ads

শনিবার , ১৩ জুন ২০২৬ | ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ক্রিকেটার নাঈমকে মারধরের নেপথ্যে ‘সোনা চোরাচালানের তথ্য’

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জুন ১৩, ২০২৬ ৮:০৬ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে হেনস্তা ও মারধরের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সোনা চোরাচালানের একটি চালান আটকের উদ্দেশ্যে বসানো চেকপোস্টে ভুল সন্দেহের শিকার হন এই ক্রিকেটার। পরিচয় দেওয়ার পরও ওসির নির্দেশে তাকে মারধর করে থানায় নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

Shamol Bangla Ads

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিমানবন্দর দিয়ে প্রায়ই সোনা চোরাচালানের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাতেও সোনার একটি চালান পাচারের তথ্য পেয়ে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে চেকপোস্ট বসানো হয় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমানের নির্দেশে। ওই অভিযানে খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য এবং সোর্স অংশ নেন।

সূত্র জানায়, বিমানবন্দরে থাকা সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থামান ওই পুলিশ সদস্যরা। ওই অটোরিকশাতেই ছিলেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। পুলিশ সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, নাঈম তার পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করছেন বা ভুয়া পরিচয় দিচ্ছেন। এরইমধ্যে নাঈমকে নিয়ে বাকবিতণ্ডার মধ্যে লোকজন জড়ো হয় ঘটনাস্থলে। তাদের অনেকে নাঈমকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার বলে শনাক্তও করেন। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেনি পুলিশ। বরং সেখানে থাকা পুলিশের সোর্স নাঈমকে পেটানও।পরে ওসি আরিফুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে নাঈম হাসানাকে থানায় নিয়ে যান এসআই শফিকুল ইসলাম। থানায় নেওয়ার পরও নাঈম নিজেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দেন। নিজের পরিচয়পত্র দেখানোর পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে নাঈমকে হুমকি দিয়ে চোখ নামিয়ে কথা বলতে বলেন ওসি। ঠিক ওই মুহূর্তেই ওসির মোবাইলে একটি কল আসে। ফোনে কারও সাথে কথা বলার পর ওসির সুর পুরোপুরি চেঞ্জ হয়ে যায়। তখন উনি আমাকে বলেন, ‘ভাইয়া আপনি বসেন।’ অথচ প্রথমে ওনার আচরণ ছিল অন্যরকম।

Shamol Bangla Ads

অভিযানের বিষয়ে ওই এসআই আমাকে কিছু জানাননি। রাতে কাজ শেষে আমি থানা থেকে বের হবো এমন সময়ে তাকে ধরে নিয়ে আসে এসআই শফিকসহ তার টিম। এ সময় আমি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি এবং পরিচয় পেয়ে তাকে ছেড়ে দিই। নগর পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সোনা চোরাচালানের তথ্যের ভিত্তিতেই ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। তবে ধারণা করা হচ্ছে, যে অটোরিকশায় নাঈম ছিলেন সেটিতে কোনো চোরাকারবারি ওঠার কথা ছিল অথবা আগে কোনো চোরাকারবারি নেমে যাওয়ার পর সেখানে নাঈম উঠেছিলেন। এ কারণেই তিনি পুলিশের সন্দেহের মধ্যে পড়েন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বিমানবন্দর ফেরত যাত্রীদের লক্ষ্য করে তল্লাশির বিষয়ে আগে থেকেই তথ্য ছিল। সাধারণত এ ধরনের অভিযান ডিবি পুলিশ বেশি পরিচালনা করে থাকে। তবে ওসি আরিফ খুলশী থানায় যোগ দেওয়ার পর থেকে প্রায় সময় অভিযানে নামেন। তার আওতাধীন এলাকায় লালখান বাজার ফ্লাইওভারে চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে বিমানবন্দরে যাতায়াতকারীদের থামানো হয়। খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন বলেন, সোনা বহনের তথ্য পেয়েই ওসি স্যারের নির্দেশে এসআই শফিকুল ইসলাম অভিযান পরিচালনা করেন। তার নির্দেশেই নাঈমকে থানায় নেওয়া হয়।

তবে খুলশী থানার ওসি আরিফুর রহমানের দাবি উল্টো। তিনি দাবি করছেন এই অভিযানের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। ওসি বলেন, অভিযানের বিষয়ে ওই এসআই আমাকে কিছু জানাননি। রাতে কাজ শেষে আমি থানা থেকে বের হবো এমন সময়ে তাকে ধরে নিয়ে আসে এসআই শফিকসহ তার টিম। এ সময় আমি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি এবং পরিচয় পেয়ে তাকে ছেড়ে দিই। আমার নির্দেশনা না নিয়ে অভিযানে যাওয়ায় ওই এসআইয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে ওসির এই বক্তব্যের সঙ্গে নাঈমের হাসানের বাবার বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। নাঈমের বাবা অভিযোগ করে বলেন, থানায় এসে পরিচয় দেওয়ার পরও ওসি আরিফ হোসেন আমার ছেলেকে অপমানজনক কথা বলেছেন।

