শেরপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্যাতনের মামলায় স্বামীর ৩ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। ২০ মে বুধবার দুপুরে শেরপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট্র বুলবুল আহমেদ ওই রায় ঘোষণা করেন। মো. হান্নান মিয়া (৩২) নামে ওই ব্যক্তিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১(গ) ধারায় ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থ অনাদায়ে আরও ৩ মাসের দন্ডাদেশ প্রদান করেন। দন্ডিত মো. হান্নান মিয়া ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার চরগুরুপপুর গ্রামের মো. আজিজুল হক হকের ছেলে। রায় ঘোষণাকালে মামলার একমাত্র আসামী হান্নান পলাতক ছিলেন।

রায় ও সাজার আদেশটি নিশ্চিত করেছেন বাদী পক্ষের নিযুক্ত আইনজীবী রফিকুল ইসলাম আধার। তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সর্বশেষ সংশোধনী মোতাবেক ১১ (গ) ধারায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে বিচার্য কোনো মামলায় শেরপুরে এটিই প্রথম রায়।
আদালত সূত্র জানায়, প্রায় সাড়ে চার বছর আগে সাজাপ্রাপ্ত হান্নান মিয়ার সাথে নালিতাবাড়ী উপজেলার কাপাসিয়া গ্রামে মৃত আব্দুস ছালামের মেয়ে মোছা. কামরুন্নাহারের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পর থেকে হান্নান স্ত্রীর প্রতি উদাসীন হয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিলেন। একপর্যায়ে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টায় গৃহবধূ কামরুন্নাহারের কাছে ২ লাখ টাকা যৌতুক আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তাকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করা হয়। পরে কামরুন্নাহার নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসা গ্রহণ করেন এবং একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর নালিতাবাড়ী সি. আর আমলী আদালতে একটি নালিশী মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি সরাসরি আমলে গ্রহণ করে আসামির প্রতি হাজির হওয়ার নোটিশ দেন।

পরবর্তীতে আসামী হান্নান মিয়া আমলী আদালতে হাজির হয়ে আপোষের শর্তে জামিন নিলেও আপোষ ভঙ্গ করে পলাতক হয়। বিচারিক আদালত আসামীর অনুপস্থিতিতে চার্জ গঠন এবং বাদীসহ ৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।




