ads

সোমবার , ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ | ২৭শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

কৃষি ব্যাংকের সার্টিফিকেট মামলা : গফরগাঁওয়ের দু’শতাধিক কৃষক বোরো চাষাবাদ ফেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
ফেব্রুয়ারি ৩, ২০১৪ ৮:৩২ অপরাহ্ণ

Mymensingh_District_Map_Bangladeshআজহারুল হক, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে কৃষি ব্যাংকের সার্টিফিকেট মামলার হুলিয়া মাথায় নিয়ে ইরি বোরো ভরা মৌসুমে জমি অনাবাদি রেখে উপজেলার দুই শতাধিক কৃষক পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাদের পরিবার পরিজনের মধ্যেও বিরাজ করছে আতঙ্ক।

Shamol Bangla Ads

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি এবছর ২০ হাজার ৮শ ৩৬ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আলোচিত সার্টিফিকেট মামলার গ্রেফতারী পরোয়ানার কারনে পলাতক দুই শতাধিক কৃষক জমি চাষাবাদ করার সুযোগ না পাওয়ায় কৃষি বিভাগের এবারের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। বছরের এই ভরা মৌসুমে এখনই কৃষকদের উপর থেকে হুলিয়া তোলে না দিলে তাদের পরিবার পরিজন মারাত্মক খাদ্য সংকটে পড়বে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে সংসার চালাতে হলে জমি বিক্রয় ছাড়া তাদের কোন উপায়ান্তর থাকবে না বলে ভোক্তভোগী কৃষক পরিবার জানান।
উপজেলার চরমছলন্দ গ্রামের পলাতক কৃষক আবুল হোসেন বলেন, এক সথে তার পক্ষে ১ লক্ষ্য ১৬ হাজার ৯৮১ টাকা ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। তিনি কিস্তিতে ঋণ পরিশোধের প্রস্তাব দিলে ব্যাংকের স্থানীয় কর্মকর্তারা তা নাকচ করে দিয়ে আবাদি জমি বিক্রি করে ঋণ পরিশোধের জন্য চাপ দেন। এক পর্যায়ে তার বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা (নং-১১৮/১৩-১৪) ঠুকে দেয়া হয়। এঅবস্থায় তিনি উপায়ান্তর না দেখে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। একই গ্রামের আবু সাঈদ জানান, তিনি হালের বলদ বিক্রি করে কিস্তিতে টাকা পরিশোধের উদ্যোগ দেন। কিন্তু ব্যাংক ম্যনেজার ঋণের টাকা এককালীন পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এক সাথে তার পক্ষে লক্ষাধিক টাকা ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যাংক সার্টফিকেট মামলা দায়ের করে (নং-বিকেবি গফরগাঁও,১১৭/১৩-১৪)। বর্তমানে তিনি পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে ভিটে মাটি ছেড়ে পাশ্ববর্তী জেলায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, ব্যাংকের কিছু অসাধু কর্মচারী ও দালাল চক্রের যোগসাযশে অবস্থা সম্পন্ন কৃষকের নামে ভূয়া নামজারি দিয়ে অসংখ্য ঋণ উত্তোলন করা হয়েছে। এমন অনেক কৃষক আছেন যারা ব্যাংক পর্যন্ত চিনেননা। অথচ তাদের নামে কৃষি ব্যাংক খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য নোটিশ দেয়া হচ্ছে। দত্তের বাজার ইউনিয়নের দীঘল বাঁগ গ্রামের জহুর মিয়া জানান, তিনি ব্যাংক থেকে কোনো ধরনের ঋণ উত্তোলন করেননি। অথচ কৃষি ব্যাংকের স্থানীয় কান্দিপাড়া শাখার কর্মকর্তারা তার নামে ঋণ উত্তোলন করে তছরূপ করেছেন। বর্তমানে তাকে সেই ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
এব্যাপারে গফরগাঁও কৃষি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক আব্দুল কুদ্দুসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বকেয়া কৃষি ঋণের টাকা আদায়ের জন্য সরকারের উপর মহলের প্রচন্ড চাপ রয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের বাধ্যবাদকতার কারণে যে কোন উপায়ে বকেয়া টাকা আদায় করা ছাড়া কোন উপায় নেই। সরকার নির্ধারিত বকেয়া আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে তাদের চাকরি চলে যেতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কৃষি ব্যাংকের এই সার্টিফিকেট মামলায় উলে­খযোগ্য সংখ্যক কৃষক পালিয়ে বোড়ানোর কারণে এবারের লক্ষমাত্রায় কোন প্রভাব পড়বে কিনা এব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাু সাইফুল ইসলাম বলেন, এক্ষেত্রে কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রার উপর তেমন কোন প্রভাব পড়বে না। তবে ইরি-বোরো মৌসুম শেষ হলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলে ভাল হতো।

Need Ads
error: কপি হবে না!