ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাসন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পরও শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় শরিফুল ইসলাম (১৪) নামে এক ছাত্র রক্তাক্ত আহত হয়েছে খোদ প্রধান শিক্ষকের উপুর্যপরি বেত্রাঘাতে। ১৫ জানুয়ারী বুধবার দুপুরে উপজেলার ভারুয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ওই ঘটনা ঘটে। আহত শরিফুলকে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। সন্ধ্যায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বেত্রাঘাতের রক্তাক্ত ক্ষত নিয়ে শরিফুল হাসপাতালের বেডে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। তার সারা শরীরে রক্তাক্ত ফুলা বেদনাযুক্ত জখম রয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র শরিফুল ইসলামকে বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বহিরাগত এক ছাত্রের সাথে কথা বলতে দেখে বুধবার দুপুরে প্রধান শিক্ষক ফজলুল করিম লাইব্রেরীতে ডেকে নিয়ে ৯টি বেত একত্রিত করে বেধড়ক বেত্রাঘাত শুরু করেন। এতে সে রক্তাক্ত আহত হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়লেও থামেনি প্রধান শিক্ষকের উপুর্যপরি বেত্রাঘাত। ওই অবস্থায় শরিফুল গুরুতর আহত হয়ে পড়লে বিদ্যালয়ে হুলস্থুল পড়ে যায়। অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। শরিফুলের মা শিউলি বেগম জানান, আমার ছেলের এক বন্ধু স্কুলে গেলে তার সাথে কথা বলার কারণে তাকে কুকুরের মত নিষ্ঠুরভাবে পেটানো হয়েছে। তিনি ওই নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। এদিকে স্থানীয়ভাবে খোজ নিয়ে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক ফজলুল হকের হাতে ইতোপূর্বে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর আগে সোহেল রানা নামে ওই বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্র তার বেত্রাঘাতে রক্তাক্ত হয়।
এব্যাপারে প্রধান শিক্ষক ফজলুল হকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোর্শেদ তালুকদার রাত পৌণে ৮টায় জনকণ্ঠকে বলেন, ঘটনাটি শোনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনসহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত ছাত্রের খোজখবর ও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




