ads

রবিবার , ১৪ জুলাই ২০২৪ | ১লা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

রেজাউল করিম বকুল
জুলাই ১৪, ২০২৪ ৪:৫১ অপরাহ্ণ

৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাৎ

শেরপুরের শ্রীবরদীতে বনবিভাগের বালিজুরি রেঞ্জ অফিসের দুর্নীতির অভিযোগ উঠা সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলামের বিচারের দাবিতে এবং বন বিভাগ কর্তৃক স্থানীয় উপকারভোগী ও কাঠ ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে রেঞ্জ অফিস ঘেরাও, বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। ১৪ জুলাই রবিবার দুপুরে শ্রীবরদী উপজেলার বালিজুরি রেঞ্জ অফিসের সামনে প্রায় ২ শতাধিক স্থানীয় কাঠ ব্যবসায়ী ও উপকারভোগী বিক্ষোভ সমাবেশ এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

Shamol Bangla Ads

সমাবেশে ব্যবসায়ীদের পক্ষে মো. দুলাল মিয়া তার লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যে জানান, বিগত ২০১৮-১৯ হতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বালিজুরি রেঞ্জের অধীনে কাঠ ব্যবসায়ীবৃন্দ দরপত্রের মাধ্যমে প্রায় ২৩০টি উডলট বাগান নিলামে ক্রয় করেন। এসব বাগানের সাকুল্য টাকা বালিজুরি রেঞ্জের তৎকালীন রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের কাছে কাঁচা রশিদের মাধ্যমে মৌখিক নির্দেশনায় ভিন্ন ভিন্ন লটের বিভিন্ন কিস্তি অফিস সহকারী ওহেদুজ্জামান ও রিপনের কাছে জমা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী ওই টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে দুর্নীতিবাজ রবিউল ইসলাম নিজেই আত্মসাৎ করেন, যার পরিমাণ ৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটির মাধ্যমে তদন্ত করে প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়। কিন্তু পরিতাপের বিষয় আমরা ব্যবসায়ীরা টাকা জমা দিলেও তিনি আত্মসাৎ করার পর বন বিভাগ জেনেও আমাদেরকে পুনরায় অর্থ পরিশোধসহ মামলা দেওয়ার হুমকি প্রদর্শন করছেন। সেই সাথে ওই রেঞ্জের প্রায় বিভিন্ন সনের উপকারীদের লভ্যাংশ দেওয়া হয়নি। তাই তদন্তপূর্বক তাদের পরিশোধিত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমাদানসহ তাদের দাখিলকৃত পে-অর্ডার ফেরত দিয়ে এবং মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ থেকে পরিত্রাণ করতে জোর দাবি জানান।

বন মামলায় পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও বনের উপকারভোগীরা বলছেন, বছরের পর বছর বাগানে পাহারা দিয়েছি। টাকা দিয়েছি। শ্রম দিয়েছি। আশায় ছিলাম ১০ বছর একসাথে বেশ কিছু টাকা পাবো। বাগান বিক্রি হলেও আজও টাকা পাইনি। কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে অনেক ঘুরেছি। আমাদের কষ্টের টাকা  আমরা চাই।

Shamol Bangla Ads

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ থেকে শুরু করে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত কয়েক বছরে বালিজুরি রেঞ্জের কর্ণজোড়া, বালিজুরী সদর ও ডুমুরতলা বিটের দুই শতাধিক সামাজিক বনায়নের বাগান দরপত্রের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। রবিউল ইসলাম যার মধ্যে ৫টি লটে ৮ লাখ ৭২ হাজার ৩৬ টাকা, ১০১ টি লটে ৪ কোটি ৩ লাখ ৫৪ হাজার ১০৫ টাকা, ১১৭টি লটে ৪ কোটি ৯৯ লাখ ১৪ হাজার ৫৮ টাকা ও ৬টি লটে ২০ লাখ টাকা সহ মোট ৯ কোটি ৩১ লাখ ৮৭ হাজার ৭৯৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করেন। ওই ঘটনায় উপকারভোগী ও ব্যবসায়ীদের কোন পাকা রশিদ প্রদান করা হয়নি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কাঁচা রশিদ ও মৌখিক কথার ভিত্তিতে টাকা প্রদান করেছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় গঠন করা দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর ময়মনসিংহ বন বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেক বালিজুরী রেঞ্জের বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া রবিউলের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। তবে সেটি থানা পুলিশের এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ায় থানা পুলিশ অভিযোগটি তদন্তের জন্য দুদকে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে অভিযোগটি দুদকের তদন্তাধীন রয়েছে।

এ বিষয়ে বালিজুরি রেঞ্জের বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া বলেন, অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সেই সাথে তার বিরুদ্ধে শ্রীবরদী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। শ্রীবরদী থানা থেকে ঘটনাটি তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের পে-অর্ডার ফেরত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে খুব দ্রুতই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও উপকারভোগীদের সমস্যার সমাধান করা হবে বলে বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সাবেক রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিউল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি। তিনি কোথায় আছেন তারও কোনো খোঁজ মেলেনি।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!