ads

শুক্রবার , ২১ মার্চ ২০১৪ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

রবিবার কলারোয়ায় উপজেলা নির্বাচন চ্যালেঞ্জ সুষ্ঠু পরিবেশ ও জয়-পরাজয় নির্ভর করছে বেশকিছু ‘যদি’র উপর

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
মার্চ ২১, ২০১৪ ৬:৫৭ অপরাহ্ণ

kkkkkkআরিফ মাহমুদ, কলারোয়া (সাতক্ষীরা) : চ্যালেঞ্জ সুষ্ঠু পরিবেশ এবং বেশকিছু ‘যদি’ এর উপর জয়-পরাজয় নির্ভর করছে বলে মনে করছেন কলারোয়ার রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা। রবিবার কলারোয়া উপজেলা নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১২টি ইউনিয়নের ৬৭টি কেন্দ্রে মোট ১লাখ ৬৪হাজার ৫৪৪ জন ভোটার তাদের ভোটারাধিকার প্রয়োগ করবেন। এ নির্বাচনকে ঘিরে সর্বত্রই চলছে কর্মীসমর্থকদের নানা উদ্যোগ-আয়োজন। সাধারণ মানুষেরও কমতি নেই বিন্দুমাত্র আগ্রহের। ভোটের দিন কী হতে পারে আর কারা নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার যেমন শেষ নেই তেমনি সব মহলে রয়েছে নানান গুঞ্জন, কথা ও অভিমত।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের মুখের কথা ও অভিব্যক্তিতে দু’টি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে আর তা হলো- এক. নির্বাচনের দিন ভোট কেন্দ্র ও কেন্দ্রের বাইরে সুষ্ঠু পরিবেশের চ্যালেঞ্জ এবং দুই. কয়েকটি ‘যদি’ উপর নির্ভর করছে প্রার্থীদের জয়-পরাজয় ও সার্বিক পরিস্থিতি। সাধারণ মানুষেরা অনেকটা আতংকিত ও আশংকায় রয়েছেন ‘সুষ্ঠু নির্বাচন হবে তো?’ তাদের ধারণা ভোটকেন্দ্র ও যাওয়া-আসার পথে আইনশৃংখলা পরিস্থিতিসহ সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক নিশ্চিত করা-ই হবে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ। আর সেটা নিশ্চিত করতে পারলে নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হবেই। কলারোয়ায় এক চেয়ারম্যান প্রার্থী অতিসম্প্রতি তার প্রতিপক্ষ প্রার্থীর প্রতি অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন প্রতিপক্ষ প্রার্থীর কর্মীসমর্থকরা তার কর্মীসমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে গেলে আঙুল, হাত-পা কেটে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার ছেড়া, প্রচার মাইক ভাংচুরসহ নানান হুমকি ও প্রতিবন্ধকতারও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বিভিন্ন স্থানীয় সূত্রও তেমনটি জানিয়েছে। আর তাই নির্বাচন নিরপেক্ষ ও অবাধ করতে সার্বিক সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা বাঞ্চনীয়। সেই সুষ্ঠু পরিবেশের ভোটে যারা-ই নির্বাচিত হবেন তাদেরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত কলারোয়ার সাধারণ ভোটাররা। এমনটা-ই জানালেন অনেকে।
অপরদিকে, বেশ কিছু ‘যদি’র উপর প্রার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ হতে পারে। সাধারণ মানুষ, কর্মীসমর্থক কিংবা কিছু নেতৃবৃন্দের অভিব্যক্তিতে ‘যদি’র বিষয় গুলো ফুটে উঠেছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, কিছু বিএনপি নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি বা তাদের সমর্থকরা নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান ‘যদি’ নড়বড়ে হয়ে পড়ে সেই আশংকায় তারা জোট সমর্থিত জামায়াত নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম মুকুল জয়লাভ করুক- সেটা চাচ্ছেন না। সেক্ষেত্রে তারা গোপনে আ’লীগ সমর্থিত ফিরোজ আহম্মেদ স্বপনকে ভোট দিতে পারেন। আবার বেশকিছু বিএনপি নেতা ‘যদি’ তাদের সমস্যা হয় সেই কারণে সমস্যা না হওয়ার প্রত্যাশায় গোপনে সমঝোতা করে আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের ভোট দিতে পারেন। বিএনপি