বাসাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসন্ন উপনির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনিত অুনপম শাহজাহান জয় ও একই দলের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রাথী বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক জিএম আব্দুল মালেক মিয়ার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আগামী ২৯ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য এ আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষনা করার পর থেকেই দু’উপজেলায় নির্বাচনী বাতাস বইতে শুরু করে। তবে প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তাদের পক্ষে প্রচারণার নতুন মাত্রা যোগ হয়। জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য কৃষিবিদ শওকত মোমেন শাহজাহানপুত্র অনুপম শাহজাহান জয় নৌকা আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মালেক মিয়া হরিণ প্রতীক নিয়ে বাসাইল- সখীপুরের প্রতিটি অলিগলি চষে বেড়াচ্ছেন। নিয়মমাফিক রাত পর্যন্ত তাদের পক্ষে চলছে বিরতিহীন মাইকিং। পাশাপাশি দলবেধে নারী-পুরুষের ভোট প্রার্থনা। প্রার্থীদের ছবি ও প্রতীক সম্বলিত পোষ্টারে ছেয়ে গেছে প্রতিটি জনাকীর্ণ স্থান। এ নির্বাচনের তফসিল ঘোষনার পর কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তম মনোয়ন পত্র জমা দিলেও প্রতীক বরাদ্দের পূর্বেই তা বাতিল হয়ে যায়। পরে আওয়ামীলীগের অরেক বিদ্রোহী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক নেতা অধ্যক্ষ সাইদ আজাদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালালে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়ে। পরে অধ্যক্ষ সাইদ আজাদের প্রার্থীতাও বাতিল হয়ে যায়। অনেক ভোটারের ধারণা অধ্যক্ষ সাইদ আজাদ ছিলেন অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী। তার প্রার্থীতা বাতিলের পর ভোটের মাঠের শীর্ষযোদ্ধা এখন নৌকা প্রতীক নিয়ে অনুপম শাহজাহান জয় ও হরিণ প্রতীক নিয়ে আব্দুল মালেক মিয়া। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাসাইলে আওয়ামীলীগের বিভক্তি এখন প্রকাশ্যরূপ নিয়েছে। প্রার্র্থীদের দ’ুজনেই আওয়ামীলীগের হওয়ায় বাসাইলে দলের নেতাকর্মীরাও দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে ভোট চাচ্ছেন। সাংগঠনিকভাবে কড়া নির্দেশ থাকলেও এ উপজেলায় সরকারি দলের অনেক নেতাকর্মীকে গোপন ও প্রকাশ্যে মালেক মিয়ার পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা যাচ্ছে। নৌকা সমথর্ক নেতাকর্মীদের দাবি অধ্যক্ষ সাইদ আজাদের প্রার্থীতা বাতিলে জয়লাভের ব্যাপারে নৌকার সামনে আর কোন বাধা নেই। কিন্তু সাধারণ ভোটারদের ধারণা সখীপুরের একটি বিশাল এলাকায় নৌকার সমথর্কদের অপেক্ষাকৃত চাঙ্গা মনে হলেও এ উপজেলার দক্ষিনাঞ্চল ও বাসাইলে হরিণ প্রতীকের পক্ষ্যে জোড়ালো সমর্থন রয়েছে। তাদের ধারণা এ উপজেলার বিএনপি সমর্থিত সাধারণ ভোটাররা ব্যাপক হারে ভোট কেন্দ্রে গেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মালেক মিয়া নির্বাচনী দৌড়ে বাসাইলে অনেক এগিয়ে থাকবেন তাতে কোন সন্দেহ নেই। তাই দ্’ুউপজেলার গণজোয়ার শেষ পর্যন্ত আব্দুল মালেকের পক্ষ্যেই যাবে। তবে যাই হোক নৌকা ও হরিণ প্রতীকের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ব্যাপারে ভোটাদের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে । কৃষিবিদ শওকত মোমেন শাহজাহানের মৃত্যুতে আসন্ন উপনির্বাচনে এ আসনে জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) থেকে সাইকেল প্রতীকে সাদেক সিদ্দিকী ও মোরগ প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাক্তার লিয়াকত আলী প্রতিদ্বন্দিতা করছেন।




