সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষাবাধ হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি সামান্য কমলেও জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তত রয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষাবাধ হার্ড পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি ৫ সেন্টিমিটার কমে তা বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে অব্যন্তরিন নদনদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, পানি কিছুটা কমলেও বন্যা পূর্বাভাসে পানি আবারো বাড়তে পারে। গত কাল রোববার থেকে প্রচুর জোয়ার উজানে যাচ্ছে। যে কারনে পানি বৃদ্ধি পাবে বলে কর্মকর্তারা আশংকা প্রকাশ করছে। বন্যায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৮২ টি ইউনিয়নের মধ্যে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় ২ লক্ষাধিক মানুষ এখন পানি বন্দি। এদিকে চরাঞ্চলের মানুষ এখন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। চরের অধিকাংশ গ্রাম ও বাড়িতে পানি উঠায় এই সকল মানুষেরা তাদের গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছে। এ সকল এলাকার স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, ঘরবাড়ি সহ টিউবয়েল ডুবে যাওয়ায় খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। বন্যা কবলিত মানুষ তাদের সাধারন কাজকর্ম না করতে না পারায় মানবেতর ভাবে জীবন যাপন করছে। যমুনা নদীর ব্রম্মপূত্র বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধের উপর আশ্রয় নেয়া মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সরকারী ভাবে ত্রান তৎপরতা শুরু হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ত্রান সামগ্রী পাঠাতে দেরী হচ্ছে। সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোঃ বিল্লাল হোসেন জানান, ত্রান সামগ্রীর কোন অভাব নেই। সকল বন্যা কবলিত এলাকায় চাল ও নগদ টাকা সহ শুকনো খাবার বিতরন করা হয়েছে। এ ধারা অব্যহত আছে।
জীবনের শেষ প্রান্তে শুকুর আলী চাচা !

খবর, খবর জবর খবর । অথবা শাপমোচন ছবিতে মহানায়ক উত্তমকুমারের গাওয়া গান “শোন বন্ধু শোন, প্রাণহীন এই শহরের ইতি কথা” অথবা বউজিবুড়া ছবির সেই বিখ্যাত গান “আজি গঙ্গাকি,মুজমে যুমনাকি ধারা” এই সকল গান গেয়ে শহর ব্যাপী ঘুরে হাতে পত্রিকা নিয়ে উচ্চস্বরে চিরচেনা কন্ঠে পত্রিকা বিক্রি করতেন শুকুর আলী । যে সবার কাছে শুকুর চাচা নামেই বেশী পরিচিত । আর দুর থেকে ভেসে আসা সেই কন্ঠ শুনেই যে কেও বলে দিতে পারতো এটা শুকুর চাচার কণ্ঠ । গান গেয়ে হাতে পত্রিকা নিয়ে বিক্রি করে জীবন জীবীকা চালানো সেই শুকুর চাচা গত ঈদুল ফিতরে দেশের জনপ্রিয় বেসরকারী টিভি চ্যানেল এটিএন বাংলায় মুন্নি সাহার উপস্থাপনায় আনসার ষ্টার অনুষ্ঠানে গান গেয়ে সিরাজগঞ্জ তথা সারা দেশের মানুষের কাছে আরো বেশী জনপ্রিয় এবং পরিচিত পান । সিরাজগঞ্জ শহরের মোড়ে এবং আনচে কািেচৎকার করে দীর্ঘ প্রায় ৫০ বছর ধরে পত্রিকা বিক্রি করতো সেই শুকুর আলী চাচাকে চেনেন না সিরাজগঞ্জ শহরে এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম রয়েছে । সবার প্রিয় শুকুর আলী চাচা আজ গুরুতর অসুস্থ । একেবারে মনে হয় জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি। গত ঈদের পরে হটাৎ করে জ্বরে পড়েন তিনি তার পর থেকে খাওয়া