কর্মীরা দলীয় দুই ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নিয়ে কিছুটা মাথা ঘামালেও তেমন আগ্রহ নেই জোটের চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যাপারে। এক্ষেত্রে বিএনপির কতিপয় নেতৃবৃন্দ প্রকাশ্যে জোটসমর্থিত প্রার্থীর পক্ষে কথা বললেও ভিতরে ভিতরে থাকছেন আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থীর পক্ষেই। আবার বিএনপির কতিপয় নেতার উপর ক্ষোভ, রাগ ও অভিমানের বহিঃপ্রকাশ পেতে পারে আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের প্রতীকে ভোট দেয়ার মধ্য দিয়ে। এছাড়াও গ্রামাঞ্চলের প্রান্তিক পর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের কার্যত কোন সমঝোতার লক্ষণ নেই। কেননা সমঝোতা বা জোটবদ্ধ ভাবে তিন প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা যেমন লক্ষণীয় ছিল না তেমনি প্রান্তিক পর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দদের সাথেও প্রকাশ্যে তেমন যোগাযোগ নেই বললেই চলে। নির্বাচনী প্রচারণার খরচও পাননি প্রান্তিকের নেতাকর্মীরা। ফলে এই ‘যদি’ বাস্তবায়িত হলে বেশ সুবিধা পাবেন আ’লীগের প্রার্থীরা। আবার বেশ কয়েকজন শীর্ষ আ’লীগ নেতৃবৃন্দ ও তাদের অনেক কর্মীসমর্থকরা আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থী জয়লাভ করুক সেটা মনেপ্রাণে চাচ্ছেন না। ‘যদি’ তাদের রাজনৈতিক পথ প্রতিবন্ধকতা হয় সেই আশংকায় কিংবা দলের আভ্যন্তরিণ আধিপত্য বজায় রাখতে কিছু নেতা বা তাদের সমর্থকরা প্রকাশ্যে আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের সমর্থনে থাকলেও গোপনে তাকে পরাজিত করার জন্য বিরোধীপক্ষের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা সুবিধা পেতে পারেন। আবার আ’লীগ ঘরনার কিছু ব্যক্তিরা দলের কতিপয় নেতৃবৃন্দের উপর বিরক্ত হয়েও ভোট ঘুরিয়ে দিতে পারেন। স্থানীয় অনেক হাইব্রিড নেতৃবৃন্দের ঊর্দ্ধতমূলক আচরণ ও কথাবার্তাও ভালো চোখে দেখছেন না সাধারণ জনগণ। দলের কতিপয় নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের ‘ভোট না দেয়ার’ উপর আ’লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের মূল জয়-পরাজয় নির্ভর করছে। এমনটাই অনুমিত হলো অনেকের অভিব্যক্তিতে।
এদিকে, জামায়াতের নেতৃস্থানীয় অনেক ব্যক্তিরা কার্যত পলাতক থাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় যেমন অংশ নিতে পারেননি তেমনি তারা ভোটও কীভাবে দেবেন সেটাও বড় বিষয়। অনেকের নামে মামলা থাকায় গ্রেফতার ও জীবননাশের ‘যদি’র আশংকায় তারা রিস্ক নিতে চাচ্ছেন না। জামায়াত নেতা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীকে কিংবা তার সমর্থকদেরকে নির্বাচনী প্রচারণায় তেমন দেখা যায়নি বললেও ভুল হবে না। আবার সাতক্ষীরাঞ্চলকে নিজেদের শক্তঘাঁটি মনে করে কতিপয় জামায়াত নেতাদের একগুয়েমির কারণে বিএনপির সাথে জোট বা সমঝোতার ঘাটতি থাকায় তার প্রভাবও পড়তে পারে ব্যালটে।
সব মিলিয়ে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ‘যদি’র বিষয়গুলো যার পাল্লায় বেশি যোগ হবে সেই প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। উপজেলার সকল মানুষই চাচ্ছে- একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট গ্রহণের মাধ্যমে যে প্রার্থীরাই জয়লাভ করবে তারাই হবে উপজেলাবাসীর আগামীদিনের সুখ-দূঃখের সাথি। তারা যেন দলের ঊর্দ্ধে উঠে উপজেলার সকল মানুষের জনপ্রতিনিধি হয়। যে প্রার্থী যে দলই করুক না কেন, সকলে কলারোয়ার সন্তান। নির্বাচন পরবর্তী সময়েও নিজেরা যেন একই মায়ের সন্তান হিসেবে মিলেমিশে থাকতে পারে। তবেই সাধারণ জনগণ থাকবে সুখে, নিশ্চিন্তে।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!