গতির পাশাপাশি বাউন্সারে ব্যাটারদের ভড়কে দিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে আলোড়ন তুলেছেন নাহিদ রানা। পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার পর এবার জিম্বাবুয়েও টের পেল রানার আগুন। হারারেতে আজ প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে শুধু ধসিয়েই দেননি। নাম লিখিয়েছেন রেকর্ড বইয়ে।

ক্যারিয়ারে প্রথম পাঁচ ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেওয়া রানার বদলে যাওয়ার শুরু এ বছরের মার্চে পাকিস্তান সিরিজ। পাকিস্তান-নিউজিল্যান্ডের পর এবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেও নিলেন ফাইফার। এবার তো ক্যারিয়ারসেরা বোলিংই করেছেন তিনি। ১০ ওভারে ২১ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। ওয়ানডেতে ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে রানা ছাড়িয়ে গেলেন সাকিব আল হাসান-জিয়াউর রহমানকেও। সাকিব-জিয়ার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তাদের মাঠে ওয়ানডেতে ৫ উইকেট থাকলেও কেউই ৬ উইকেট নিতে পারেননি। আজ রানার রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ে গুটিয়ে গেল ১৪১ রানে।
হারারেতে আজ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও বেন কারেন ৪১ বলে ৩৬ রানের জুটি গড়েন। সপ্তম ওভারের তৃতীয় বলে মিরাজের দুর্দান্ত এক থ্রোতে ভাঙে এই উদ্বোধনী জুটি। তাসকিন আহমেদের বল মিড অফে ঠেলে সিঙ্গেল নিতে যান বেনেট। সরাসরি থ্রোতে নন স্ট্রাইক প্রান্তের স্টাম্প ভেঙে কারেনকে (১৮) রানআউট করেন মিরাজ।

কারেন ফেরার ঠিক পরের বলেই তাসকিন আহমেদ পেয়েছেন উইকেটের দেখা। সপ্তম ওভারের শেষ বলে বেনেটকে (১৭) ফেরান তাসকিন। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সহজ ক্যাচ ধরেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এরপর নবম ওভারের প্রথম বলে ক্রেগ আরভিনকে বোল্ড করেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ এই পেসার। আরভিন মেরেছেন গোল্ডেন ডাক।
তাসকিনের পরে রানা দেখাতে থাকেন তাঁর আগুন। সিকান্দার রাজা (১), ওয়েসলি মাধেভেরে (০), ক্লাইভ মাদান্দে (২), ইনোসেন্ট কাইয়া (২৬), ব্রাড ইভান্স (৩)—এই পাঁচ ব্যাটারকে ড্রেসিংরুমের পথ দেখিয়েছেন বাংলাদেশের
টেস্টের লজ্জা ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ—ওয়ানডে সিরিজ শুরুর আগে গতকাল সংবাদ সম্মেলনে এভাবেই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন নাহিদ রানা-তাসকিন আহমেদরা। সফরকারীদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চোখে রীতিমতো সর্ষেফুল দেখেছে জিম্বাবুয়ে।




