তাপস চন্দ্র সরকার, কুমিলা : কুমিলার লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়টি বুধবার রাতে পেট্রোল ছিটিয়ে আগুনে পুড়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এতে ওই কার্যালয়ের কম্পিউটার, আসবাবপত্র, টেলিভিশন এবং গুরত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। পুলিশের দাবি জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা এই নাশকতা ঘটিয়েছে। এদিকে একই ভবনের পাশে নির্বাচন কার্যালয়ে অনেক দিন ধরে নিয়মিত পাহারা দিচ্ছেন পুলিশ। পুলিশ পাহারা থাকা অবস্থায় এমন নাশকতার ঘটনায় উদ্বিগ্ন এলাকাবাসী। অপর দিকে এই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
ইউএনওর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে তিনটার পর যে কোন সময় ওই কার্যালয়ের পেছনের একটি জানালার কাঁচ ভেঙ্গে কক্ষের ভিতর পেট্রোল ছিটিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।
ইউএনওর কার্যালয়ের নৈশপ্রহরী মোফাজ্জল হোসেন জানায়, তিনি রাত তিনটা থেকে সাড়ে তিনটার দিকে ওই কার্যালয়ের বারান্দায় টহল শেষে একই ভবনের উত্তর পাশে (দু’টি কক্ষ পর) একটি কক্ষে ঘুমাতে যান। ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে তিনি ইউএনওর কার্যালয়ে ধোঁয়া দেখে চিৎকার দেন এবং অন্যদের সহায়তায় আগুন নেভান। সংবাদ পেয়ে ইউএনও ঘটনাস্থলে আসেন।
লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, সকাল সাতটার দিকে তিনি আগুন তাঁর কার্যালয়ের নৈশপ্রহরী তাঁকে অগ্নিকান্ডের বিষয়ে সংবাদ দিলে তিনি তাৎক্ষনিক ছুটে কার্যালয়ে আসেন। তবে এর আগেই আগুন নিভিয়ে ফেলে কর্মচারীরা। তিনি জানান, কার্যালয়ের পেছনের দিকে একটি জানালার কাঁচ ভাঙ্গা রয়েছে। ওই জানালা দিয়ে পেট্রোল ছিটিয়ে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে বলে ধারণা করছেন। ভবনের বাইরে জানালা বরাবর মটিতে এক জোড়া জুতা ও দিয়াশলাইয়ের কাঠি পাওয়া গেছে। বিষয়টি তিনি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। তাঁর ধারণা এটি দেশ ব্যাপী জামায়াত-শিবিরের নাশকতারই ধারাবাহিকতা। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের বলেন, এটি জামায়াত-শিবির কর্মীদের দেশ ব্যাপী নাশকতার অংশ। তবে বিষয়টি অত্যন্ত সু²ভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
সংবাদ পেয়ে কুমিলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার ভৌমিক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলী আশরাফ ভূঁইয়া এবং লাকসাম উপজেলা চেয়ারম্যান মজির আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলী আশরাফ ভূঁইয়া জানান, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে লাকসাম থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএস আই) মো. ইকবাল হোসেন এবং পুলিশের তিন কনষ্টেবলকে সাময়িক ভাবে বরখাস্তসহ কুমিলা পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।




