উপজেলার সাজিয়াড়া গ্রামের ইজাজুল মল্লিক(৩৫) ওরফে পলাশকে মনোহরপুর গ্রামে এক ধান ক্ষেত থেকে ধরে গণপিটুনি দেয়। খবর পেয়ে স্থানীয় মাদারতলা ক্যাম্প থেকে পুলিশ যেয়ে তাকে উদ্ধার করে। এর পরপরই পুলিশ ও গ্রামবাসী সন্মিলিত ভাবে চেষ্টা চালিয়ে ওই এলাকার বিভিন্ন বিল থেকে আরাজী ডুমুরিয়া গ্রামার জনি এলাহী খাজা(৩৫) ও একই গ্রামের আরিফ গাজী(২৫) এবং বাগাচড়া গ্রামের মোস্তাকিম গাজী(৩৩)কে ধরে গণপিটুনি দেয়। এরপর গতকাল মঙ্গলবার সকালে পুলিশ আটক ডাকাতদের মুমূর্ষু অবস্থায় ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর দেড়টায় জনি এলাহী খাজা ও দুপুে দুইটায় মোস্তাকিম গাজী মারা গেছে।
এ প্রসঙ্গে সুকুমার সানা বলেন, ‘রাত আড়াইটার দিকে মুখে কাপড় বাঁধা অবস্থায় ১০-১২ জনের একটা ডাকাত দল আমাদের বাড়িতে ঢুকে ঘুম থেকে সকলকে ডেকে তোলে। ডাকাতদল আমাদের বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে টাকা ও সোনাদানা বের করতে বলে। দিতে অস্বীকার করায় আমার স্ত্রীকে মারপিট করে। এক পর্যায় প্রাণ ভয়ে আমরা সবকিছু বের করে দি।’
এ প্রসঙ্গে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ইউনুস আলী বলেন, পুলিশ ভোরে পিটুনিতে আহত অবস্থায় চারজনকে হাসপাতালে আনে। দুপুর দেড়টায় তাদের মধ্যে জনি এলাহী খাজা ও দুপুর দুইটায় মুস্তাকিম গাজী’র মৃত্যু হয়েছে।
খুলনার সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদের বেগ বলেন, ডাকাতির ঘটনার এলাকাবাসী সন্মিলিত ভাবে ডাকাতদের ধরে গণপিটুনি দেয়। জনতার হাত থেকে আমরা তাদের উদ্ধার ডুমুরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনি। দুপুরে ডাকাতদের দুইজন মারা গেছে। এ ঘটনায় ডাকাতি ও হত্যা মামলা হবে।




