সেই আসামি কান্তি মারাক কারাগারে মারা গেছেন ২০২১ সালে
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে আদিবাসী শিশু বিথী দিওয়াকে (৮) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুঃসম্পর্কের মামা কান্তি মারাকের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। ১ জুলাই বুধবার দুপুরে হাইকোর্টের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান নেতৃত্বাধীন নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার জন্য গঠিত হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ ওই রায় দেন। আসামি কান্তি মারাক নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী পানিহাতা ফেকামারী এলাকার নীতিশ মান্দার ছেলে।

তবে আসামি কান্তি মারাক ২০২১ সালের ১৬ জানুয়ারি গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে মারা গেছেন। কান্তি মারাকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নালিতাবাড়ীর পানিহাতা এলাকার বাসিন্দা বিএনপি নেতা মো. দেলোয়ার হোসেন। এছাড়া তৎকালীন বিভিন্ন পত্রপত্রিকাতেও কান্তি মারাকের মৃত্যুর খবরটি প্রকাশিত হয়।
মামলার অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালের ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় সীমান্তবর্তী পানিহাতা ফেকামারী এলাকায় বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে শিশু বিথি দিওয়াকে ফুঁসলিয়ে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে তার দুঃসম্পর্কের আত্মীয় কান্তি মারাক। পরে বিথিকে গলা টিপে হত্যা করে বাড়ির পাশে সেচের ড্রেনে ফেলে দেয়। এদিকে খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে কান্তি মারাকের বসতঘরে বিথি দিওয়ার পরিহিত রক্তাক্ত হাফ প্যান্ট ও বাড়ির পাশের ড্রেনে তার লাশ পাওয়া যায়। ওই ঘটনায় কান্তি মারাককে আসামি করে নালিতাবাড়ী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন বিথির নানা প্রজিন্দ্র মারাক। মামলার পর কান্তি মারাককে পার্শ্ববর্তী ফুলপুর উপজেলার এক আত্মীয় বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলার বিচারিক পর্যায়ে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান একমাত্র আসামি কান্তি মারাককে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। এরপর তাকে শেরপুর জেলা কারাগার থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে সেই রায়ের সাত বছরের মাথায় ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে আজ বুধবার মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন হাইকোর্টের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সংক্রান্ত বিশেষ বেঞ্চ।
এদিকে আসামির মৃত্যুর পাঁচ বছর পর হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহালের খবরে তার নিজ এলাকাসহ শেরপুরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দায়িত্বশীল সূত্রমতে, কান্তি মারাকের মৃত্যুর বিষয়টি উচ্চ আদালতে না জানানোর কারণেই এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে।




