ads

মঙ্গলবার , ১৭ ডিসেম্বর ২০১৩ | ১৮ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

বসত বাড়ির আঙিনায় কমলা চাষ করে চমক সৃষ্টি করলেন সাবেক পৌর কমিশনার মানব ঘোষ

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
ডিসেম্বর ১৭, ২০১৩ ৫:১১ অপরাহ্ণ

OLYMPUS DIGITAL CAMERAএম এম মাসুম রেজা, কালিয়া (নড়াইল) : সুঘ্রাণ, উজ্জল রং আর সুমিষ্ট রসালো ফলের কথা মনে হলেই যে ফলটি আমাদের চোখের সামনে ভেসে উঠে তার নাম কমলা লেবু। ভিটামিন সি আর ঔষুধিগুণ সম্পন্ন ফলটি সব বয়সী মানুৃষের পছন্দ।

Shamol Bangla Ads

আমাদের দেশের পাহাড়ি এলাকায় এই ফলের আবাদ হলেও চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে প্রচুর কমলা আমদানী করা হয়। তবে এবার সবাইকে অবাক করে নড়াইল জেলার কালিয়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার মানব ঘোষের বসত বাড়ির আঙিনায় শখের বশে কমলা চাষ করে চমক সৃস্টি করেছেন। কমলার ভারে নূয়ে পড়েছে গাছের ডালপালা। কালিয়ার মাটিতে হওয়া এ কমলা খুবই সুস্বাদু। বাণিজ্যিকভাবে কেউ কালিয়ার মাটিতে কমলা চাষ করলে সহজেই স্বাবলম্বী হওয়া যাবে বলে আশাবাদী কৃষি কর্মকর্তারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মানব ঘোষের বড় কালিয়ার বসত বাড়ির আঙিনায় কমলা গাছ ফলসহ শোভা পাচ্ছে। কমলা গাছে প্রচুর কমলা ধরেছে। কমলাগুলো ইতিমধ্যে পাকতে শুরু করেছে। তাই কমলা গাছ দেখে মনে হচ্ছে যেন সে তার শ্রেষ্ঠ রুপে সেজেছে। গাছে শোভা পাওয়া কমলাগুলোর আকার স্বাভাবিক কমলার মতই। রংয়ে কাঁচায় গাঁঢ় সবুজ, পাকায় হালকা সবুজ ও হলুদ বর্ণের। স্বাদ ও মিষ্টিতে কোন রকম ঘাটতি নেই বিদেশি অন্য কমলার চেয়ে। এর আগে এই অঞ্চলের মানুষের বদ্ধমূল ধারনা ছিল, এখানে কমলা গাছ হয় না, হলেও ফল ধরে না। কিন্তু তাদের ধারনা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। ওই কমলা গাছের কমলা দেখার জন্য প্রতিদিন প্রচুর উৎসুক জনতা মানব ঘোষের বাড়িতে যাচ্ছেন। প্রাণভরে দেখে তারাও কমলা চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এটি কোন্ জাতের কমলা তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করা যায়নি।

মানব ঘোষের সাথে কথা বলে জানা যায়, ৬ বছর পূর্বে গাছটি তার ছেলে বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মাস্টার্স পড়–য়া ছাত্র নান্টু ঘোষ রোপন করেছিলেন। তখন থেকেই নিয়মিত পরিচর্যা করে আসছেন। বিগত তিন বছর ধরে কমলা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে কমলার ফলন বেড়েছে। তিনি আরও জানান, গাছটি মিশ্র মাটিতে লাগানো হয়েছিল। গোয়াল ঘরের পাশে হওয়ায় গোবর থেকে প্রচুর জৈব সার পেয়েছে। তার আঙিনার কমলা দেখে অনেকেই উৎসাহ বোধ করছেন কমলার চাষ করতে। এলাকার ভূমি এবং ভৌগলিক পরিবেশ অনুক‚ল হওয়ায় এই এলাকায় ভাল কমলার ফলনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। এমনকি তিনি নিজেও বিশ্বাস করতে পারেনি কমলা চাষের কথা। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, কালিয়ার মাটিতেও কমলা চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

Shamol Bangla Ads

কয়েকজন দর্শনার্থী জানান, তারাও কমলার চাষ করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। ফলটির যেমন আছে খাদ্যমান ও চাহিদা, তেমনি আছে মূল্যমানও। বাড়ির আঙ্গিনায় কমলাগাছ যথেষ্ট সৌন্দর্য্যবর্ধক, আর কমলা ধরলেতো বাড়ির শ্রী আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তোলে। প্রথমে পরীক্ষামূলক এবং পরে বাণিজ্যিকভাবে কমলার চাষ করার পক্ষে মত দেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা।

উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা জানান, এখানকার ভূমি কমলা চাষের পুরোপুরি অনুকূলে। উপজেলার গ্রাম-গঞ্জের পতিত সামান্য উঁচু জমিতে স্বল্প খরচ ও অল্প পরিশ্রমে কমলা চাষ করা সম্ভব। কালিয়ার মাটির গুণেই কমলা সুস্বাদু। এজন্য সরকারিভাবে কৃষকদের কমলাচাষে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে একদিকে যেমন কৃষকরা কমলা চাষ করে লাভবান হবে। অপরদিকে দেশের কমলার চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণ প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও পৃষ্ঠপোষকতা  পেলে এ উপজেলায় কমলা চাষ বাণিজ্যিক আকারে করা সম্ভব। নান্টু ঘোষ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে সফলতা অর্জনকারী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ শাহীন হোসেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খালিদ সাইফুল­াহ্সহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় এক ডজন কর্মকর্তা গত ২০ নভেম্বর বিকালে ওই কমলা গাছ পরিদর্শন করেছেন। কমলার আকার কিভাবে আরো বড় ও ব্যাপকভাবে চাষ করা যায় সে ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তা পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে জানান।

Need Ads
error: কপি হবে না!