তাপস চন্দ্র সরকার, চট্টগ্রাম উত্তর : সাংসদ হাজী আ.ক.ম বাহাউদ্দিন বাহার বলেছেন- দেশে ডিজিটাল প্রযু্িক্তর ব্যবহারের ফলে শিক্ষা ক্ষেত্রে এক আমূল পরিবর্তন হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপলদ্ধি করেছিলেন একদিন বাঙালীরাও কেবিনেট সেক্রেটারী ও প্রধান বিচারপতি হবে। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালো রাতে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে জাতির অগ্রগতিকে থামিয়ে দেয়া হয়েছে। এর ফলে স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি মুক্তিযোদ্ধের চেতনাকে নসাৎ করে দিয়েছে। এমপি বাহার বলেন, ৭১’সালে যাদের বাবারা রাজাকার ছিলেন আজকে তাঁদের সন্তানরা রাত ১২টার পর টেলিভিশন দখল করে টক-শোতে গিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তিনি আরো বলেন, কুমিলার কিছু কুলাঙ্গার সন্তানরা রাতে ১২টার পর টিভি দখল করে টক-শো করে জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন। আমার মনে হয়, সারা জাতি তাঁদের কাছে জিম্মি।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে “তুমি কে আমি কে বাঙালী বাঙালী”- এই শ্লোগান দিয়ে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছিল। ঠিক তেমনি নতুন প্রজন্মের সন্তানদেরকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দ্বিতীয় মুক্তিযোদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
তিনি (এমপি বাহার) সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, হলুদ সাংবাদিকতা বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় গণ বিস্ফোরণ ঘটবে। তিনি আরও বলেন, সারাদেশে আজকে মিডিয়া সন্ত্রাস চলছে। আজকে পুলিশের উপর পরিকল্পিতভাবে হামলা করে পুলিশের মনোবল ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার বাড়ীতে একটা ফটকা ফুটালে জামায়াত-শিবিরকে শান্তিতে ঘুমাতে দেয়া হবেনা। আসন্ন দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচেছ। এ ব্যাপারে জনগণকে সজাগ থাকার আহবান জানান তিনি।
স্বাধীনতা রক্ষার জন্যে সকল মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থেকে জীবন দিয়ে হলেও স্বাধীনতাকে রক্ষা করারও আহবান জানান। গত সোমবার মহান বিজয় দিবসে কুমিলা টাউন হল সম্মেলন কক্ষে “সুখী, সমৃদ্ধ, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বজনীন ব্যবহার” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এতে কুমিলা জেলা প্রশাসক মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া’র সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা পরিষদ প্রশাসক আলহাজ্ব ওমর ফারুক, কুমিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার কুন্ডুগোপী দাস, জেলা পুলিশ সুপার টুটুল চক্রবর্ত্তী, আদর্শ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আব্দুর রউফ, কুমিলা ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ড. এ.কে.এম আসাদুজ্জামান, কুমিলা অজিত গুহ কলেজের অধ্যক্ষ আলকাছুর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. জহিরুল ইসলাম সেলিম, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি অ্যাড. রুস্তম আলী, অ্যাড. গোলাম ফারুক প্রমুখ। সবশেষে শিল্পকলা একাডেমীর শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়।




