শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি শেরপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. মাহমুদুল হক রুবেলসহ ৪০ জনকে আগাম জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। ২ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিচারপতি কামরুল হোসেন মোল্লা ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই আদেশ দেন। আদালত আসামিদের পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল পর্যন্ত অথবা আগামী ৬ সপ্তাহের জন্য এই জামিন মঞ্জুর করেছেন।

আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। এর আগে রবিবার এই মামলায় আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন মাহমুদুল হক রুবেলসহ ৪০ জন আসামি। সোমবার দুপুরে জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট মো. রেজুয়ানউল্লাহ।
অপরদিকে জামায়াত নেতা হত্যা মামলায় প্রধান আসামি বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ ৪০ জনের জামিনের প্রতিবাদ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মামলার বাদী নিহতের স্ত্রী মারজিয়া। সোমবার বিকেলে শেরপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ওই সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি আমার স্বামী মাওলানা রেজাউল করিমকে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। আমার স্বামীকে হারিয়ে আমার পরিবার ও এলাকাবাসী এখনো শোকাহত। রক্তের দাগ না শুকাতেই আমি শুনতে পেলাম আমার স্বামীকে যারা সরাসরি হত্যা করেছে তাদেরকে মহামান্য হাইকোর্ট জামিন দিয়েছেন। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার চলে যাওয়ার পরও কাদের ইশারায় হত্যাকারীদের জামিন দেওয়া হলো। তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলকে ওই আসামিদের জামিন বাতিলের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণেরও দাবি জানান। তিনি হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, রেজাউল করিমের রক্ত বৃথা যেতে পারে না, ন্যায় বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের প্রতিবাদ চালিয়ে যাব।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা হাফিজুর রহমান, মাওলানা রেজাউল করিমের ভাগ্নী রেশমা আক্তার রিতু, ভাই আহসান ইসলাম, বাবা মাওলানা আব্দুল আজিজ, আট বছরের মেয়ে মানহা ও তিন বছরের ছেলে মোছাদ্দিকসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি বিকালে শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম। পরে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। পরে ওই ঘটনায় ৩১ জানুয়ারি বিএনপি প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলকে প্রধান আসামি করে ২৩১ জনকে স্বনামে এবং ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামিসহ নিহত জামায়াত নেতার স্ত্রী মারজিয়া ঝিনাইগাতী থানায় মামলা দায়ের করেন।




