নজরুল ইসলাম, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার তালায় ভূল অপারেশনে মাসুম বিল্লাহ (১৩) নামের ৭ম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্র মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। অপারশেনের ১১ দিন পর অবস্থা বেগতিক দেখে রোগীকে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। ডাক্তার বলছেন, “ অপারেশনের দায়িত্ব তার নয়, জনস্বার্থে এগুলো করেন। আর শত শত রোগীর মধ্যে দু’-একটা এমন হতেই পারে। বর্তমানে মাসুম সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছে।

অভিযোগে জানা যায়, জেলার তালা উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের নুর ইসলাম শেখের পুত্র ও সেখানকার এইচএমএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র মাসুম বিল্লাহ দীর্ঘদিন যাবৎ পেটে ব্যথা অনুভব করলে তার মা-বাবা তাকে তালা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তারের পরামর্শে টেকনিশিয়ান আবুল বাসার তার আল্ট্রাসনোগ্রাফি করে জানান,সে নরমল এ্যাপেন্টিসাইডে আক্রান্ত। এর পর গত ৭ এপ্রিল তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে পরের দিন তার অপারেশন করেন হাসপাতালের ডাক্তার প্রতাপ কাশ্যপী। এভাবে সেখানে ১১দিন থাকার পর অবস্থার ক্রমাবনতি হলে কৌশলে ডাক্তার তাকে অন্যত্র পাঠানোর পরামর্শ দেন। এরপর কিংকর্তব্যবিমূঢ় পিতা মাতা তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানকার ডাক্তাররা তাদের জানিয়েছেন,অপারেশনে ভুল ছিল। এব্যাপরে তালা হাসপাতালের ডাক্তার প্রতাপ কাশ্যপী জানান, প্রথমত অপারেশনের দায়িত্ব তার নয়, মুলত জনস্বার্থে তিনি অপারেশন করে থাকেন। তাছাড়া শত শত রোগীর মধ্যে ২/১ জনের অবস্থা এমন হতেই পারে। এসময় তিনি আতœপক্ষ সমর্থণ করে বলেন,পরীক্ষা রিপোর্টে ভুল ছিল।
এদিকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে মাসুম বিল্লাহ। সেখানকার ডাক্তাররা বলছেন,আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য পরীক্ষাপত্র ঢাকা পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট না আসলে কিছু বলা যাবে না বলে জানান,মাসুমের মা তানজিলা বেগম। মাসুমের পিতা নুর ইসলাম শেখ জানান, তিনি একজন দিন মজুর, পরের মৎস্য ঘেরে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। ইতোমধ্যে ছেলের চিকিৎসায় ধার দেনা করে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক টাকা খরচ হয়ে গেছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা ভার বহন করা আর সম্ভব হচ্ছে না। তারাসহ এলাকাবাসী ভুল চিকিৎসার জন্য ডাক্তারসহ সংশ্লিষ্টদের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ দাবী করে জেলা সিভিল সার্জনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।