নাঈম হাসানের বাবা মাহবুব আলম বলেন, রাতে খবর পেয়ে আমি দ্রুত থানায় যাই। পুলিশ আমাকে প্রথমে থানায় ঢুকতেই দেয়নি; দূরে গিয়ে বসতে বলে। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে থানায় প্রবেশের সুযোগ পাই। জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় পাওয়ার পরও আমার ছেলেকে ন্যাক্কারজনকভাবে মারধর করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। থানায় এসে পরিচয় দেওয়ার পরও ওসি আরিফ হোসেন আমার ছেলেকে অপমানজনক কথা বলেছেন।

শুক্রবার রাতে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফিরে বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় যাচ্ছিলেন নাঈম। রাত সাড়ে ১১টার দিকে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে তাকে বহনকারী অটোরিকশা থামানো হয়। এর পরে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়ে নাঈম হাসান বলেন, আমি পুলিশকে বললাম, আপনি আমার ব্যাগ চেক করেন দরকার হলে। আমাকে গলা টিপে ধরে বললো– ‘তুই গাড়িতে ওঠ’। এই বলে আমাকে গাড়িতে তুলল। আমি “আপনি আমার গলা টিপে ধরছেন কেন” বলে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে গেলাম। এরপর ওরা গলা টিপে ধরেই আমাকে মেরেছে এবং হেনস্তা করেছে। পুলিশ ছিল দুজন, আরেকজন পাঞ্জাবি পরা মানুষ ছিল। ও কোনো পরিচয় দেয়নি, মারছিল পাইপ দিয়ে। পরে ১০০-২০০ মানুষ ছিল সেখানে, তারা আমার পরিচয় দিয়েছে, তবুও আমাকে মারছিল। বলছিল “তুই আসামি, কথা বলবি না”। আমি আইডি কার্ড দেখিয়েছি, তাও ওরা আমাকে মারছিল।’

নাঈম হাসান বলেন, ‘গাড়িতে থাকতেই ওসির সঙ্গে কথা বলেছে, উনি থানায় নিয়ে আসতে বলেন। এরপর আমাকে ব্যাগসহ এখানে (থানায়) এনে বলা হয় “স্যার (ওসিকে) নিয়ে আসছি।” আজ পর্যন্ত পুলিশ, আর্মি আমাদের ডাকলে দাঁড়াই, উনারা চেক করে ছেড়ে দেয়। কিন্তু গায়ে হাত দেবে কেন? সোর্সটা মেরেছে, পুলিশও লাঠি দিয়ে মেরেছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই। এটা স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার কিছু নেই। আজকে আমাকে মেরেছে, আরেকদিন অন্য কাউকে মারলে তার জন্য কেউ আসবে?’ নাঈম হাসানের অভিযোগ— গায়ে হাত দেবে কেন? সোর্সটা মেরেছে, পুলিশও লাঠি দিয়ে মেরেছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ ঘটনায় শনিবার সকালে নাঈমের ভাই সাব্বির আলম বাদী হয়ে খুলশী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও পুলিশ সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে। অভিযোগে মারধর ও অপহরণের চেষ্টার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মামলার পর খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল ও অভিযানে থাকা আরেক পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, নাঈম ন্যায়বিচার পাবেন। পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন, এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশিং প্রক্রিয়ায় কাউকে মারধরের সুযোগ নেই। চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যরা গিয়েছিলেন কি না, তথ্যের উৎস কতটা নির্ভরযোগ্য ছিল এবং অভিযান পরিচালনার প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না—সব বিষয় যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুলিশ সদস্যরা চরম অপেশাদার আচরণ করেছেন
পুলিশের এ আচরণের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর আজ (শনিবার) বেলা ১১টার দিকে নাঈম হাসানের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় যান সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। সেখানে তিনি স্বীকার করেন, পুলিশ সদস্যরা চরম অপেশাদার আচরণ করেছেন। কমিশনার বলেন, জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অভিযুক্ত তিন পুলিশ সদস্যকে ইতোমধ্যেই দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত একজনকে আটক করা হয়ছে। এ ঘটনায় বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

সিএমপির একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৯-২০ সালের দিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে পরিদর্শক আরিফুর রহমান দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এলাকা কোম্পানিগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন। ওই সময়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ওসিও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০২১-২০২২ সালে কুমিল্লার দেবিদ্বার থানার ওসি ছিলেন আরিফুর। ওইসময় ওই এলাকার চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. জসিম উদ্দিন সরকারের কাছ থেকে স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে ১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছিলেন। বিষয়টি পরবর্তীতে জানাজানি হলে পুলিশ সদরদপ্তর তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক ব্যবস্থা নেয়। পরবর্তীতে সিএমপির বিশেষ শাখাতেও কাজ করেন তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হলে হঠাৎ নিজেকে ছাত্রদলের সাবেক নেতা বলে পরিচয় দিতে থাকেন তিনি। এই পরিচয়ে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানায় যোগ দেন তিনি। সেখানেও ভূমি দখল এবং মাদক কারবারিদের সহায়তার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ সময়ে তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনও করেন ভুক্তভোগীরা। এ ছাড়া নিজের সহকর্মী ও পার্শ্ববর্তী থানা পাঁচলাইশের ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানকে নিয়ে বিষোদগার করেন তিনি। তালিকাভুক্ত এক সন্ত্রাসীর সঙ্গে ওসি আরিফের একটি কথোপকথন ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মীকে নিয়ে তার নানা আপত্তিকর মন্তব্যও শোনা যায়।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!