সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে। গত ৮ অক্টোবর সুন্দরবনে বাঘ গণনার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সুন্দরবনে ১২৫টি বাঘের খোঁজ মিলেছে এবং এর ৫৯ শতাংশই বাগেরহাট জেলার পূর্ব সুন্দরবনে। গণনায় ২১টি বাঘ শাবকের ছবিও পাওয়া গেছে। তবে শাবকের মৃত্যুর হার বেশি হওয়ায় এগুলো গণনায় ধরা হয়নি।

এর আগে ২০১৮ সালের গণনায় সুন্দরবনে ১১৪টি বাঘের খোঁজ পাওয়া যায়। ফলে গত পাঁচ বছরে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১১টি বেড়েছে।
বন বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৮ সালে বাঘ গণনার পাঁচ বছর পর ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে পুনরায় সুন্দরবনে বাঘ গণনা শুরু হয়। সুন্দরবনের ৬০৫টি গ্রিডে এক হাজার ২১০টি ক্যামেরা ৩১৮ দিন পর্যবেক্ষণ শেষে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে বাঘ গণনার মাঠ পর্যায়ের কাজ শেষ হয়।

চলতি মাসের ৮ অক্টোবর ফলাফলে বলা হয়, ক্যামেরায় ধরা পড়া বাঘের ছবি পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ২০২৩-২০২৪ সালের গণনায় সুন্দরবনে ১২৫টি বাঘ রয়েছে। এবারে ক্যামেরা ট্রাপিংয়ে মা বাঘের সঙ্গে ২১টি শাবকের ছবিও ধরা পড়েছে। তবে শাবকের মৃত্যুর হার বেশি বলে এগুলো গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
এর আগে ২০১৮ সালের গণনায় পাঁচটি বাঘ শাবকের ছবি পাওয়া যায়। তার আগে ২০১৫ সালের গণনায় সুন্দরবনে ১০৬টি, ২০১৮ সালের গণনায় ১১৪টি বাঘের খোঁজ পাওয়া যায়। পাঁচ বছরে সুন্দরবনে প্রাপ্তবয়স্ক বাঘের সংখ্যা বেড়েছে ১১টি। বিশ্বে বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী বাঘ। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বের কয়েকটি দেশে তিন হাজার ৮৪০টি বাঘ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) শেখ মাহবুব হাসান বলেন, ‘সুন্দরবনে অনেক জায়গায় মা বাঘের সঙ্গে শাবক দেখা গেছে। বিশেষ করে শরণখোলা রেঞ্জে এক বাঘিনীর সঙ্গে চারটি শাবক দেখা গেছে।’
শরণখোলা সহ-ব্যবস্থাপনা সংগঠনের সভাপতি আব্দুল অদুদ আকন বলেন, ‘সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ হলো, বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকার হ্রাস পাওয়া। এছাড়া বাঘের পর্যাপ্ত খাবার হরিণ বৃদ্ধি পেয়েছে।’
পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) কাজী মুহাম্মদ নুরুল করীম বলেন, ‘সুন্দরবনে বাঘের মূল খাবার হরিণসহ অন্য খাবার ও বাঘের আবাসস্থল অনুকূলে থাকায় এখানে বাঘ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।’
বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক (সিএফ) মিহির কুমার দো বলেন, ‘সুন্দরবনকে তিনটি ব্লকে ভাগ করে বাঘ গণনার কার্যক্রম চালানো হয়। ব্লকগুলো হচ্ছে, শরণখোলা-চাঁদপাই, খুলনা ও সাতক্ষীরা ব্লক। তিনটি ব্লকের মধ্যে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা রেঞ্জ ও চাঁদপাই এলাকার বনে ৫০টি বাঘ পাওয়া যায়।’
তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাঘ শাবকের মৃত্যুর হার বেশি এগুলো গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ক্যামেরা ট্রাপিংয়ের মাধ্যমে সুন্দরবনে দুই বছর ধরে চলা বাঘ গণনার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ বিশ্ববাঘ দিবসে (৩০ জুন) ঘোষণার কথা থাকলেও দেশের বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে এবারের ফলাফল দেরিতে ঘোষণা করা হয়েছে।’