প্রায় বন্ধ হয়েছে তার। যে পায়ের উপর ভর করে তার বাড়ী বনবাড়িয়া থেকে হেঁটে শহরে এসে পত্রিকা বিক্রি করে আবার বাড়ী ফিরে যেতেন সেই পা দুটি যেন চলার শক্তি হারিয়েছে । পা দ’ুটি শুকিয়ে চিকন হয়ে গেছে । দেহ খান হয়েছে হাড্ডিসার । গতকাল তার বাড়ীতে দেখা করতে গেলে উচ্চস্বরে শিশুর মত কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন চিরচেনা শুকুর চাচা । তার বাঁচার আকুতি যেন ফুরায় না । শুকুর চাচার এখন সম্বল যেন শুধুই চোখের জল । বার বার বলছিলেন আমি সুস্থ হতে চাই, আবার শহরে হেঁটে যেতে চাই । অবোধ শিশুর মত ফ্যাল ফ্যাল করে শুধুই অশ্র“ভরা চোখের কোনে যেন ফুটে উঠে দৃঢ়তার ছাপ তার বাক রুদ্ধ কন্ঠে বলে উঠে সিরাজগঞ্জের সকল মানুষ আমাকে খুব ভাল বাসে তাই আমাকে সুস্থ করতে,আমাকে বাচাঁতে কেও না কেও আসবেই । শুকুর চাচার সহধর্মিনী সুফিয়া বেগম অেেবগ ভরা কন্ঠে বলেন , যে মানুষটা ভোর হলেই শহরে চলে যেতেন ফিরতেন রাতে । তার ধ্যান জ্ঞান ছিল শুধুই পত্রিকা । সেই মানুষটি অসুস্থ টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছিনা তিনি সমাজের সকল মানুষের কাছে শুকুর আলীর সুস্থতার জন্য সব ধরনের সহযোগীতা কামনা করেন । চিরচেনা শুকুর চাচার সিরাজগঞ্জ বাসীর প্রতি এতো ভালবাসা এতো গভীর বিশ্বাসের মুল্য আমরা কত টুকু দিতে পারবো সেটাই বড় প্রশ্ন । আমরা বহু টাকা বহু ভাবে নষ্ট করি একজন শুকুর চাচাকে বাঁচাতে এবং রক্ষায় সমাজের বিত্তবান হ্নদয়বান মানুষ এগিয়ে আসবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার ।
সিরাজগঞ্জে অপহৃতা উদ্ধারসহ ৩ অপহরণকারী গ্রেফতার
গত শনিবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১২, সিরাজগঞ্জ এর সহকারী পরিচালক জনাব আবু সাঈদ এবং সহকারী পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল এর নেতৃতে¦ একটি অভিযান দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জ জেলার সলঙ্গা থানাধীন সিরাজগঞ্জ রোডস্থ বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কের উপর হতে তিনজন অপহরন কারীকে গ্রেফতার করে । গ্রেফতার কৃতরা হলো বগুড়া জেলার শাজাহানপুর থানার গন্ডগ্রাম মিঞা পাড়া গ্রামের মোঃ নজরুল ইসলামের পুত্র মোঃ জাকির হোসেন (১৭), -ফুলদিঘী গ্রামের আব্দুল জলিলের পুত্র আব্দুল্লাহ আল ফারুক (১৭) এবং লতিফপুর কলোনীর মাতুলবুর রহমানের পুত্র মোঃ মনিরুজ্জামান শুভ (১৭) । এ সময় অপহৃতা নূর সাবা স্মরনী (১৬) কে উদ্ধার করে র্যাব-১২’র সদস্যরা । নূর সাবা স্মরনী চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার -গোমাস্তাপুর থানার সামছুল আলমের কন্যাবলে সুত্র জানিয়েছে ।
রায়গঞ্জে পাষন্ড স্বামীর ছুরিঘাতে ২ সন্তানের জননী খুন

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে এক পাসন্ড স্বামীর ছুরিঘাতে ২ সন্তানের জননী খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরন করেছে। এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, উপজেলার সোনাখাড়া ইউপির উটরাহাজিপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের সাথে একই ইউনিয়নের ধলজান গ্রামের মুন্নি খাতুনের সাথে বিবাহ হয়। বিয়ের পর তাদের ঘরে ২টি কন্যা সন্তান আসে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত যৌতুকের লোভে স্ত্রীকে মারধর করে আসছিল পাসন্ড স্বামী। এ ঘটনায় একাধিক বার শালিসী বৈঠক