শ্যামলবাংলা ডেস্ক : গ্রামীণ ব্যাংক বিল পাশের পর ইউনুস সেন্টারের ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ড. মুহম্মদ ইউনুস। বিবৃতিতে তিনি গ্রামীণ ব্যাংকের ধ্বংস অবধারিত উলেখ করে বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের আইনে পরিবর্তন আনাকে আমি তীব্র ভাষায় নিন্দা জানাচ্ছি ।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোনয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্তৃত্ব বাড়ানো সহ এখন থেকে গ্রামীণ ব্যাংককে সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আর্থিক হিসাব দিতে হবে সংশোধিত আইনে।
তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক সৃষ্টি করা হয়েছিল গরীব মহিলাদের মালিকানায় এবং তাদের ব্যবস্থাপনায় ওই ব্যাংকে সরকারের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ ছিল না। এ কারণেই গ্রামীণ ব্যাংক জাতিকে আন্তর্জাতিক সম্মানের সুউচ্চ শিখরে নিয়ে যেতে পেরেছিল। এখন সরকার এই আইন পরিবর্তন করে তাতে এমন সব সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে যাতে সরকার এই ব্যাংককে একশতভাগ নিজস্ব নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিতে পারে।

১৯৮৩ সালে এক সামরিক অধ্যাদেশের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের সূচনা লগ্ন থেকেই এ প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন ইউনূস। ২০০৬ সালে তিনি ও গ্রামীণ ব্যাংক দারিদ্র্য বিমোচনের মাধ্যমে শান্তিতে অবদানের জন্য নোবেল পুরস্কার পান।
২০১১ সালের মার্চে অবসরের বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে ইউনূসকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে হেরে যান তিনি।
ক্ষমতায় আসার পর বর্তমান সরকার সামরিক শাসনামলে নেয়া বিভিন্ন অধ্যাদেশ পরিবর্তন ও বাতিলের কাজ শুরু করে। এরই আওতায় ১৯৮৩ সালের গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ বতিল করে নতুন আইনের প্রস্তাব করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, দেশের মানুষ ্ঐক্যবদ্ধ ভাবে এলক্ষ্যে একযোগে এগিয়ে আসবেন।
ইউনূসের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে বিরোধী দল বিএনপিও গ্রামীণ ব্যাংক আইন সংশোধনের সমালোচনা করে আসছে।




