ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেরপুরের দুটি আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে পাঁচ প্রার্থীর। নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল পর্যালোচনায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে শেরপুর-১ (সদর) আসনে তিনজন এবং শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনে দুইজন প্রার্থী জামানত হারাচ্ছেন।

এ বিষয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার দুপুরে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান জানান, নির্বাচনী বিধি মোতাবেক কোনো প্রার্থী ওই আসনের প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের একভাগ ভোট না পেলে ওই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। সে মোতাবেক যিনি বা যারা নিজ নিজ আসনে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের কম পেয়েছেন তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, শেরপুর-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন ৬ জন। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৭৫ হাজার ১৩৬টি। সে হিসেবে জামানত রক্ষা করতে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগের সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ৩৯২ ভোট। এর মধ্যে ১ লাখ ২৭ হাজার ৮১১ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৩৪২ ভোট। এছাড়া ৬২ হাজার ৪১৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

আর জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহমুদুল হক মনি লাঙল প্রতীকে পেয়েছেন ৭৫১ ভোট, এনসিপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার লিখন মিয়া শাপলা কলি প্রতীকে পেয়েছেন ৪৫৬ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইলিয়াস উদ্দিন কাপপিরিচ প্রতীকে পেয়েছেন ২০৫ ভোট। যে কারণে এ তিনজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে। অবশ্য এনসিপি প্রার্থী সময়স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করতে পারায় পরবর্তীতে নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। এছাড়া মো. ইলিয়াস উদ্দিন নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদের পক্ষে কাজ করেন।
এছাড়া শেরপুর-২ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিলেন ৪ জন। এ আসনে মোট ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৭২২টি। সে হিসেবে জামানত রক্ষা করতে প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৯ হাজার ৯০ ভোট। তাদের মধ্যে ১ লাখ ১৮ হাজার ৪৭২ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী প্রকৌশলী ফাহিম চৌধুরী। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মু. গোলাম কিবরিয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৪৫৬ ভোট। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল কায়েস পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৭৭ ভোট ও এবি পার্টির ঈগল প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল্লাহ বাদশা পেয়েছেন ১ হাজার ৩৮ ভোট। পর্যাপ্ত ভোট না পাওয়ায় এ দুজনের জামানত বাজেয়াপ্ত হচ্ছে।