হয়েছে। রবিবার গভীর রাতে পাসন্ড স্বামীর পরিকল্পিত ভাবে ঘুমান্ত অবস্থায় স্ত্রী মুন্নি (২৪) কে শরীলের বিভন্ন্য স্থানে ছুরিঘাত করে কুপিয়ে হত্যা করে। খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার রায়গঞ্জ সার্কেল মোঃ মাহমুমদুল কবির, থানার ওসি মোঃ রাশেদুল বিশ্বাস, এবং তদন্ত ওসি রেজাউদ জামান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এবং লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ মর্গে প্রেরন করেছে। ওসি মোঃ রাশেদুল বিশ্বাস জানান, উক্ত ঘটনায় নিহতর মা বুলবুলী বেগম বাদী হয়ে ঘাতক মেয়ের জামাইকে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। তবে স্বামী পলাতক থাকা এখন তাকে গ্রেফতার করা হয়নি।
রায়গঞ্জে বসতবাড়ীতে অগ্নিকান্ড : ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামালের ক্ষয়ক্ষতি
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে বিদ্যুতের সর্টসার্কিটে একটি বসতবাড়ীতে অগ্নিকান্ডে ঘটেছে। এলাকাবাসী জানান, রবিবার সকাল সাড়ে ৮ টায় উপজেলার সোনাখাড়া ইউপির গোপালপুর গ্রামের মগবেল তালুকদারের নিজ ঘরে থেকে আগুনের সূত্র পাত ঘটে। মূহুতের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লে বসতবাড়ীতে থাকা ঘরগুলোতে আগুনে পুড়ে যায়। এতে নগদ অর্থ সহ ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল পুড়ে ভূসম্মিত হয়েছে। খবর পেয়ে গ্রামবাসী ছুটে এসে ১ঘন্টা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রন করে।
সিরাজগঞ্জে বর্ন্যাত্তদের মাঝে ত্রান বিতরন
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বন্যা কবলিত চারটি ইউনিয়নের বানভাসি মানুষের মধ্যে ত্রান বিতরন করা হয়েছে। রবিবার সকাল নয়টা থেকে দুপুর তিনটা পর্যন্ত উপজেলার খোকশাবাড়ি, কাওয়া খোলা, সয়দাবাদ, কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নে ত্রান বিতরন করা হয়। বন্যা কবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে এই ত্রানগুলো বিতরন করেন সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডাঃ মো ঃ হাবিবে মিল্লাত মুন্না এমপি। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক (ডিসি) বিল্লাল হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বিএসসি, সাধারন সম্পাদক এ্যাড. কে এম হোসেন আলী হাসান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউ এন ও) মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি গাজী আমিনুল হক, সাধারন সম্পাদক আব্দুস সাত্তার শিকদার, জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি নুরুল ইসলাম সজল ও জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আসাদুজ্জামান সোহেলসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সরকার দলীয় নেতৃবৃন্দ। ত্রান বিতরন শেষে অধ্যাপক ডাঃ মো ঃ হাবিবে মিল্লাত মুন্না এমপি সাংবাদিকদের বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন শেষে বানভাসি মানুষের মাঝে ত্রান বিতরন করা হয়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলে বন্যা কবলিত এলাকার কৃষকসহ ক্ষতিগ্রস্থদের পুনর্বাসনের ব্যাবস্থা করা হবে। এ সময় সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চারটি ইউনিয়নে নগদ ১০ হাজার টাকা ও ১৫ মেট্রিক টন চালসহ শুকনো খাবার বিতরন করা হয়।




