শ্যামলবাংলা ডেস্ক : টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্যায়ের প্রস্তুতি ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। ২৪ জানুয়ারি থেকে প্রথম দফায় বিশ্ব ইজতেমা শুরু হবে। আয়োজক কমিটির সদস্য মো. গিয়াস উদ্দিন ওই তথ্য জানিয়ে বলেন, ২২ জানুয়ারির মধ্যে ময়দানের সব কাজ শেষ হবে। ২৪ জানুয়ারি থেকে মুসলিরা ইজতেমা ময়দানে যেন নিজ নিজ জেলার নির্ধারিত খিত্তায় অবস্থান নিতে পারেন, সে ব্যবস্থাও দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। ইজতেমা উপলক্ষে ময়দানে হাজার হাজার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ছাত্র, শিক্ষক ও ধর্মপ্রাণ মুসলিরা স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে যাচ্ছেন। ১শ ৬০ একর আয়তনের বিশাল ময়দানে চটের শামিয়ানা টানাতে তারা দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন।

আয়োজক কমিটির সদস্য মাহফুজুল ইসলাম জানান, ৩২টি জেলার মুসলিরা প্রথম পর্বের ইজতেমায় আসবেন। তারা অবস্থান করবেন ৪০টি খিত্তায়। খিত্তা নম্বরসহ জেলাগুলো হলোথ গাজীপুর (১-২), ঢাকা (৩-১২), সিরাজগঞ্জ (১৩), ফরিদপুর (১৪), নরসিংদী (১৫), কিশোরগঞ্জ (১৬), রাজবাড়ী (১৭), শরীয়তপুর (১৮), নাটোর (১৯), শেরপুর (২০), দিনাজপুর (২১), হবিগঞ্জ (২২), রংপুর (২৩), লালমনিরহাট (২৪), গাইবান্ধা (২৫), জয়পুরহাট (২৬), রাজশাহী (২৭), সিলেট (২৮), চাঁদপুর (২৯), ফেনী (৩০), চট্টগ্রাম (৩১), বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি (৩২), বাগেরহাট (৩৩), কুষ্টিয়া (৩৪), নড়াইল (৩৫), চুয়াডাঙ্গা (৩৬), যশোর (৩৭), ভোলা (৩৮), বরগুনা (৩৯) ও ঝালকাঠি (৪০)।
বিদেশি মেহমান : ইজতেমা ময়দানের উত্তর-পশ্চিম কোণে বিদেশি অতিথিদের জন্য লোহার পাইপ ও টিন দিয়ে বিশেষ তাঁবু তৈরি করা হচ্ছে। তাঁবুগুলো উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও আরামপ্রদ করে তোলা হবে বলে ইজতেমা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
কাঁচা-পাকা টয়লেট : মুসলিদের জন্য আগের দোতলা পাকা টয়লেটগুলো ৩ তলা করা হচ্ছে। নতুন করে আরও ৩ টি ৩ তলা টয়লেট তৈরির কাজ চলছে। মুসলিদের অবাধ চলাচলের জন্য তুরাগ নদে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যদের ৮টি পন্টুন সেতু তৈরির কাজ প্রায় শেষ।
যাতায়াত : মুসলিদের যাতায়াতের জন্য থাকবে বিশেষ ট্রেন ও বিআরটিসির বিশেষ বাস সার্ভিস। গাজীপুর জেলা পুলিশ সুপার আবদুুল বাতেন বলেন, সেনাবাহিনী, র্যাব, পুলিশ, আনসার ও সাদা পোশাকে কয়েক হাজার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে থাকবে প্রায় ৬০টি ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা। থাকবে উচ্চ টাওয়ার থেকে র্যাবের পর্যবেক্ষণ দল। এ ছাড়া ইজতেমা চলাকালে আকাশপথে টহলে থাকবে র্যাবের হেলিকপ্টার।
ইজতেমার প্রথম পর্ব ২৪ জানুয়ারি শুরু হয়ে ২৬ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। এর পর ৪ দিন বিরতি দিয়ে ৩১ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ইজতেমার দ্বিতীয় পর্ব ২ ফেব্রুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হবে।




