উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে ক্ষমা চাইতে আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন। তিনি বলেছেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে ঘিরে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আপত্তিকর মন্তব্য করায় তাকে নগরবাসীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। ২৫ জুন বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জরুরি সংবাদ সম্মেলন তিনি ওই আহবান জানান।

ইশরাক হোসেন বলেন, একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বক্তব্য বহুল প্রচারিত হয়েছে। সেখানে তিনি বেশ কয়েকটি আপত্তিকর কথা বলেছেন। আসিফ বলেছেন, বিএনপির এক নেতার ইন্ধনে ইশরাকের আন্দোলন হয়েছে। এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ঢাকার হাজার হাজার ভোটারকে চরম অপমান করা হয়েছে। দিনের পর দিন আন্দোলন করা ঢাকার এই জনগোষ্ঠীকে একটি বাক্য উচ্চারণের মধ্য দিয়ে নাগরিক থেকে পশুর মর্যাদায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটার জন্য তাকে অবশ্যই নাগরিকদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আসিফ দাবি করেছে আমাকে মিস গাইড করা হয়েছে। এই বক্তব্যর মধ্য দিয়ে তিনি আমাকে হেয় করেছেন। ঢাকাবাসীর এই আন্দোলনকে এভাবে অপমান করায় তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এই অবমাননা করার জন্য তাকে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপি এই নেতা বলেন, স্থানীয় সরকার দাবি করেছেন কুমিল্লার এক বিএনপি নেতা আমাকে প্ররোচনা দিয়েছেন। পাশাপাশি আন্দোলনের জন্য আমাকে অর্থ ও লজিস্টিক সাপোর্ট দিয়েছেন। উপদেষ্টার কাছে তার প্রমাণও রয়েছে নাকি। এই প্রমাণ তাকে জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে, তা না পারলে প্রকাশ্যে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

এদিকে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সোমবার (২৩ জুন) থেকে খুলেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটির নগরভবনের প্রধান ফটক। চালু হয়েছে সেবা কার্যক্রম। পাশাপাশি ইশরাক অনুসারীদের অবস্থান কর্মসূচিও চলমান রয়েছে। গত ১৫ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটির নগর ভবন থেকে দেওয়া সব নাগরিক সেবা বন্ধ ছিল। জরুরি প্রয়োজনে এসে এ সময় সেবাপ্রার্থী নাগরিকদের বারবার ঘুরে যেতে হয়েছে। ওইসময় ইশরাকপন্থি কর্মচারীরা নগরভবনের মূল ফটক আটকে রাখার পাশাপাশি প্রতিটি বিভাগে তালা ঝুলিয়ে সেবা কার্যক্রম বন্ধ করে রাখেন। পরে ঈদের বিরতির পর গত ১৫ জুন থেকে ইশরাকের অনুসারীরা নগরভবনে একত্রিত হয়ে ফের অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে শুরু করে। ফলে গত পরশু পর্যন্ত নগর ভবনের প্রধান ফটকসহ অন্যান্য বিভাগে তালা ঝোলানো ছিল। দীর্ঘদিন পর গতকাল প্রধান ফটকসহ অন্যান্য বিভাগের তালা খুলে দেওয়া হয়।




