শেরপুরের শ্রীবরদীতে স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার আসামি মো. নাহিদ মিয়াকে (২৩) গ্রেফতাার করেছে র্যাব–১৪। ৯ মার্চ শনিবার ঢাকার উত্তরা পূর্ব থানার সিসেল রেস্টুরেন্ট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। নাহিদ শ্রীবরদী উপজেলার ভায়াডাঙ্গা মন্ডল পাড়ার মো. সোহেল মিয়ার ছেলে। রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. আবরার ফয়সাল সাদী।

র্যাব জানায়, হতদরিদ্র ঘরের সন্তান ওই শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। তার বাবা আরেকটি বিয়ে করে অন্যত্র চলে গেছে। এ কারণে সে তার মা ও ভাইসহ নানার বাড়িতে বসবাস করে। জীবিকার তাগিদে এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ভুক্তভোগীর মা ঢাকায় পোশাক শ্রমিকের চাকরি নেন। আর স্কুলছাত্রী ও তার ভাই শ্রীবরদীর স্থানীয় একটি বিদ্যালয় লেখাপড়া করে। ২০২২ সালে ওই শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
স্কুলে যাতায়াতের সময় অভিযুক্ত নাহিদ মিয়া প্রতিদিন ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতেন। এ জন্য ভুক্তভোগীর মা তার পড়ালেখা বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে গত বছরের ২ মে রাতে ভুক্তভোগীকে অজ্ঞাতনামা একজনকে দিয়ে ডেকে নিয়ে অপহরণ করে গাজীপুরে নিয়ে যান নাহিদ। এরপর হত্যার হুমকি দিয়ে কিছু ভুয়া কাগজপত্রে জোরপূর্বক ওই স্কুল ছাত্রীর স্বাক্ষর নেন। তারপর থেকে ভুক্তভোগীকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে অপরিচিত বাড়িতে ধর্ষণ করতে থাকেন নাহিদ।

একপর্যায়ে ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এরপর তার ওপর অমানবিক অত্যাচার করতে থাকেন নাহিদ। অত্যাচারের একপর্যায়ে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর একই বছরের ১৫ আগস্ট রাতে নাহিদ ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীকে ঢাকা থেকে শেরপুর নিয়ে আসেন। ভোর বেলা অটোরিকশা ভাড়া করে বুক্তভোগীকে তার নানার বাড়ির সামনে মুখ ও হাত পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যান। এ সময় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে নাহিদ মিয়াকে আসামি করে ৯ অক্টোবর শ্রীবরদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে নাহিদ গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন। দীর্ঘদিন পর যৌথ অভিযান চালিয়ে শনিবার রাতে ঢাকা জেলার উত্তরা পূর্ব থানার সিসেল রেস্টুরেন্ট এলাকা থেকে নাহিদ মিয়াকে গ্রেফতার করে র্যাব।
র্যাব-১৪ জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. আবরার ফয়সাল সাদী বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিকে শেরপুরের শ্রীবরদী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। থানা পুলিশ এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।




