রাজশাহী প্রতিনিধি : বর্ধিত ফি ও সান্ধ্য কোর্স বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ কর্মীদের দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ২ ফেব্র“য়ারী রবিবার দুপুরে হামলার পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিলে রাতে জরুরি সভায় বসে সিন্ডিকেট। এতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের পাশাপাশি সোমবার সকাল ৮টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের সব হল খালি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সারওয়ার জাহান সজল বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করি শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হল ত্যাগ করবে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে।
উলেখ্য, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান, আইন ও কলা অনুষদের সান্ধ্যকালীন মাস্টার্স কোর্স চালু ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাসহ বিভিন্ন ফি দুই থেকে ৫ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরপর গত ১৬ জানুয়ারি থেকে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। এই আন্দোলন বৃহস্পতিবার ধর্মঘটে গড়ালে শনিবার উপাচার্য বর্ধিত ফি স্থগিতের ঘোষণা দিলেও তা প্রত্যাহার দাবিতে আন্দোলনে অটল থাকার কথা জানায় শিক্ষার্থীরা। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী কয়েক হাজার শিক্ষার্থী রবিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সব অ্যাকাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে খন্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বরে জড়ো হওয়ার পর সকাল ৯টার দিকে পুলিশ তাদের মাইক কেড়ে নেয়। এরপর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের কাছে জড়ো হয়ে মিছিলের প্রস্তুতি নিলে বেলা পৌনে ১২টার দিকে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান রানার নেতৃত্বে একটি মিছিল এসে আন্দোলনকারীদের ওপর চড়াও হয়। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালায় ছাত্রলীগকর্মীরা। এ সময় অস্ত্র হাতে তাদের গুলিও ছুড়তে দেখা যায়। পুলিশের রবার বুলেট ও কাঁদুনে গ্যাসে আহত হন অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী।




