শ্যামলবাংলা ডেস্ক : বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে ব্যক্তিগত কম্পিউটারে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে সবচেয়ে জনপ্রিয় উইন্ডোজ এক্সপির নির্বাসন যাত্রা শুরু হয়েছে। এক্সপির নির্মাতা প্রযুক্তি দুনিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট পূর্বঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার থেকে এক্সপির জন্য সব ধরনের সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেওয়া হয়েছে এক্সপি ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে গেলে ম্যালওয়ার আক্রমণের বড় ঝুঁকির ব্যাপারেও সতর্কবার্তা।
এ মুহূর্তে বিশ্বে মোট কম্পিউটার ব্যবহারকারীর ২৭ শতাংশ এক্সপি ব্যবহার করছেন, বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এক্সপিই ছিল এক যুগ ধরে প্রথম পছন্দের। বাংলাদেশে সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় দেড় কোটি কম্পিউটার ব্যবহারকারীর মধ্যে ৭০ শতাংশই এখন পর্যন্ত এক্সপি ব্যবহার করেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে অধিকাংশ ব্যবহারকারীই ক্লোনিং সফটওয়্যার ব্যবহারে অভ্যস্ত হওয়ায় এ মুহূর্তে এক্সপির ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারলেও দ্রুত অন্য কোনো অপারেটিং সিস্টেমে যেতে হবে। সেটা হতে পারে লিনাক্স, ম্যাক কিংবা উইন্ডোজের নতুন সংস্করণ (ভিসতা, ৭ কিংবা ৮)। অপারেটিং সিস্টেম বদলাতে গেলে ব্যক্তিগত কম্পিউটারের সক্ষমতা বাড়াতে বাড়তি ব্যয়ও করতে হবে ব্যবহারকারীদের। এক যুগ ধরে ব্যক্তিগত কম্পিউটারে যত কম খরচে এক্সপি ব্যবহার করা হয়েছে, অন্য কোনো অপারেটিং সিস্টেমে তা সম্ভব নয়। এক্সপি-পরবর্তী উইন্ডোজের যে কোনো সংস্করণের অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহারের জন্য ন্যূনতম ২ দশমিক ৩ গিগাহার্টজ গতির ডুয়েল কোর কিংবা কোর আই থ্রি প্রসেসর ও ২ জিবি র্যাম ব্যবহার করতে হবে। এ মুহূর্তে এ ধরনের সক্ষমতার একটি কম্পিউটার কিনতে মনিটর ছাড়াই খরচ পড়বে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। একই সঙ্গে উইন্ডোজ ৭ কিংবা ৮-এর ক্ষেত্রে ক্লোনিং ভার্সন ব্যবহার করাও বেশ ঝামেলাপূর্ণ। কারণ, মাইক্রোসফট কড়া নজরদারির মাধ্যমে এ দুটি ভার্সনের নকল বা ক্র্যাক অ্যাক্টিভেটর পর্যবেক্ষণ করছে। ক্লোনিং ভার্সন ব্যবহারের কিছু সময়ের মধ্যেই নকল অ্যাক্টিভেটর কাজ করে না। ঝামেলা এড়াতে আসল উইন্ডোজ-৭ ব্যবহার করলে এর দাম পড়বে ৮ হাজার ৫শ টাকা আর উইন্ডোজ-৮-এর দাম পড়বে ৯ হাজার ৫শ টাকা। উইন্ডোজ-৮-এর প্রফেশনাল এডিশন ব্যবহার করতে চাইলে দাম পড়বে ১২ হাজার ৫শ টাকা। লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ফ্রি হলেও এর ব্যবহার পুরো বিশ্বেই এখন পর্যন্ত মাত্র ১ দশমিক ৭ শতাংশ। অপরিচিত এই অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা উইন্ডোজে অভ্যস্ত ব্যবহারকারীর জন্য বেশ জটিল। লিনাক্সের যে কোনো ভার্সন ব্যবহারের জন্য কম্পিউটারের সক্ষমতা ও খরচ উইন্ডোজ-৭ বা ৮-এর প্রায় সমান। আর অভিজাত অ্যাপলের ম্যাক অপারেটিং সিস্টেম সাধারণের ব্যয়সীমার অনেক বাইরে।
মাইক্রোসফটের সতর্কবার্তায় বলা হয়, এখন থেকে এক্সপি ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে গেলে ম্যালওয়ার আক্রমণের বড় ঝুঁকি থাকবে। কারণ, ম্যালওয়ার সুরক্ষায় কোনো সহায়তা মাইক্রোসফট দেবে না। এব্যপারে প্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ ব্যবহারকারী ক্লোনিং সফটওয়্যার ব্যবহার করেন। এক্সপিও ক্লোন করে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশের ব্যবহারকারীরা অবশ্য থার্ড পার্টি ইন্টারনেট সিকিউরিটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে এক্সপির ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবেন।




