কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি : যশোরের কেশবপুরে শহরের চারআনি বাজারের পাশে হরিহর নদীর ওপর ব্রিজটি দীর্ঘ ২ যুগেও নির্মাণ না হওয়ায় স্কুল কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ ১০ গ্রামের ৫০ হাজার মানুষকে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলাকাবাসির দাবীর প্রেক্ষিতে ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণে অর্থ বরাদ্দ হলেও পৌরসভা মেয়রের স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বজনপ্রীতির কারণে ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিলসহ উন্নয়ন তহবিলে অর্থ ফেরৎ গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

জানাগেছে, কেশবপুর পৌরসভার ৯নং বালিয়াডাঙ্গা ওয়ার্ডটি শহরের হরিহর নদীর পূর্বপাশে অবস্থিত। ওই স্থানে ব্রিজ না থাকার কারণে বালিয়াডাঙ্গা, সুজাপুর, মাগুরখালি, কন্দর্পপুর মাগুরাডাঙ্গা, ঘাঘা, খতিয়াখালিসহ ১০ গ্রামের মানুষকে ১৯৯০ সাল থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের পুল দিয়ে পারাপার হতে হয়। তাছাড়া সপ্তাহের ৩দিন হাটবারে চারআনি বাজারে ধানহাট, কাঁচামালের পাইকারী হাট ও বিভিন্ন বীজের হাট বসার কারণে বাজারটির গুরুত্ব অপরিসীম। এলাকার কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাধ্য হয়ে মাথায় করে ওই বাঁশের পুলের ওপর দিয়ে পার হয়ে এ বাজারে আনতে গিয়ে অনেকেই দুর্ঘটনার শিকার হন। ফলে ব্রিজ না থাকায় অনেক কৃষককে ভারী পণ্য প্রায় ৪ কিলোমিটার ঘুরে কেশবপুর শহরে আনতে হয়। এলাকার বাসিন্দা ইয়াছিন আলী ও আব্দুল হাকিম জানান, পৌরসভা গঠনের পর বাঁশের সাঁকোর পরিবর্তে ওই স্থানে বাঁশের পুল নির্মাণ করা হয়। কিন্তু পুলটি অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করার কারণে ভ্যানগাড়ি, মোটর সাইকেল চলাচল করতে পারে না। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রী, হাটুরে পথচারীদের চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়। প্রতিবার ভোটের সময় প্রার্থীরা ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দিয়ে জনগণের ভোটের পাস করার পর আর ফিরে তাকায় না। এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার ২০১২ সালে ওই স্থানে ব্রিজ নির্মাণের জন্য ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। ব্রিজটি নির্মাণের জন্য যশোরের বকুল এন্টার প্রাইজের সত্ত¡াধিকারী বাবুর আলী কাজটি পান। কিন্তু বাবুর আলী কমিশনে কাজটি বিক্রি করে দেন কেশবপুরের একজন সাব ঠিকাদার ও কাউন্সিলরের কাছে। কার্যাদেশ অনুযায়ী রড, পাথর, বালু, সিমেন্টসহ সমুদয় নির্মাণ সামগ্রী সেখানে আনা হলেও পরবর্তীতে ওই কার্যাদেশ বাতিল করেন মেয়র। নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একজন কাউন্সিলর জানান, কাজটি মেয়রের ভাইকে দেয়ার সুপারিশ ছিল। না দেয়ায় কার্যাদেশ বাতিল করা হয়। ঠিকাদার বাবুর আলী জানান, কাজটি বন্ধ করা হলেও এখনও তিনি জামানতের টাকা ফেরৎ পাননি। তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। মেয়রের স্বজনপ্রীতির কারণে পৌরসভার উন্নয়ন কর্মকান্ড থেমে গেছে।
এব্যাপারে মেয়র আব্দুস সামাদ জানান, পানির জন্য ঠিকাদার কাজ করতে না পারায় চারআনি বাজারের পাশে হরিহর নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তীতে ওই স্থানে আরও উন্নত মানের ব্রিজ নির্মাণ করা হবে।




