মোঃ আমির হোসেন আমু, দেবিদ্বার (কুমিল্লা) : কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা সদরের প্রাইভেট হাসপাতাল ‘দেবিদ্বার মেডিকেল সেন্টারে’ গত ১০মার্চ রাতে অবহেলা ও ভুল চিকিত্সায় যুবদল নেতা ও দেবিদ্বার সুজাত আলী সরকারী কলেজ’র সাবেক জিএস ইউনুছ সরকারের মৃত্যুর পরবর্তী সৃষ্ঠ ঘঠনার বিষয়ক সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন’র আলোকে তদন্ত কমিটি সরজমিনে তদন্তে আসছেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় তদন্ত কমিটি বিতর্কীত হাসপাতাল দেবিদ্বার মেডিকেল সেন্টার’ পরিদর্শন শেষে নোংড়া পরিবেশসহ নানা অনিয়মের কারনে ওই হাসপাতাল পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এর আগে রোগী মৃত্যুর ঘটনায় রোগীর স্বজনদের হামলা ও বিভিন্ন অনিয়মের কারনে স্থানীয় প্রশাসন উক্ত হাসপাতালের সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশসহ সিলগালা করে দেন, একই সাথে হাসপাতালের বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দেন। ওই ঘটনায় জেলাপ্রশাসকের নির্দেশে কুমিল্লা জেলা অতিরিক্ত প্রশাসক (রাজস্ব) মোঃ আব্দুল মতিনকে আহবায়ক এবং জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী ও দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দাউদ হোসেন চৌধূরীকে সদস্য করে ৩সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ‘দেবিদ্বার মেডিকেল সেন্টার’র কর্তৃপক্ষ এবং নিহতের স্বজন, প্রত্যক্ষদর্শিসহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের স্বাক্ষপ্রমান গ্রহন পূর্বক তদন্তকাজ শেষ করে ওই নির্দেশ দিয়ে যান।

উল্লেখ্য, গত ১০মার্চ দিবাগত রাতে মোঃ ইউনুছ সরকার’র তার পিত্তথলিতে পাথর অপসারন করতে সন্ধ্যা ৭টায় দেবিদ্বার ‘মেডিকেল সেন্টারএ ভর্তী হন। রাত পৌনে ১০টায় মেডিকেল সেন্টারের দ্বিতীয় তলার অপারেশন থিয়েটারের কক্ষে ইউনুছ সরকারকে নিয়ে ওটি বয় মোঃ রাসেল আহমেদ পলাশসহ অভিযুক্ত চিকিৎসকগন অপারেশনের কার্যক্রম শুরু করেন। ডাঃ শরীফ হাসান (এনেসথেসিয়া) তাকে অজ্ঞান করেন। রাত ১২টায় মোঃ ইউনুছ সরকারের অবস্থা আশংকাজনক ভেবে ডাঃ আনোয়ারুল হক ও ডাঃ শরীফ হাসান ও হাসপাতালের মালিক মেজবা উদ্দিন খোকনসহ হাসপাতালের এ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ে দ্রæত পালিয়ে যায়। কিছুক্ষন পরে চিকিৎসক ডাঃ ওয়াহিদুজ্জামান তাকে মৃতঃ ঘোষনা করেন।
সম্প্রতি ‘ দেবিদ্বার মেডিকেল সেন্টার’ পেছন ডাস্ট বিন থেকে নবজাতক ছেলের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মিতু চক্রবর্ত্তী’র নামে এক প্রসূতীকে ডাঃ শাহিন সুলতানার তত্বাবধানে ওই প্রসূতী দুটি (পুত্র/ কণ্যা) সন্তানের জন্ম দেন।। সকালে প্রসূতীর স্বামী শ্যামল চক্রবর্ত্তী তার মেয়ে সন্তানকে দেখতে পেলেও তার মৃতঃ পুত্র সন্তানের খোঁজ নিতে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার সন্তান দেখাতে পারেননি। স্থানীয়রা জানান, এ হাসপাতালে পেছনে প্রায়ই নবজাতকের লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়, ডাঃ শাহিন সুলতানাসহ অপরাপর চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসার কারনে অনেক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় রোগীর পরিবারের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রায়ই দেন দরবার করতে দেখা যায়। সামাদ ম্যানশন ও হাসপাতালের মালিক প্রভাবশালী হওয়ায় কোন ঘটনাই বাড়তে দেয়া হয়না।। স্থানীয়রা আরো জানান, হাসপাতালের মালিক মেসবাহ্ উদ্দিন খোকনের স্ত্রী গৃহীনী হলেও তিনি চিকিৎসকদের সাথে থেকে প্রসূতীর অপারেশন শিখেছেন। চিকিৎকের অনুপস্থিতিতে তিনি নিজেও চিকিৎসক সেজে অপারেশন করার অভিযোগ রয়েছে।




